হজ থেকে প্রতি বছর কত টাকা আয় করে থাকে সৌদি আরব?

হজ থেকে প্রতি বছর- ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভ কালিমা ,নামাজ , রোজা , হজ,যাকাত। এই পাঁচটি স্তম্ভ মুসলমানদের বাধ্যতামূলক পালন করতে হবেই। আর হজ ধনীদের উপর ফরজ করা হয়েছে । তাই প্রত্যেক বছর হজ পালন করতে পবিত্র মক্কায় যেতে হয় লক্ষ্য লক্ষ্য মুসলমানদের।

সৌদি আরব মুসলমানদের জন্য তীর্থস্থান। এখানেই হজের জন্য উপস্থিত হন লাখো মুসল্লি। প্রশ্ন আসতেই পারে হজের মৌসুমে সৌদি আরব কত টাকা উপার্জন করে।বিবিসির ফার্সি বিভাগের আলী কাদিমি বিশেষ প্রতিবেদন তৈরি করেছেন।

তিনি দেখিয়েছেন, তেল বিক্রি করে সৌদি আরবের যা রোজগার হয়, সৌদি আরব তার থেকেও বেশি আয় করে হজ থেকে। তবে, তারা চেষ্টা করছে তেল বিক্রি করে তাদের আয় আরও বাড়াতে।

বছরে একটা নির্দিষ্ট সময়েই হজ করা যায়। আর দ্বিতীয়ত, প্রতিটি দেশ থেকে কত মানুষ হজে আসবেন, তার একটা কোটা নির্ধারণ করে দেয় সৌদি আরব।তবে এটাও মাথায় রাখতে হবে যে, সৌদি আরবের বাসিন্দাদের একটা বড় অংশও কিন্তু হজে যান। যদিও তাঁরা বিভিন্ন দেশের নাগরিক হতেই পারেন।

গত বছর সৌদি আরবের যত বাসিন্দা হজে গিয়েছিলেন, সেই সংখ্যাটা অন্যান্য দেশ থেকে আসা মুসলমানদের সংখ্যার প্রায় অর্ধেক। কিন্তু গত দশ বছর ধরেই মোটামুটিভাবে হাজিদের এক তৃতীয়াংশই সৌদি আরবের বাসিন্দা। এর একটা কারণ মক্কা খুব কাছে। তাই ধর্মীয় কর্তব্য মনে করে বেশ সস্তায় হজ সেরে নেন অনেকে।

তবে সৌদির পর বিভিন্ন দেশের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার কোটাই সবচেয়ে বেশি। সেখান থেকে দুই লাখ বিশ হাজার মানুষ প্রতি বছর হজে যান। এটা মোট হজযাত্রী সংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশ।

এরপরেই রয়েছে পাকিস্তান (১১%), ভারত (১১%) আর বাংলাদেশ (৮%)। নাইজেরিয়া, ইরান, তুর্কি, মিশর -এই দেশগুলোরও কোটা মোটামুটি একই রকম।হজে একটা নির্দিষ্ট সময়ে যাওয়া গেলেও সারা বছর ধরে উমরাহ করতে যাওয়া যায়।

গত বছরই প্রায় ৬০ লাখ মানুষ উমরাহ করতে গিয়েছিলেন। নানা দেশ থেকে যাঁরা সৌদি আরবে গেছেন, তাঁদের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষই উমরাহ করতে গেছেন। সাত বছর আগে উমরাহ করতে যাওয়া মানুষের সংখ্যা ছিল ৪০ লাখের কাছাকাছি।

গত বছর হজ থেকে সৌদি আরবের সরাসরি রোজগার হয়েছিল প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার। সৌদি আরবে যাওয়া তীর্থযাত্রীরা মোট ২৩ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছিলেন ওখানে গিয়ে।

এই অর্থের একটা বড় অংশ কিন্তু সৌদি অর্থনীতিতেই যোগ হচ্ছে। মক্কার চেম্বার অব কমার্সের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাইরের দেশ থেকে আসা মুসলমানরা মাথাপিছু ব্যয় করেন ৪৬০০ ডলার, আর স্থানীয়রা মাথাপিছু প্রায় ১৫০০ ডলার ব্যয় করেন।

তবে একেক দেশ থেকে আসা হজযাত্রীদের জন্য আবার একেক রকম খরচ। যেমন ইরান থেকে আসা মানুষদের মাথাপিছু ৩০০০ ডলার খরচ লাগে।

এর মধ্যে যাত্রা, খাওয়া, কেনাকাটা সব খরচই ধরা হয়। পাকিস্তান, বাংলাদেশের যাত্রীদেরও মোটামুটি একইরকম খরচ হয়।ইরান থেকে আসা এক হজযাত্রী নাম উল্লেখ না করার শর্তে বিবিসির ফার্সি বিভাগকে জানিয়েছেন, এ বছর তাঁর হজের বাজেট প্রায় আট হাজার ডলার। এর মধ্যে নিশ্চয়ই তাঁর ব্যক্তিগত খরচও ধরা আছে। তবে কোনো না কোনোভাবে অর্থটা সৌদি অর্থনীতিতেই ঢুকছে।

সৌদি আরব সবচেয়ে বেশি আয় করতেছে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা হজ পালন করতে মুসলমানদের কাছ থেকে। প্রত্যেক বছর তারা তৈল বিক্রি করে যত না আয় করে থাকে তার চেয়ে বেশি আয় করে থাকে হজপালনকারী প্রযটকদের থেকে।

নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন