নামাজে আজেবাজে চিন্তা থেকে মুক্তির উপায়

আমরা যখন নামাজে দাঁড়াই তখন দুনিয়ার সব ভাবনা এসে মাথায় ভর করে। নামাজে দাঁড়িয়ে আমরা নানা বিষয় নিয়ে চিন্তা করি। মনের অজান্তেই আমরা চলে যাই দুনিয়ার নানা অলিতে-গলিতে। অনেক চেষ্টা করেও মনকে ধরে রাখা যায় না। এটা নামাজের একাগ্রতাকে নষ্ট করে। যে নামাজ মুমিনের গুণ সেই নামাজ হলো ‘খুশুখুজু’ বা একাগ্রচিত্তের নামাজ।

তবে নামাজে নানা আজেবাজে চিন্তা চলে এলেও ঘাবড়ানোর কিছু নেই। ইচ্ছা করে এক মুহূর্তের জন্যও নামাজে দাঁড়িয়ে কোনো কিছু ভাবা যাবে না। তবে অনিচ্ছাকৃত হলে সেটা আল্লাহ ক্ষমা করবেন। চেষ্টা থাকতে হবে কোনো ক্রমেই মনের ধ্যান-খেয়াল অন্যদিকে চলে না যায়।

নামাজে আজেবাজে চিন্তা থেকে বেঁচে থাকার জন্য প্রথমেই প্রয়োজন যথাযথভাবে পবিত্রতা অর্জন। নামাজের শুদ্ধতার প্রধান শর্ত হলো পবিত্রতা। যত ভালোভাবে পবিত্রতা অর্জন করবে নামাজে তত একাগ্রতা জন্মাবে। হাদিসে স্পষ্ট করে বলে দেয়া হয়েছে, ‘কোনো নামাজই পবিত্রতা ছাড়া আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না।’ নামাজের জন্য পবিত্রতা লাভের প্রথম ধাপ হলো অজু। হাদিসে আছে, অজুর দ্বারা মানুষের ছোট ছোট গুনাহ ঝরে পড়ে। অজু করতে হবে সুন্নাত তরিকায়, যেভাবে অজু করতে বলেছেন রাসুল (সা.)। অজুর সময় প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ যথাযথভাবে ধুইতে হবে। প্রতিটি অঙ্গ ধোয়ার সময় মনে করতে হবে, এর মাধ্যমে আমার গুনাহগুলো ঝরে পড়ছে। অজুর মধ্যবর্তী দোয়াগুলো পাঠ করবে। অজুর পবিত্রতা পুরোপুরি লাভের জন্য পরে দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল অজু নামাজ পড়ে নেবে।

নামাজে দাঁড়ানোর পর নিজেকে আল্লাহর সামনে দাঁড়ানো অবস্থায় মনে করতে হবে। দুনিয়ার কোনো শাসক বা বিচারকের সামনে দাঁড়ালে মানুষ যেমন ভিন্ন কোনো ভাবনা মাথায় আনতে পারে না তেমনি আহকামুল হাকিমীনের দরবারে দাঁড়ানো অবস্থায়ও তা আনা যাবে না। ভাবতে হবে আমার ডানে জান্নাত, বামে দোজখ। একটু নড়াচড়া করলেই দোজখে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। আল্লাহকে হাজির নাজির জেনে প্রকৃত অর্থে নামাজে দাঁড়ালে কারো মাথায় ভিন্ন কোনো ভাবনা আসতে পারবে না। মানুষ যখন নামাজের প্রতি উদাসীন হয়ে যায় তখনই নামাজে দাঁড়িয়েও দুনিয়ার ভাবনা মাথায় এসে ভর করে। হঠাৎ ভিন্ন ভাবনা চলে এলেও তাৎক্ষণিকভাবে তা থেকে ফিরে আসতে হবে। খুশুখুজু অর্জনের এই চেষ্টাও সওয়াবের মধ্যে গণ্য হবে

নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন