বিজ্ঞান কি জিনের অস্তিত্ব স্বীকার করে ?

সাধারণত বিজ্ঞান যুক্তিতে বিশ্বাসী। অদৃশ্য কিছুর ধারণাকে বিজ্ঞান সাপোর্ট করে না। এ কারণে জিন ভূতের কথা এলে বিজ্ঞানমনস্করা হেয়ালি করে থাকেন। তাচ্ছিল্য করতেও কম যান না। কিন্তু বাস্তবেই কি বিষয়টি এমন। বিজ্ঞান কি আসলেই অদৃশ্য কিছুকে স্বীকার করে না? প্রকৃতপক্ষে তাদের এ ধারণা ভ্রান্ত। প্রথমত কুরআন স্পষ্ট ঘোষণা করেছে জিনের অস্তিত্ব। এ ব্যাপারে আয়াত নাজিল হয়েছে। হাদিসেও বহু ঘটনা এসেছে জিনকেন্দ্রিক। উন্নত গবেষণা হলে জিনের অস্তিত্বও খুঁজে পাওয়া সম্ভব। উদাহরণ হিসেবে ধরতে পারি সাম্প্রতিক সময়ের একটি ঘোষণা। কুরআনে বর্ণিত জাহান্নামের মতো বস্তুর সন্ধান পাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে নাসা। খবরে বলা হয়েছে, ৫৫ ক্যাঙক্রি-ই নামের একটি অদ্ভুত গ্রহের বেশকিছু অংশ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করার পর বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন পবিত্র গ্রন্থগুলোতে বর্ণনাকৃত দুজখের সন্ধান হয়তো তারা পেয়েছেন। ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজের নেতৃত্বে একদল জ্যোর্তিবিজ্ঞানী নাসার স্পিটজার মহাকাশ টেলিস্কোপে ধারণকৃত ৪০ আলোকবর্ষ দূরের এই ‘সুপার-গ্রহের’ চিত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বেশকিছু আশ্চর্যজনক তথ্য পেয়েছেন। যা কুরআনে বর্ণিত জাহান্নামের সঙ্গে মিলে যায়। মহান আল্লাহ জিন সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে বলেছেন, বলুন, আমার প্রতি ওহি নাজিল করা হয়েছে যে, জিনদের একটি দল কুরআন শ্রবণ করেছে, অতঃপর তারা বলেছে, আমরা বিস্ময়কর কুরআন শ্রবণ করেছি। [সুরা জিন : ০১] অন্য আয়াতে মানুষকে ইঙ্গিত করার পাশাপাশি আল্লাহ একই সঙ্গে জিনকেউ ইঙ্গিত করেছেন। বলেছেন, অথচ আমরা মনে করতাম মানুষ ও জিন কখনও আল্লাহ তা’আলা সম্পর্কে মিথ্যা বলতে পারে না। [সুরা জিন : ০৫] আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞান জিন জাতির অস্তিত্ব অস্বিকার করে না। অস্বিকার করার মত কোনো যুক্তিও আজ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বরং এ্যন্টি ম্যাটার সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান যত বৃদ্ধি পাচ্ছে জিনের অস্তিত্বের পক্ষে যুক্তি ততই প্রগাড় হচ্ছে। পদার্থ বিজ্ঞানের ধারণা পৃথিবীতে যেমন বস্তু রয়েছে, তেমনি অবস্তুও থাকতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে যেভাবে কণা দ্বারা পদার্থ গঠিত হয় ঠিক তেমনিভাবে প্রতিকণা দ্বারা প্রতিপদার্থ গঠিত হয়। উদাহরণস্বরুপ, একটি প্রতিইলেকট্রন (পজিট্রন) এবং একটি প্রতিপ্রোটন মিলিত হয়ে গঠন করে একটি প্রতিহাইড্রোজেন পরমাণু, যেমন করে একটি ইলকট্রন ও প্রোটন মিলে তৈরি করে একটি হাইড্রোজেন পরমাণু। উপরন্তু কণা এবং প্রতিকণা মিলিত হলে যেভাবে পূর্ণবিলয়ের মাধ্যমে সকল শক্তি বিমুক্ত হয়, তেমনি পদার্থ এবং প্রতিপদার্থের মিলনে পূর্ণবিলয়ের সৃষ্টি হয় বলে ধারণা করা হয়েছে। এ ধরনের পূর্ণবিলয়ের ফলে প্রকৃতপক্ষে উচ্চ শক্তির ফোটন (গামা রশ্মি) এবং বহু কণা-প্রতিকণা জোড়ার সৃষ্টি হয়। এই পূর্ণবিলয়ে বিমুক্ত কণাগুলোর মধ্যে বিপুল পরিমাণ শক্তি থাকে। এই শক্তির মান পূর্ণবিলয়ের ফলে সৃষ্ট বস্তুসমূহের নিশ্চল ভর এবং মূল পদার্থ-প্রতিপদার্থ জোড়ার অন্তর্ভুক্ত বস্তুসমূহের নিশ্চল ভরের পার্থক্যের সমান। অর্থাৎ আমাদের মহাবিশ্বে যত পার্টিক্যাল আছে ঠিক তত পরিমাণ এ্যন্টি পার্টিক্যাল আছে। শক্তির নিত্যতা সূত্রানুযায়ী। এ্যান্টিপার্টিকেল অদৃশ্য। এগুলোর মুভমেন্ট কোনো যন্ত্র দ্বারা পর্যবেক্ষন করা যায় না। কিন্তু বিজ্ঞান এগুলোর অস্তিত্বকে অস্বিকার করতে পারছে না। (উইকিপিডিয়া) পদার্থ বিজ্ঞানের এ সূত্র অনুযায়ী পৃথিবীতে মানুষের মতোই জিন জাতির অস্তিত্ব রয়েছে বলে স্বীকার করতে হয়। সুতরাং বিজ্ঞান জিনকে অস্বীকার করে বা এমন অদৃশ্য কিছু থাকতে পারে না পৃথিবীতে এমনটা বলা বোকামি। মাওলানা রোকন রাইয়ান সহ-সম্পাদক, ইসলামি চিন্তার কাগজ

নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন