ক্বিরাআতের জবাব প্রদানে ত্রুটি ও যে যে সূরা ও আয়াতের জবাব দিতে হবে

(ক) সূরা ত্বীনের শেষে ‘বালা ওয়া আনা ‘আলা যা-লিকা মিনাশ শা-হেদীন’ বলা

(খ) সূরা মুরস্বলাত-এর শেষে ‘আ-মান্না বিল্লাহ’ বলা

(গ) ক্বিয়ামাহ শেষে ‘বালা’ বলার হাদীছ যঈফ। এর সনদে একজন রাবী আছে, যার কোন পরিচয় পাওয়া যায়নি। শুধু তার পরিচয় বলা হয়েছে ‘আরাবী’। [1]

(ঘ) বাক্বারাহ শেষে ‘আমীন’ বলা যঈফ।[2]

(ঙ) সূরা যোহা থেকে সূরা নাস পর্যন্ত সকল সূরা শেষে ‘আল্লাহু আকবার’ বলার যে বর্ণনা এসেছে তা মুনকার বা অগ্রহণযোগ্য।[3]

(চ) সূরা জুম‘আ শেষে ‘আল্ল-হুম্মারযুক্বনা রিযক্বান হাসানাহ’ বলার কোন ভিত্তি নেই। (ছ) সূরা বাণী ইসরাঈল শেষ করে ‘আল্লাহু আকবার কাবীরা’ বলা (জ) সূরা ওয়াক্বিয়াহ ও হাক্কাহ শেষে ‘সুবহা-না রবিবয়াল আযীম’ বলা (ঝ) মুলক শেষে ‘আল্লাহু ই’য়াতীনা ওয়া হুয়া রাববুল আলামীন’ বলার যে প্রথা চালু আছে, তার কোন সহিহ ভিত্তি নেই।

উল্লেখ্য যে, এছাড়া বিভিন্ন প্রেস থেকে প্রকাশিত কুরআনের শেষে কুরআন তেলাওয়াত শেষ করার দু‘আ হিসাবে ‘ছাদাক্বাল্লাহুল আযীম’ বলে যে দু‘আ যোগ করা হয়েছে, তার কোন ভিত্তি নেই। এই দু‘আ অবশ্যই পরিত্যাজ্য।[4] রাসূল (ﷺ) মজলিস শেষে এবং কুরআন তেলাওয়াত শেষে নিম্নোক্ত দু‘আটি পড়তেন।[5] سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوْبُ إِلَيْكَ উক্ত দু‘আ বৈঠক শেষের দু‘আর ন্যায়।[6] তবে বায়হাক্বী ‘শু‘আবুল ঈমানের’ মধ্যে কুরআন খতমের যে লম্বা দু‘আ বর্ণিত হয়েছে, সেই হাদীছের সনদ জাল।[7]

[1]. আবুদাঊদ হা/৮৮৭, ১/১২৯ পৃঃ; মিশকাত হা/৮৬০; যঈফ আবুদাঊদ হা/১৫৬; সিলসিলা যঈফাহ হা/৪২৪৫।
[2]. মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ হা/৮০৬২; তাহক্বীক্ব তাফসীরে ইবনে কাছীর ২/৩৭৪।
[3]. হাকেম হা/৫৩২৫; সিলসিলা যঈফাহ হা/৬১৩৩।
[4]. ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ফৎওয়া নং ৩৩০৩।
[5]. তিরমিযী হা/৩৪৩৩, নাসাঈ কুবরা হা/১০১৪০; সিলসিলা সহিহাহ হা/৩১৬৪।
[6]. নাসাঈ হা/১৩৪৪।
[7]. সিলসিলা যঈফাহ হা/৬১৩৫ ও ৬৩২২।

✔ যে যে সূরা ও আয়াতের জবাব দিতে হবে :

✔ (ক) সূরা আ‘লার প্রথম আয়াত পাঠ করলে বলবে سُبْحَانَ رَبِّىَ الأَعْلَى (সুবহা-না রবিবয়াল আ‘লা)।[1]

✔ (খ) সূরা ক্বিয়ামাহ-এর শেষে বলবে سُبْحَانَكَ فَبَلَى (সুবহা-নাকা ফা বালা)।[2]

✔ (গ) সূরা রহমানের আয়াত ‘ফাবি আইয়ে আ-লা-ই রাবিবকুমা তুকায্যিবা-ন’ -এর জবাবে বলবে لاَ بِشَىْءٍ مِنْ نِعَمِكَ رَبَّنَا نُكَذِّبُ فَلَكَ الْحَمْدُ (লা বিশায়ইম মিন নি‘আমিকা রববানা নুকায্যিবু ফালাকাল হাম্দ)।[3]

✔ (ঘ) সূরায়ে গাশিয়া-র শেষে اللهُمَّ حَاسِبْنِىْ حِسَابًا يَسِيْرًا (আল্লা-হুম্মা হা-সিবনী হিসা-বাঁই ইয়াসীরা) বলা যায়।[4] উল্লেখ্য, হাদীছে সূরা গাশিয়া উল্লেখ নেই। রাসূল (ﷺ) কোন স্বলাতে এভাবে বলতেন। স্বলাতের মধ্যে কুরআন তেলাওয়াতের সময় হিসাব নেয়ার কথা আসলে এটা বলা যাবে। উত্তম হল নফল স্বলাতে বলা।[5] তবে যেকোন স্বলাতে শেষ তাশাহহুদে বসে দরূদের পর পড়া যাবে।[6]

[1]. আবুদাঊদ হা/৮৮৩, ১/১২৮ পৃঃ, সনদ সহিহ; মিশকাত হা/৮৫৯, ‘স্বলাতে ক্বিরাআত’ অনুচ্ছেদ।
[2]. আবুদাঊদ হা/৮৮৪, ১/১২৮ পৃঃ, সনদ সহিহ।
[3]. তিরমিযী হা/৩২৯১, ২/১৬৪ পৃঃ, ‘সূরা রহমানের তাফসীর’ অনুচ্ছেদ, সনদ হাসান; মিশকাত হা/৮৬১; সহিহাহ হা/২১৫০।
[4]. আহমাদ হা/২৪২৬১; সহিহ ইবনে হিববান হা/৭৩২৮, সনদ সহিহ; মিশকাত হা/৫৫৬২, ‘ক্বিয়ামতের অবস্থা’ অধ্যায়, ‘হিসাব ও মীযান’ অনুচ্ছেদ।
[5]. আলবানী, তামামুল মিন্নাহ, পৃঃ ১৮৫।
[6]. আহমাদ হা/২৪২৬১; সহিহ ইবনে হিববান হা/৭৩২৮, সনদ সহিহ; মিশকাত হা/৫৫৬২; ছিফাতু স্বলাতিন নবী, পৃঃ ১৮৪।

নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন