দাঁতের যত্নে কোনটি উপকারী? ব্রাশ না মেসওয়াক ?

কথায় অাছে দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম বুঝো। কিন্তু ক’জনেই বা এর অর্থ বুঝেন? এমন অনেকেই আছেন যারা দাঁত না মেজেই পানাহার শুরু করেন। যদিও কথা ছিল দাঁত মাজার মধ্য দিয়ে সকাল শুরু হওয়ার।

ভেবে অবাক হই এই ভেবে, পুরো পৃথিবীতে যেখানে ৬০০ কোটি মানুষ, সেখানে দাঁত মাজেন মাত্র সাড়ে তিনশো কোটি মানুষ। অথচ সুস্থভাবে বাঁচতে হলে নিয়মিত দাঁত মাজা একটি অপরিহার্য বিষয়। কেন না, নিয়মিত দাঁত না মাজলে মুখের অভ্যন্তরে তৈরি হয় ব্যাকটেরিয়া। অার সেই ব্যাকটেরিয়া শরীরের টকাইন রক্তের মাধ্যমে করনারি ধমনীতে গিয়ে ব্লকেজ তৈরি করে। যা হার্ট অ্যাটাক হওয়ার অন্যতম কারণ।

তাই আসুন! সুস্থ সবল দাঁত এবং অন্যান্য রোগ থেকে বেঁচে থাকতে নিয়মিত দাঁত মাজি।

তবে কথা হচ্ছে, কী দিয়ে দাঁত মাজবেন? দাঁত মাজার জন্য বহুল প্রচলিত দু’টি মাধ্যম হলো ব্রাশ ও মেসওয়াক। তো অাপনি কোনটি ব্যবহার করবেন? ব্রাশ না মেসওয়াক? অাসুন জেনে নিই, দাঁতের যত্নে কোনটি বেশি উপকারী।

ডেন্টিসরা বলেন, ব্রাশের মাধ্যমে দাঁত মাজা যদিওবা আধুনিকতার অনুসরণ, তথাপি তা অনেক সময়ই ভুল ব্যবহারে ক্ষতির কারণ। এই যেমন- দীর্ঘদিন একই ব্রাশ ব্যবহার করলে ব্রাশে জমে থাকা ব্যাকটেরিয়া দাঁত ও মাঢ়িতে প্রদাহের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আবার কখনো কখনো জোরে চাপ পরার কাণে দাঁতের এনামেলের আস্তর ক্ষয় হয়ে দাঁতের গোড়ার সংবেদনশীলতা বাড়ায়।

অপরদিকে ঐতিহ্যের মহিমায় সমুন্নত সুন্নাত মেসওয়াকে রয়েছে অনন্য উপকারিতা। বিভিন্ন গাছের ডালে তৈরি এই মিসওয়াকে রয়েছে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান। এই যেমন- ট্রাইমিথাইল অ্যামিন, সালভাডোরাইন, অ্যালকালয়েড,ফ্লোরাইড, সিলিকা, সালফার, ভিটামিন সি, ফ্লেভোনয়েডস এবং স্টেরলস পদার্থ। তাছাড়া মেসওয়াকে আছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস। যা শরীরের জন্য অবশ্য প্রয়োজনীয়।

মেসওয়াকের আশগুলো খুব নরম এবং মসৃণ হওয়ায় দাঁতের জন্য তা বেশ অারামদায়কও। নিয়মিত মেসওয়াক করলে মুখের ভেতর সৃষ্ট হওয়া ক্ষত বা ঘা দূর দূর হয়। এর অারেকটি উপকার হলো মুখের দূর্গন্ধ দূর করা।

এতো গেলো বিজ্ঞানের থিওরি। এবার আসুন দেখি মেসওয়াকের গুরুত্বে ইসলাম কী বলে।

মেসওয়াক রাসূল সা. এর একটি অনন্য সুন্নাহ। রাসূল সা. আজীবন এটিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। এমনকি তিনি ইন্তেকালের পূর্বেও মেসওয়াক করেছিলেন।

ইসলামের দৃষ্টিতে মেসওয়াক যে কতোটা গুরুত্ববহ তা বুঝে আসে প্রত্যেকটি হাদিসের কিতাবে মেসওয়াক নামক স্বতন্ত্র অধ্যায় দেখেও। আর স্বয়ং রাসূল সা. তো বলেই গেছেন- ‘আমার উম্মাতের উপর যদি কষ্টকর মনে না করতাম, তাহলে তাদের প্রত্যেক সালাতের সময় মেসওয়াক করার নির্দেশ করতাম।’ (বুখারি : ৮৮৭, মুসলিম : ৫৮৯)

আল্লামা ইবনে হাজার রহ. মোনাব্বেহাত কিতাবে মেসওয়াকের বিশটি উপকারিতা উল্লেখ করেছেন। তার মধ্যে সর্ব নিম্ন উপাকারিতা হলো ময়লা দূর করা, অার সর্বোচ্চ উপকারিতা হলো মৃত্যুর সময় কালেমা স্মরণ হওয়া।

এজন্যই হযরত আবু দারদা রা. বলেন, তোমরা নিজেদের জন্যে মেসওয়াক করা অপরিহার্য করে নাও এবং এ ব্যাপারে উদাসীন হয়ো না। কেননা মিসওয়াকে রয়েছে চব্বিশটি উপকারিতা। অার সবচেয়ে বড় ১০ টি উপকার হল-

১. মেসওয়াক করলে আল্লাহ তা’আলা সন্তুষ্টি হন ২. নামাযের সওয়াব সাতাত্তর গুণ বৃদ্ধি পায়। ৩. স্বচ্ছলতা আসে। ৪. মুখ সুঘ্রাণ হয় ৫. দাঁতের মাড়ি শক্ত হয়। ৬. মাথা ব্যথা সেরে যায়। ৭. চোয়ালের ব্যথা দূর হয়। ৮. ফেরেশতাগণ মোসাফাহা করেন। ৯. চেহারা উজ্জ্বল হয়। ১০. দাঁত উজ্জ্বল হয়।

এছাড়াও মেসওয়াকে টুথপেস্টের প্রয়োজন হয় না এবং তা সহজেই সাথে রাখা যায়। ফলে যখনই কোনো খাবার গ্রহণ করা হয়, তখনই দাঁত পরিস্কারে এটি ব্যবহার করা যায়।

ব্রাশ করার মধ্যেও যে কোনো উপকার নেই, তা কিন্তু না। উপকার অবশ্যয়ই আছে। তবে মেসওয়াক অপেক্ষা কম। তাছাড়া ব্রাশের মাধ্যমে দাঁত পরিস্কারের সুন্নাতটুকু আদায় হলেও নবীজির সুন্নাহের অনুসরণ হয় না।

তারপরও যারা দাঁত মাজায় ব্রাশ ব্যবহারেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, তারা ব্রাশ ব্যবহার করুন, কোনো বাধা নেই। তবে ব্রাশ ব্যবহারে সঠিক নিয়মের প্রতি লক্ষ্য রাখুন।

আর হ্যাঁ, পাঁচওয়াক্তের নামাজের আগে অবশ্যই মেসওয়াক ব্যবাহারের চেষ্টা করুন। এতে দাঁতের যেমন যত্ন হবে, তেমনি পরকালের পূণ্যও হবে।

নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন