শয়তানের প্ররোচনা থেকে বাঁচার উপায় !!

শয়তান মানুষের আজন্ম শত্রু। এমন কোনো অপরাধ কর্মকাণ্ড নেই যা সে মানুষকে দিয়ে করাচ্ছে না। প্রতিনিয়ত শয়তানের ধোঁকায় পড়ে মানুষ নানানরকম অপরাধে লিপ্ত হয়।

পৃথিবীতে যাবতীয় পাপাচার, অন্যায়-অত্যাচার মানুষে মানুষে ঝগড়া, হানাহানি, বিদ্ধেষ, দ্বন্ধ-বিবাদ, মোদ্দা কথা সমস্ত অনাচারের মুল প্রেরণাদায়ক হলো শয়তান। এজন্য আল্লাহ পবিত্র কোরআনে কারীমে আল্লাহ তাআলা বলে দিয়েছেন, ‘নিশ্চয় শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু’। (সূরা বাকারাহ আয়াত-৩১৬)।

মহান আল্লাহ তাআলা মুুমিনদের শয়তানের প্ররোচনায় প্রলুব্ধ হতে নিষেধ করেছেন। পবিত্র কোরআনে তিনি ইরশাদ করেন ‘হে মুসলিমগণ! তোমরা পূর্ণরূপে ইসলামের মধ্যে প্রবিষ্ট হও এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না, নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু (সূরা বাকারাহ আয়াত-২০৮)

মহান রবের সতর্কতা ও নিষেধাজ্ঞার কথা জানা সত্তেও আমরা প্রতিনিয়ত শয়তানের ধোঁকায় পতিত হচ্ছি। শয়তানের প্ররোচনায় উদ্ভুদ্ধ হয়ে প্রত্যহ পাপাচারে লিপ্ত হচ্ছি। এর কারণ হলো শয়তান প্রতিটা মুহুর্তে মুহুর্তে মানুষকে তার ধোঁকার ফাঁদে ফেলতে পারে। এ শক্তি তাকে আল্লাহ তাআলাই দিয়েছেন। আবার আল্লাহ তাআলাই আমাদেরকে এর থেকে বাঁচার উপায় শিখিয়ে দিয়েছেন।পবিত্র কোরআনে সূরা হা-মীম সেজদার ৩৬নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,

‘যদি শয়তানের কুমন্ত্রণা তোমাকে প্ররোচিত করে তাহলে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা কর। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’

বিশ্বনবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ স. নিজেও আমাদেরকে শয়তানের প্ররোচনা থেকে বাঁচার উপায় শিখিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন নিম্নোক্ত দোয়াটি ১০০ বার পাঠ করবে সে শয়তানের প্ররোচনা থেকে রক্ষা পাবে

উচ্চারণ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু; লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আ’লা কুল্লি শাইয়্যিন ক্বাদির।’

অর্থ : আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; তিনি এক তার কোনো শরিক নেই। তারই জন্য রাজত্ব, তারই জন্য প্রশংসা। তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।’

এছাড়াও হাদিসে বলা হয়েছে , যে ব্যক্তি দৈনিক ১০০ বার এই ছোট্ট দোয়াটি পড়বে, সে দশ জন ক্রীতদাস মুক্ত করার ছাওয়াব পাবে। তার আমল নামায় ১০০ পূণ্য লেখা হবে। তার ১০০ গোনাহ মাফ করে দেয়া হবে।

রব্বে কারীম আমাদেরকে আমল করার তাওফিক দান করুক।আমিন।

নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন