যে দোষমুক্ত হওয়া ভালো স্বামী-স্ত্রী নির্বাচনে জরুরি

পুরুষের জন্য স্ত্রী নির্বাচন অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ। একজন স্ত্রীর ওপর নির্ভর করে ব্যক্তি পরিবার সমাজ রাষ্ট্রীয় ও পরকালীন জীবনে কল্যাণ ও সফলতা। আবার একজন নারীর জন্য স্বামী নির্বাচনও অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

সংসার সমাজ রাষ্ট্র ও পরকালের কল্যাণে গুণবতী নারীর গুরুত্ব যত বেশি, পরুষের জন্য ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। কেননা একজন নারীর মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করে উন্নত নৈতিক গুণাবলী সম্পন্ন জাতি।

মনে রাখতে হবে পৃথিবীতে মানুষের সেরা সম্পদ নেককার স্ত্রী। আবার স্ত্রীর জন্য সেরা সম্পদ আদর্শ স্বামী। তাই স্বামী-স্ত্রী হিসেবে যে সব গুণ সম্পন্ন নারী ও পুরুষকে বিয়ে করলে ব্যক্তি পরিবার সমাজের জন্য ফেতনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তার কিছু তুলে ধরা হলো-

১. পর্দাহীন নারী-পুরুষ; যে নারী ও পুরুষ (মাহরাম বা গায়রে মাহরাম) কার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করা যাবে আর কার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করা যাবে না’-এ সম্পর্কে কোনো ধরণাই রাখে না।

২. ঝগড়াটে নারী-পুরুষ। যারা সমাজে বিবাদ সৃষ্টি করে বেড়ায়।

৩. গিবতে জড়িত নারী-পুরুষ। যারা অন্যের অগোচরে তার সমালোচনা করে বেড়ায়।

৪. চোগলখোর নারী-পুরুষ। যারা এক জনের কথা অন্য জনের কাছে দ্বন্দ্ব সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বলে বেড়ায়।

৫. বিনা প্রয়োজনে ছবি, সেলফি তোলে নারী-পুরুষ।

৬. সংস্কৃতি, শিল্প ও সৌন্দর্যের নামে মূর্তি ও ভাষ্কর্যের প্রতি আকৃষ্ট থাকে যারা।

৭. যে নারী-পুরুষ অন্যের ভালো দেখলে হিংসা করে।

৮. কারণে-অকারণে যে নারী-পুরুষ অন্যকে অভিশাপ দেয়।

৯. অবৈধ উপায়ে যে নারী-পুরুষ প্রেম, অবাধ চলাফেরা ও ব্যভিচারের মতো জঘন্য কাজে নিয়োজিত থাকে।

১০. নারী-পুরুষের মধ্যে যারা পোশাক পরিচ্ছেদে নগ্ন- অর্ধনগ্ন অবস্থায় বাইরে চলাফেরা করে। নিজের দেহ ও সৌন্দর্য অন্যকে দেখাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

১১. যে নারী-পুরুশ ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ পরিত্যাগ করে।

১২. চরম বিলাসিতায় মগ্ন নারী-পুরুষ।

১৩. গান বা বাদ্যযন্ত্রের প্রতি আগ্রহী নারী ও পুরুষ।

১৪. এমন আরাম প্রিয় ও ঘুমকাতর নারী-পুরুষ; যারা তাদের স্বাভাবিক জীবনে চলাফেরায় প্রতিটি ক্ষেত্রে চরম অহংকারী হয়ে ওঠে।

তবে উল্লেখিত ফেতনাগুলোর সঙ্গে পুরুষের চেয়ে নারীরাই বেশি জড়িত। তাই নারীদের মধ্য থেকে স্ত্রী নির্বাচনে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। এ সব কারণেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারীদের ব্যাপারে অনেক সতর্কবার্তা প্রদান করেছেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ৪টি বস্তু শুভ লক্ষণ বহন করে

– নেককার নারী;

– প্রশস্ত ঘর;

– সৎ প্রতিবেশী;

– সহজ প্রকৃতির আনুগত্যশীল-পোষ্য বাহন।

পক্ষান্তরে ৪টি বস্তু মানুষের জন্য কুলক্ষণ হিসেবে দেখা দেয়। তার মধ্যে অন্যতম হলো একজন বদকার নারী। (মুসতাদরেকে হাকেম, সহিহ জামে)

তাইতো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্ত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ৪টি গুণের অধিকারী নারীকে প্রাধান্য দেয়া কথা ঘোষণা করেছেন-

হজরত আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহ আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ৪টি গুণ দেখে নারীদের বিবাহ করা-

– সম্পদ;

– বংশ মর্যাদা;

– সৌন্দর্য এবং

– দীনদারি।

তবে ধার্মিকতার দিক প্রাধান্য দিয়েই তুমি কামিয়াব হও নয়তো তোমার হাত ধুলি ধুসরিত হবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

পুরুষদের এ কথা মনে রাখতে হবে

স্ত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভালো নারী তালাশ করলেই চলবে না পুরুষরাও নিজেদের উত্তম স্বামীর মর্যাদায় উন্নীত করতে হবে। উল্লেখিত গুণগুলো পুরুষরাও পরিহার করে চলবে। তবেই দাম্পত্য জীবনে আসবে সুখ ও শান্তি। আর দুনিয়া ও পরকালের জীবন হবে সুন্দর ও স্বার্থক।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব নারী-পুরুষকে ফেতনামুক্ত জীবন-যাপন করার তাওফিক দান করুন। দুনিয়া ও পরকালের সফলতায় নারী-পুরুষ উভয়কে আল্লাহর ভয় অর্জন ও চরিত্রবান হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন