৩ ‘তালাক’ উচ্চারণ করলেই কি তালাক হয়,জানুন ইসলামে কি বলে !!

ইসলামি আইনে তালাক ও বিয়েকে সমান গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বিয়ে একটি পারিবারিক বন্ধন। দুইজন নারী ও পুরুষের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক এবং প্রণয়ের বৈধ আইনি চুক্তি ও তার স্বীকারোক্তি। এই বন্ধনের মাধ্যমে দুই হাত এক করে নেয়া হয় সারা জীবন একসঙ্গে চলার পণ। কিন্তু সব সময় এই পথচলা মসৃণ হয় না। অনেক ক্ষেত্রেই দুজনের সম্পর্ক এমন এক অবস্থায় এসে দাঁড়ায় যাতে বিচ্ছেদই হয়ে ওঠে একমাত্র সমাধান। প্রত্যেক নারী ও পুরুষের বিয়ে করার যেমন অধিকার রয়েছে, তেমনি তালাক দেয়ারও অধিকার রয়েছে।

আমাদের সমাজে তালাক নিয়ে অনেক কুপ্রথা রয়েছে। অনেকের ধারণা, ৩ ‘তালাক’ উচ্চারণ করলেই তালাক হয়ে যায়। কিন্তু এ ধারণা মোটেই সঠিক নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত না লিখিতভাবে তালাক দেয়া হয় ততক্ষণ পর্যন্ত তালাক কার্যকর হয় না।

তালাকের বিষয়ে সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় আলাপ করেছেন জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বিপ্লব হাসান পলাশ।

তিনি বলেন, তালাক নিয়ে আমাদের সমাজে বিভিন্ন ভুল ধারণা রয়েছে। অনেকে মনে করেন, মুখে তিনবার তালাক উচ্চারণ করলেই স্ত্রীর তালাক কার্যকর হয়ে যায়। কিন্তু এ ধারণা সঠিক নয়। কেউ যদি তার স্ত্রীকে তালাক দিতে চায় তবে মুখে ‘তালাক’ বলার পর এই সংক্রান্ত লিখিত নোটিশও দিতে হবে। লিখিতভাবে তালাক দেয়া হলেই তা কেবল তালাক হিসেবে কার্যকর হবে।

আসুন জেনে নেই কীভাবে বুঝবেন তালাক কার্যকর হয়েছে।

১. স্ত্রীকে লিখিত নোটিশ :
মুখে তিন তালাক উচ্চারণ করলেই তা তালাক হিসেবে গণ্য হবে না। তালাক দিতে হলে স্ত্রীকে অবশ্যই লিখিত নোটিশ দিতে হবে।

২. তালাক কার্যকর :
স্ত্রীকে তালাকের লিখিত নোটিশ চেয়ারম্যান বরাবর দেয়ার পরে তা আপনার স্ত্রীর হাতে পৌঁছাবে। যদি দুই পক্ষের মধ্যে কোনোভাবেই বনিবনা না হয় তালাক নোটিশ দেয়ার ৯০ দিনের মধ্যে তালাক কার্যকর হয়ে যাবে।

৩. অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী :
তালাক দেয়ার সময় একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে- তা হলো স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা কিনা। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় কখনও তালাক কার্যকর হবে না। গর্ভাবস্থার পরিসমাপ্তি না হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ সন্তান ভূমিষ্ঠ না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হবে না।

৪. ভরণপোষণ :
ইসলামি আইনে তালাক কার্যকরে যে ৯০ দিন সময় হাতে থাকে ওই ৯০ দিনে স্ত্রী’র ভরণপোষণের দায়িত্ব স্বামীর ওপর অর্পিত থাকে। অর্থাৎ ৯০ দিন পর্যন্ত স্ত্রীর ভরণপোষণ ও অন্যান্য খরচাপাতি বহন করবেন স্বামী।

৫. স্ত্রীর তালাক দেয়ার ক্ষমতা :
যদি কাবিননামার ১৮তম কলামে স্ত্রীর তালাক দেয়ার ক্ষমতা না থাকে, তবে স্ত্রী কোনোভাবেই স্বামীকে ত্যাগ করতে পারবেন না। তাই কাবিননামায় স্বাক্ষরের আগে নরনারীদের এই বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে।

নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন