পিঁপড়ার কথাও বুঝতেন হজরত সুলাইমান (আ.) !!

হজরত সুলাইমান (আ.) হজরত দাউদের (আ.) পুত্র। এই ধারাবাহিকতায় তার বংশ হজরত ইয়াকুব (আ.) পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছেছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহপাক বলেছেন, তারপর আমি ইবরাহীমকে ইসহাক ও ইয়াকূবের মতো সন্তান দিয়েছি এবং সবাইকে সত্য পথ দেখিয়েছি, (সে সত্য পথ যা) ইতোপূর্বে নূহকে দেখিয়েছিলাম। আর তারই বংশধরদের থেকে দাউদ, সুলাইমান, আইউব, ইউসুফ, মূসা ও হারুণকে (হেদায়াত দান করেছি)। এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদেরকে তাদের সৎকাজের বদলা দিয়ে থাকি। (সূরা-আন আম, আয়াত-৮৪)
পবিত্র কুরআনের মোট ষোল স্থানে হজরত সুলাইমানের (আ.) কথা বর্ণিত হয়েছে। সুরা বাকারার ১ নং আয়াতে। সূলা নামলের ৭ নং আয়াতে। সূরা নিসার ১ নং আয়াতে। সূরা সাবার ১ নং আয়াতে। সূরা আনআমের ১ নং আয়াতে। সূরা সোয়াদের ২ নং আয়াতে এবং সূরা আম্বিয়ার ৩ নং আয়াতে হজরত সুলাইমানের (আ.) বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন আলোচনা স্থান লাভ করেছে।

হজরত সুলাইমান (আ.) সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে যে সব আলোচনা বর্ণিত হয়েছে তন্মধ্যে অন্যতম হলো তিনি জিনদের কথা বুঝতেন। এ ছাড়া আরও অনেক প্রাণির কথা বুঝতেন তিনি। এমনকি তিনি পিঁপড়ার কথাও বুঝতেন। এ ব্যাপারে পবিত্র কুরআনে আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, (একবার সে তাদের সাথে চলছিল) এমন কি যখন তারা সবাই পিঁপড়ার উপত্যকায় পৌঁছাল তখন একটি পিঁপড়া বলল, হে পিঁপেড়েরা! তোমাদের গর্তে ঢুকে পড়ো। যেন এমন না হয় যে, সুলাইমান ও তার সৈন্যরা তোমাদের পিষে ফেলবে এবং তারা টেরও পাবে না। (সূরা-আনআম, আয়াত-১৮)

এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন তাফসীরে এসেছে, হজরত সুলাইমান (আ.) যখন এমন একটি উপত্যকা অতিক্রম করছিলেন যেখানে খুব বেশি পিঁপড়া ছিল তখন তিনি শুনলেন একটি পিঁপড়া চিৎকার করে অন্য পিঁপড়াদেরকে বলছে, নিজেদের ঘরে ঢুকে পড়, নয়তো সুলাইমানের (আ.) সৈন্যরা তোমাদের পিষে ফেলবে। একথা শুনে হজরত সুলাইমান (আ.) সেই পিঁপড়ার সামনে বড়ই আত্মম্ভরিতা প্রকাশ করলেন। এর জবাবে পিঁপড়াটি তাকে বলল, তুমি কোথাকার কে? তুমি তো নগণ্য একটি ফোঁটা থেকে তৈরি হয়েছো। একথা শুনে হজরত সুলাইমান (আ.) লজ্জিত হলেন।

অনেকেই এই ঘটনাকে বিশ্বাস করেন না। একটি পিঁপড়ার পক্ষে নিজের তাদের সদস্যদেরকে কোনো একটি আসন্ন বিপদ থেকে সতর্ক করে দেওয়া এবং এ জন্য তাদের নিজেদের গর্তে ঢুকে যেতে বলা বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে মোটেই অস্বাভাবিক ব্যাপার নয়। অনেকের প্রশ্ন হলো- হজরত সুলাইমান একথাটি কেমন করে শুনতে পেলেন? হজরত সুলাইমানের (আ.) এটাই ছিলে নবুয়তি মোজেঝা। আল্লাহ মহান প্রত্যেক নবী-রাসূলকে কোনো না কোনো অলৌকিক ক্ষমতা দিয়েছেন। নবী হজরত সুলায়ইমানকে যে সব মোজেঝা বা অলৌকিক ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছিল তন্মধ্যে অন্যতম ছিল প্রাণির কথা বোঝা। সুতরাং পবিত্র কুরআনের যেহেতু এই আলোচনা বর্ণিত হয়েছে, একজন মুমিন মুসলিম বান্দা হিসেবে এটাকে অবিশ্বাস করার বা সন্দেহ করার কোনো অবকাশ নেই।

নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন