এলার্ম ছাড়াই তাহাজ্জুদ বা ফজরে জেগে উঠার আমল !!

আমরা যারা নিয়মিত সলাত আদায় করার চেষ্টা করি, আমাদের সবগুলো সালাত ঠিক থাকলেও ‘ফজরের সলাত বা তাহাজ্জুদ’ নিয়ে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়। অনেকেই অনেক চেষ্টা করেও এলার্ম ছাড়া ফজরের সালাতে বা তাহাজ্জুদে নিয়মিত উঠতে পারি না।

কীভাবে করা যায় এ সমস্যার সমাধান? আসুন জেনে নেই নিয়মিত ফজরের সালাত ও তাহাজ্জুদের জন্য জেগে ওঠার কিছু কার্যকরী কৌশল।

আমরা যখন প্রতিদিন সূরা আল-ফাতিহা তিলাওয়াত করি, প্রতিদিনের নামাজে কমপক্ষে ১৭ বার, তখন আমরা এই আয়াতটিও তিলাওয়াত করি-

“আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারি সাহায্য প্রার্থনা করি।” [সূরা আল-ফাতিহাঃ ০৫]

আমরা কি সত্যিই আল্লাহর ইবাদত করতে চাই? “অবশ্যই!” তাহলে আল্লাহর সাহায্যও চাই? কিন্তু তারপরও আমরা সালাতের জন্য ঘুম থেকে জেগে উঠতে পারি না কেন? কারণ-

আপনার কি কখনও ঘুমাতে যাওয়ার মুহূর্তে এমন অনুভূতি হয়েছে যে, আপনি অবশ্যই ফজরের সালাতের জন্য উঠবেন !

নিচে আপনার পৃথক ২টি পরিস্থিতি উল্লেখ করছি।

পরিস্থিতিঃ ১

আপনার হৃদয় ঈমানে পরিপূর্ণ, আপনি বিতির পড়েছেন, কিছুটা কুর’আন তিলাওয়াতও করেছেন এবং আপনার হাতে ফজর পর্যন্ত ঘুমানোর জন্য মাত্র তিন’ ঘণ্টা সময় আছে, তারপরও জেগে উঠার ব্যাপারে আপনি নিশ্চিত।

কারণ, আপনি আপনার মন, হৃদয় ও দেহকে প্রস্তুত করে নিয়েছেন। এমনকি মাঝে মাঝে নামাযের ওয়াক্ত শেষ হয়ে গিয়েছে। তাই সালাত মিস করার ভয়ে মাঝ রাতেও ঘুম থেকে জেগে উঠেছেন। তাহলে তো ফজরে এলার্ম ছাড়া সহজেই নিয়মিত উঠতে পারেন।

পরিস্থিতিঃ ২

কিন্তু যদি আপনি উপরোক্ত আধ্যাত্মিক ঘটনার সম্মুখীন না হয়ে থাকেন, তবে এমন সময়ের কথা ভাবুন যেদিন আপনাকে খুব সকালে গাড়ি ধরতে হয়েছিল। ভাবুন তো, সেদিন গাড়ি ধরার জন্য কীভাবে আপনার মন, হৃদয় ও দেহ সজাগ ছিল।

হয়তো অনেক দেরিতে ঘুমিয়েও জেগে উঠেছিলেন বাস, ট্রেন বা নির্দিষ্ট পরিবহন ধরার জন্য। তাহলে কেন আপনি ফজরের সালাতের জন্য অস্থির হয়ে পড়ছেন না, সেটা আগে বের করুন। ঈমানি ও ইচ্ছাশক্তি বৃদ্ধি করুন। তাহলে সমাধান পেয়ে যাবেন।

এবার জেনে নেই, এলার্ম ছাড়া কিভাবে নিয়মিত ফজরের সালাতে বা তাহাজ্জুদে জেগে উঠতে পারব?

১। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠতে কুরআনের ২২ নং পারার ২ নং পৃষ্ঠার ৩৯ নং আয়াত থেকে ৪১ নং আয়াত পর্যন্ত তেলাওয়াত করে ঘুমাতে যান। নিয়মিত এ আমলটি করতে থাকুন। দেখবেন, আপনি ঠিকই ভোর রাতে ফজরের সালাত বা তাহাজ্জুদের জন্য জেগে উঠছেন।

ما كان محمد ابا احد من رجالكم ولكن رسول الله وخاتم النبين . وكان الله بكل شئ عليما ه يايهاالذين امنوا اذكروا الله ذكرا كثيرا ه

তাছাড়া রাসূলুল্লাহ সা. ঘুমাতে যাওয়ার আগে সূরা আল-সাজদাহ ও সূরা আল-মূলক (৩২ ও ৬৭ নম্বর সূরা) তিলাওয়াত করার পরামর্শ দিয়েছেন। সময় পেলে এ সূরা দুটিও পড়ে নিতে পারেন।

২। পানি বেশি করে পান করা: রাতে খাবার খাওয়ার পর ঘুমাতে যাওয়ার আগে পেট ভরে পানি পান করুন। এতে মাঝ রাত থেকে পেশাবের চাপ সৃষ্টি হতে থাকবে এবং শেষ রাতে পেসাবের বেগ তীব্র হলে প্রাকৃতিকভাবেই আপনি জেগে উঠবেন। এ কৌশলটি পরীক্ষিত।

৩. আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা: এটা ফজরের সালাতের জন্য জেগে উঠার চাবিকাঠি এবং এক নম্বর কৌশল। আপনি যদি জানেন আপনি কার ইবাদত করছেন, আর এ-ও জানেন যে, তিনি চান আপনি প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে তাঁর ইবাদত করুন, তাহলে আপনি জেগে উঠবেনই!

৪. আন্তরিকতা: ফজরের সালাতের জন্য জেগে উঠার ব্যাপারে আন্তরিক হোন। নিজেকে শুধু এটুকু বলবেন না যে, ‘যদি আমি ফজরের ওয়াক্তে উঠতে পারি তবে ভালো হবে’, বরং আন্তরিকতার সাথে বলুন, ‘আমি ফজরের ওয়াক্তে জেগে উঠবোই ইনশা আল্লাহ!’

৫. ঘুমাতে যাওয়ার আগে ওযু করা: প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার আগে অজু করে নিন। আপনার মন ও শরীর পবিত্র থাকবে। ফজরে উঠার জন্য সহযোগী হবে।

৬. ফজরের সলাত আদায় কারীদের জন্য ঘোষণাকৃত পুরস্কারগুলোর কথা স্মরণ করুন: মুনাফিকের হাত থেকে বেঁচে থাকা, শেষ বিচারের দিন আলোকিত হওয়া, সারাদিন আল্লাহর নিরাপত্তায় থাকা, জীবন থেকে অলসতা কেটে যাওয়া, কর্মঠ হওয়া- এই পুরস্কারগুলোর কথা স্মরণ করুন, ইনশা আল্লাহ আপনি জেগে উঠতে পারবেন।

নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন