রোগ ও দারিদ্রতা থেকে মুক্তি পাওয়ার পরীক্ষিত দোআ-আমল

হজরত আবু হুরাইরা [রা.] বলেন: একদিন আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে বের হলাম, আমার হাত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাত মুবারক দিয়ে ধরা ছিল। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীর্ণশীর্ণ আকৃতির একজন লোকের কাছে আসলেন এবং তাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে অমুক! তোমার এ অবস্থা কেন? লোকটি বললো, অসুখ-বিসুখ ও দরিদ্রতার কারণে আমার এ দশা।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি কি তোমাকে এমন কিছু কালিমা শিখিয়ে দেব, যেগুলো পড়লে তোমার অসুখ বিসুখ ও দরিদ্রতা দূর হয়ে যাবে? লোকটি বললো: আপনার সঙ্গে বদর ও ওহুদ যুদ্ধে অংশীদার থাকা অপেক্ষা এসব কোনো কিছুই আমার জন্য তেমন আনন্দদায়ক নয়।

একথা শুনে রাসুল সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিয়ে বললেন, আরে একজন অল্পেতুষ্ট দরিদ্র ব্যক্তি যা পাবে বদর ও ওহুদের অংশীদাররা কি সেথায় পৌঁছতে পারবে? হজরত আবু হুরাইরা [রা.] বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! তাহলে আমাকেই তা শিখিয়ে দিন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন উপরোক্ত দোয়াটি শিখিয়ে দিলেন। হজরত আবু হুরাইরা [রা.] বলেন: কিছুদিন পর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে আসলেন, তখন আমার অবস্থা ভাল হয়ে গিয়েছিল।

রাসুল আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, কি ব্যাপার! আমি বললাম, আপনি যে কালিমাসমূহ আমাকে শিখিয়ে দিয়েছিলেন আমি সেগুলো নিয়মিত পড়ছি [ফলে আল্লাহ তায়ালা আমার অবস্থার পরিবর্তন করে দিয়েছেন]। [মুসনাদে আবু ইয়ালা-৬৬৭১, ইবনুস সুন্নি-৫৫১, ইবনে কাসির-৫/১৩৭, রূহুল মাআনি-৮/২৬৬]

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখনই কোনো বিষয়ে আমি চিন্তিত হয়েছি বা বিপদে পড়েছি তখনই হজরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম কোনো মানুষের আকৃতিতে এসে আমাকে বলতেন: হে মুহাম্মদ! আপনি বলুন… [এই দোয়াটি পড়তে বলতেন] [মুসতাদরাকে হাকেম-১৮৮৬, তারগিবুত তারহিব-২৮১৫ এর বরাতে-রূহুল মাআ’নী-৮/২৬৬]

আরবি দোআ : একবার

لَمْ يَتَّخِذْ وَلَدًا وَلَمْ يَكُنْ لَهُ شَرِيكٌ فِي الْمُلْكِ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ وَلِيٌّ مِنَ الذُّلِّ وَكَبِّرْهُ تَكْبِيرًا.

تَوَكَّلْتُ عَلَى الْحَيِّ الَّذِي لاَ يَمُوتُ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي

বাংলা উচ্চারণ : তাওয়াক্কালতু আলাল হাইইল্লাজি লা ইয়ামুতু। আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি লাম ইয়াত্তাখিজ ওয়াদান ওয়া লাম ইয়াকুন লাহু শারিকান ফিল মুলকি। ওয়া লাম ইয়াকুন লাহু ওয়ালিয়ূন মিনাজ জুললি। ওয়া কাববিরহু তাকবিরা।

অর্থ : আমি ভরসা করলাম ওই চিরঞ্জীব সত্তার উপর যিনি কখনো মৃত্যু বরণ করবেন না। সমস্ত প্রশংসা ওই আল্লাহর জন্য যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি। তার রাজত্বের মাঝে কোনো অংশীদার নেই এবং তাকে লাঞ্চনা থেকে বাঁচানোর জন্য কোনো সহযোগীর প্রয়োজন নেই। অতএব তুমি উত্তমরূপে তাঁরই বড়ত্ব ও মহিমা বর্ণনা কর।

দরিদ্রতা থেকে মুক্তি লাভের পরীক্ষিত আমল

ফজিলত : ইমাম মালেক রহ. হজরত ইবনে উমর [রা.] থেকে বর্ণনা করেন যে, একবার এক ব্যক্তি হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললো: ইয়া রাসুলাল্লাহ! দুনিয়া আমার থেকে বিমুখ হয়েছে এবং পৃষ্ঠ প্রদর্শণ করেছে। রাসুল বললেন, তুমি কি ফেরেশতাদের দোয়া ও আল্লাহর সব সৃষ্টিজীবের তাসবীহ পড় না? যে তাসবীহের কারণে তাদেরকে রিজিক দেয়া হয়? সুবহে সাদেকের সময় তুমি সে তাসবীহ একশবার করে পড়বে, তাহলে দেখবে দুনিয়া তোমার কাছে তুচ্ছ হয়ে আসবে। লোকটি চলে গেল। এবং এ দোয়াটি পড়তে লাগল। কিছুদিন পরে আবার সে ফিরে এসে বললো ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার কাছে এত অধিক সম্পদ জমা হয়েছে যেগুলো হেফাজত করার মত কোনো জায়গা আমার কাছে নেই। [জিয়াউন্নবী-৫/৯০২]

আরবি দোআ

سبحان الله وبحمده سبحان الله العظيم أستغفر الله

বাংলা উচ্চারণ : সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আজিম। আসতাগফিরুল্লাহ।

অর্থ : আল্লাহ তায়ালা সব অসম্পূর্ণতা থেকে পবিত্র এবং সমস্ত প্রশংসা তাঁরই। মহান আল্লাহ পবিত্র। আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থণা করছি।

নোট : হজরতজি ইলিয়াস রহ. তাঁর সাথীদেরকে ফজরের সুন্নত ও ফরজের মধ্যবর্তি সময়ে এ দোয়াটি পড়ার প্রতি উৎসাহিত করতেন। এটি একটি পরীক্ষিত আমল।

নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন