আল্লাহর কাছে বাদশাহ তালুতের সাহায্য প্রার্থনা !!

হজরত শিমবিল কর্তৃক নির্বাচিত বাদশাহ তালুত যখন বনি ইসরাইলের বাদশাহ হিসেবে নিযুক্ত হয়। তখন বাদশাহীর প্রমাণ পেশ করার পর বনি ইসরাইল তাকে বাদশাহ হিসেবে মেনে নেয়।

অতপর বাদশাহ তালুত বনি ইসরাইলিদেরকে অত্যাচারী ও অবিশ্বাসী শাসক জালুতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করে।

বনি ইসরাইলের লোকদেরকে পরীক্ষার জন্য বিধান জারি করেন। তৎকালীন সময়ে বনি ইসরাইলের ৮০ হাজার অনুসারী যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করলেও পরীক্ষায় ৭৬ হাজার বনি ইসরাইল অনুসারী যুদ্ধ থেকে ত্যাগ করে।

পরবর্তী বাদশাহ তালুত এ অল্প সংখ্য সৈন্যবাহিনী নিয়ে জালুতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। যুদ্ধের সময় তারা আল্লাহর কাছে পূর্বের মতো ধৈর্য এবং সুদৃঢ় থাকার সাহায্য কামনা করেন। তাদের সে প্রার্থনা আল্লাহ তাআলা কুরআনে এভাবে উল্লেখ করে বলেন-

আয়াতের অনুবাদ

আয়াত পরিচিতি ও নাজিলের কারণ
সুরা বাকারার ২৫০নং আয়াতে অত্যাচারী শাসক জালুতের সঙ্গে যুদ্ধের সময় বাদশাহ তালুত ও তার অনুসারীরা আল্লাহ তাআলার কাছে আনুগত্য ও ধৈর্যের কথা উল্লেখ করে সমূহ সব বিপদে তাঁর সাহায্য কামনা করেন।
উল্লেখিত আয়াতে পূর্ববর্তী আয়াতের ঘটনার অবশিষ্টাংশ স্থান পেয়েছে। তালুতের সঙ্গে যারা যুদ্ধের উদ্দেশ্যে ঘর ছাড়ে; তাদের উদ্দেশ্যে তালুত ঘোষণা করেছিল যে, আল্লাহ তাআলা নদীর মাধ্যমে তাদেরকে পরীক্ষা করবেন।

৮০ হাজার সৈন্যবাহিনীর মধ্যে ৭৬ হাজারই আল্লাহর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। বাকি অল্পসংখ্যক যে সৈন্যবাহিনী আল্লাহর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল; সে ক্ষুদ্র দলটিই অত্যাচারী শাসক জালুতের মোকাবেলায় যুদ্ধে রওয়ানা হয়।

তালুত ও তার ক্ষুদ্র দলটি যখন জালুতের মোকাবেলায় উপস্থিত হয়। তখন তারা উল্লেখিত আয়াতের মাধ্যমে সাহায্য লাভের প্রার্থনা করে। তাদের এ প্রার্থনা আল্লাহর কাছে এতই প্রিয় ও গ্রহণযোগ্য হয় যে, আল্লাহ তাআলা এ কথাগুলোও উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য কুরআনের আয়াত করে নাজিল করেন।

তালুত ও তার দল আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন-

উচ্চারণ : রাব্বানা আফরিগ আলাইনা সাবরাও ওয়া ছাব্বিত আক্বদামানা ওয়াংচুরনা আলাল ক্বাউমিল কাফিরিন।’
অর্থ : হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে সবর (ধৈর্য) অবলম্বনের শক্তি দান করুন। আমাদেরকে (যুদ্ধক্ষেত্রে) সুদৃঢ় রাখুন আর আমাদেরকে এই কাফের সম্প্রদায়ের ওপর বিজয় দান করুন।’

আল্লাহ তাআলা তালুত ও তাঁর দলের এ দোয়া কবুল করেন। ফলে তারা আল্লাহ তাআলার সাহায্য লাভে ধন্য হয়। আল্লাহ তাআলার হুকুমে তারা জালুত বাহিনীকে পরাজিত করে।

পরিশেষে…
উল্লেখিত আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, যারা বাদশাহ তালুতের নির্দেশনা মোতাবেক আল্লাহর বিধান পালন করেছে এবং ধৈর্য ধারণ করেছে; তাদেরকে আল্লাহ তাআলা সাহায্য ও বিজয় দান করেছেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ধৈর্য ধারণ করার এবং দ্বীনের প্রতি সুদৃঢ়ভাবে অবস্থান করার তাওফিক দান করুন। দুনিয়া ও পরকালের যাবতীয় বিপদ ও মুসিবতে এ আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য লাভের তাওফিক দান করুন। কুরআনের বিধান বাস্তবায়নের তাওফিক দান করুন। আমিন।

নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন