বিভিন্ন ধর্মে বিচার ব্যবস্থা জেনে নিন

আমরা যদি সময় নিয়ে চিন্তা করে দেখি, তাহলে দেখবো, ইসলাম যেই হিসেব এবং পুরস্কার-শাস্তির ব্যবস্থা দিয়েছে, তার থেকে ন্যায্য ব্যবস্থা আর কিছু হতে পারে না। সনাতন হিন্দু ধর্মে একজন অপরাধীর পুনর্জন্ম হয় অসুস্থ, বিকলাঙ্গ বা নিম্নতর  শ্রেণীর মানুষ বা কোনো নিম্নতর প্রাণী হিসেবে। একজন মানুষ বড় অপরাধ করে মারা গিয়ে, তারপর এভাবে পুনর্জন্ম নিলে কীভাবে সেটা ন্যায় বিচার হয়? শুধু তাই না, একই পাপ ব্রাহ্মণ শ্রেণীর কেউ করলে কম শাস্তি, কিন্তু শূদ্র শ্রেণীর কেউ করলে বেশি শাস্তি। এটা কীভাবে ন্যায়বিচার হলো?

খ্রিস্টান ধর্মে যিশু তার অনুসারীদের সব পাপ নিয়ে নেন। যিশুর কথামতো চললে আর কোনো চিন্তা করতে হবে না। মরলেই স্বর্গ। কীভাবে সেটা ন্যায় বিচার হতে পারে যে, একজন মানুষ যিশুর শিক্ষা মতো চলার চেষ্টা করলো, কিন্তু তারপরেও অনেক পাপ করলো, যেগুলোর জন্য তাকে কোনো জবাবই দিতে হবে না? যাদের উপর সে অন্যায় করলো, তারা ন্যায় বিচার পাবে কীভাবে?

ইহুদিরা মনে করে তারা হচ্ছে বিশেষ জাতি। শুধু তারাই স্বর্গে যাবে। কীভাবে একজন স্রস্টা ন্যায়পরায়ণ হতে পারেন, যদি তার মধ্যেই স্বজনপ্রীতি থাকে?

ইসলামে বিচারের ধারনা হচ্ছে: প্রতিটি মানুষকে তার সব ভালো-মন্দ কাজ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখানো হবে। কিছুই বাদ রাখা হবে না। তারপর সব ভালো-মন্দ কাজকে এক বিশেষ পাল্লায় ওজন করা হবে। মানুষ যদি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়ে, পাপের প্রায়শ্চিত্ত করে যেতে পারে, তাহলে সেই অন্যায়গুলো আল্লাহ تعالى ইচ্ছে করলে ক্ষমা করে দেবেন। তারপর যদি কারও ভালো কাজের পাল্লা খারাপ কাজের পাল্লা থেকে ভারি হয়, তাহলে সে স্বর্গে যাবে, নাহলে সে নরকে যাবে। কারও সাথে বিন্দুমাত্র অন্যায় করা হবে না। কেউ বলবে না যে, তার সাথে সঠিক বিচার হয়নি।

একজন মানুষ যতই উচ্চ বংশের হোক, যতই ক্ষমতাশালী হোক, যত বড়ই পির, দরবেশ, আওলিয়া হোক না কেন, কাউকে কোনো ধরণের খাতির করা হবে না। প্রতিটি মানুষকে একইভাবে বিচার করা হবে। প্রতিটি মানুষ একা আল্লাহর تعالى সামনে হাজির হবে। কেউ কারও জন্য এগিয়ে এসে সুপারিশ-আপিল করে আল্লাহর تعالى সিদ্ধান্তকে পরিবর্তন করতে পারবে না। কোনো ধরণের লেনদেন করতে পারবে না। আল্লাহর تعالى সিদ্ধান্তই শেষ সিদ্ধান্ত।

—এভাবে আমরা দেখতে পাই যে, ইসলামে বিচারের ব্যবস্থা হচ্ছে সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত। ইসলামে সৃষ্টিকর্তার ধারনা হচ্ছে সবচেয়ে ন্যায়পরায়ণ। আমরা মানুষ হয়েই অন্য মানুষের কাছে ন্যায়বিচার চাই। তাহলে আল্লাহ تعالى কি স্বাভাবিকভাবেই সব বিচারকের চেয়ে বড় বিচারক হবেন না?

নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন