বিজ্ঞানীরা বলছেন, ২২ আগস্টে আর রাত নামবে না পৃথিবীতে !!

আকাশপ্রেমীরা এই আগস্ট মাসে বেশ ব্যস্ত। প্রথমে চন্দ্রগ্রহণ, এরপর আসছে সূর্যগ্রহণ। আর বাজারে নতুন খবর। ২২ই আগস্ট নাকি রাত নামবে না পৃথিবীতে। মানে গোটা ২৪ ঘণ্টা জুড়ে শুধুই নাকি দিনের আলো থাকবে। আর সেই গোটা দিনের সৌজন্যে থাকবে পার্সিড উল্কা।

ইন্টারনেটে এখন খবরের শিরোনামে এই পার্সিড উল্কা। একটি জাতীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী আপাতত ভাইরাল এই বিষয়। সমস্যা শুধু একটাই, ঘটনার থেকে রটনা বেশি হচ্ছে পার্সিড উল্কা নিয়ে। আর এই রটনাকেই অনেকে সত্যি বলে ধরে নিচ্ছেন।

পার্সিড উল্কা ঠিক কি? জানেন না অনেকেই।

ধূমকেতু সুইফ্ট টাটেলের গতিপথে ফেলে যাওয়া ধুলা ও ধ্বংসাবশেষের যে রেখা তৈরি হয়, সেখান থেকে প্রতিবছর আগস্ট মাসে পৃথিবীর আকাশে দেখা যায় পার্সিড উল্কাপাত। এই ধূমকেতুর অংশ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সংস্পর্শে এলে ঘটে আলোর বিচ্ছুরণ। ১৭ই জুলাই থেকে এই উল্কাপাত শুরু হলেও, তা নজরে আসেনি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ২২ই আগস্ট সবচেয়ে বেশি উল্কাপাত হবে। ফলে রাতের অন্ধকারকে ছাপিয়ে আলোর বৃষ্টিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠবে পৃথিবী।

তবে রাত হবে না পৃথিবীতে। এই তত্ত্বকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন নাসার মেটিওরয়েড এনভায়রনমেন্ট বিভাগের প্রধান বিল কুক। এটা মানবসভ্যতার উজ্জলতম উল্কাপাত নয় বলে তাঁর ব্লগে জানাচ্ছেন কুক। সাধারণত উল্কার গতি ঘন্টায় ৮০-১০০ কিলোমিটার হয়। তবে এবার সেই গতি বেড়ে দাঁড়াবে ১৫০। তাই মঙ্গলবার রাত নামবে না পৃথিবীতে, এই তত্ত্ব একেবারেই ভুল। সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

 

বিজ্ঞানীরা বলছেন আত্নার অস্তিত্ব এখন প্রমাণিত ।

দুজন পৃথিবী বিখ্যাত কোয়ান্টাম বিজ্ঞানী বলছেন যে, উনারা আত্নার অস্তিত্ব প্রমাণ করতে পারবেন ।

American Dr Stuart Hameroff and British physicist Sir Roger Penrose মানুষের সচেতনতার একটি কোয়ান্টাম থিউরী দাড় করিয়েছেন যার মধ্যে ধারণা করা হচ্ছে যে, আমাদের মস্তিস্কের কোষ সমূহের মধ্যে microtubules নামের যে কাঠামো আছে তার মধ্যে আত্না অবস্হান করে ।

মানুষের মস্তিস্ক মূলতঃ একটি জৈবিক কম্পিউটার যা ১০০ বিলিয়ন নিউরনের নেটওয়ার্ক দিয়ে গঠিত যার মধ্য দিয়ে তথ্য প্রবাহিত হয় ।

Dr Hameroff, Professor Emeritus at the Departments of Anesthesiology and Psychology and Director of the Centre of Consciousness Studies at the University of Arizona, and Sir Roger have been working on the theory since 1996.

তারা মতামত দেন যে, আমরা যে সচেতন থাকি তা মূলতঃ মস্তিস্কের microtubules মধ্যে কোয়ান্টাম মধ্যকর্ষণের ফল (result of quantum gravity effects inside these microtubules) ।

যে কারো মৃত্যু নিকটবর্তী অভিজ্ঞতায় মস্তিস্কে microtubules এ কোয়ান্টাম আকর্ষণ হারায় বা তথ্যের সাথে সম্পর্ক নষ্ট হয় কিন্তু তার মানে এই না যে তথ্য হারিয়ে যায় । খুব সাধারণভাবে বলতে গেলে বলা যায়, আত্নার মৃত্যু হয় না বরং তা মহাবিশ্বে ফিরে যায় ।

Dr Hameroff আমেরিকার সায়েন্স চ্যানেলের ডকুমেন্টারী Through the Wormhole এই থিউড়ির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন ।

The quantum soul theory is now trending worldwide.

“Let’s say the heart stops beating, the blood stops flowing, the microtubules lose their quantum state,” Dr Hameroff said.

Dr Hameroff বলেন, ধরা যাক হার্ট এর হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেল, রক্ত চলাচল থেমে গেল এবং microtubules তার কোয়ান্টাম অস্তিস্ত্ব হারাল ।

এখন microtubules যে তথ্য ছিলো তা হারিয়ে বা ধ্বংস হয়ে যায়নি, ধ্বংস হয়ে যেতে পারেনা বরং এটা এখান থেকে সরে যায় এবং মহাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক স্কেলে ।

যদি রোগীর অবস্হা পরিবর্তিত হয় , হার্ট আবার চলা শুরু করে তাহলে এই কোয়ান্টাম তথ্য যা সরে গিয়েছিলো তা আবার ফিরে আসে microtubules এ এবং রোগী জেগে ওঠে বলে যে, আমার মত্যুর নিকটবর্তী অভিজ্ঞতা (near death experience) হয়েছে । আর যদি রোগীর মৃত্যু হয় তাহলে এটা সম্ভব যে, আত্না হিসেবে – এই কোয়ান্টাম তথ্য শরীরের বাইরে অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত অবস্হান করতে পারে ।

এবার আসুন দেখি কুরআন কি বলেঃ

বিজ্ঞানীরা এখন হয়তো আত্না সম্মন্ধে আস্তে আস্তে জানতে পারছেন । আল-কুরআনে আল্লাহ পাক মানুষকে আগে থেকেই আত্নার কথা বলেছেন এবং মানুষের শেষ পরিণতি সম্পর্কে বারবার সতর্ক করে দিয়েছেন ।

‘সেদিন (বিচার দিবস) প্রত্যেক আত্নাই যা কিছু সে ভাল কাজ করেছে; চোখের সামনে দেখতে পাবে এবং যা কিছু মন্দ কাজ করেছে তাও, ওরা তখন কামনা করবে, যদি তার এবং এসব কর্মের মধ্যে ব্যবধান দুরের হতো! ‘- (৩/৩০)

‘যেদিন প্রত্যেক আত্নাই আত্ন-সমর্থনে সওয়াল জওয়াব করতে করতে আসবে এবং প্রত্যেক আত্নাই তাদের কৃতকর্মের পূর্ণ ফল পাবে এবং তাদের উপর জুলুম করা হবে না।'(১৬/১১১)

‘আল্লাহ মানুষের আত্না হরণ করেন তার মৃত্যুর সময়, আর যে মরে না, তার নিদ্রাকালে। অতঃপর যার মৃত্যু অবধারিত করেন, তার আত্না ছাড়েন না এবং অন্যান্যদের ছেড়ে দেন এক নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে’ । (৩৯/৪২)

এই আয়াতে আল্লাহ পরিস্কার ইঙ্গিত দিয়ে দিয়েছেন যে এখানে আল্লাহ এমন কিছু বলেছেন যা চিন্তাশীল তথা গবেষক লোকদের জন্য গবেষণা করার উপাদান দিয়েছেন । আল্লাহর এমন ইঙ্গিত কুরআনের অনেক স্হানেই রয়েছে ।

‘হে প্রশান্ত আত্না ! তুমি তোমার পালন কর্তার নিকট ফিরে আসো সন্তুষ্ট এবং সন্তোষভাজন হয়ে । অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তঃভূক্ত হয়ে যাও এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ কর ।'(৮৯/২৭-৩০)

‘তারা আপনাকে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দিনঃ রূহ আমার পালনকর্তার আদেশ ঘটিত। এ বিষয়ে তোমাদেরকে সামান্য জ্ঞানই দান করা হয়েছে।'(১৭/৮৫)

এই আয়াতে আল্লাহ বলে দিয়েছেন যে, রুহ বা আত্না আল্লাহর এক প্রকার আদেশ এবং মানুষকে এই বিষয়ে খুবই কম জ্ঞান দান করা হয়েছে । সুতরাং এটা ধারণা করা যেতে পারে যে, মানুষ এই আত্না সম্পর্কে বেশী কিছু জানেনা এবং জানতে পারবেনা । কারণ , স্রষ্টা মানুষকে এ সম্পর্কে বেশী কিছু জানার তৈাফিক বা ক্ষমতা দেন নি ।

‘তিনি যখন কোন কিছু করতে ইচ্ছা করেন, তখন কেবল বলে দেন, ‘হও’ তখনই তা হয়ে যায়।’ (সূরা ইয়াসিন/৮২)

সুতরাং আল্লাহ বা সৃষ্টিকর্তা হলেন সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী, সর্ব শক্তিমান এবং সর্ব জ্ঞানী । তিনি কোন কিছু করতে চাইলে শুধু হুকুম করেন যে হয়ে যাও, অমনি তা সৃষ্টি হয়ে যায় । সুতরাং সমস্ত সৃষ্টি প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর এক প্রকার হুকুম বা আদেশ । ইংরেজী বলা যায় Instructions. সৃষ্টির সব কিছুই বোধহয় আল্লাহর Instructions বা হুকুম । অনেকটা কম্পিউটারের সফটওয়্যারের কোডের মত । আল্লাহ ভালো জানেন ।

নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন