যে কারণে ঈমান গ্রহণেই রয়েছে মুক্তি ও কল্যাণ

আল্লাহর কাছে সবচেয়ে দামি জিনিস হলো ‘ঈমান’। আল্লাহ তাআলা মানুষকে তার ইবাদত-বন্দেগি করার জন্য সৃষ্টি করেছেন। ইবাদত-বন্দেগি করার পূর্বশর্ত হলো- আল্লাহ, তার রাসুল ও দ্বীন হিসেবে ইসলামকে মেনে নেয়া। আর এ সবের প্রতি ‘ঈমান’-ই হলো সব ইবাদত ও আনুগত্যের মূল কথা।

আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন ও তার আনুগত্যের মধ্যেই রয়েছে ধনী-গরিব, উঁচু-নীচু সব শ্রেণির মানুষের দুনিয়া ও পরকালীন জীবনে কল্যাণ ও শান্তি।

আবার যারা দুনিয়ার সম্পদ ভোগ-দখল করতে নিজেরদ ইচ্ছানুযায়ী জীবন পরিচালনা করে; আল্লাহ আনুগত্য করে না তাদের জন্য ক্ষতি ও ধ্বংস।

কেননা দুনিয়ার সম্পদ ভোগ দখল করে বেড়াবে ও নিজেদের চাহিদা মতো বিভিন্ন ধরনের জিনিসের বৃদ্ধি ও নিজেদের কামনা-বাসনা চরিতার্থ করবে এ জন্য মানুষকে সৃষ্টি করা হয়নি।

যখনই মানুষ এ সব জিনিস বৃদ্ধি ও কামনা-বাসনা চরিতার্থ করার প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়ে বা ব্যস্ত হয়ে যায়; তখন আল্লাহ তাআলা তাদেরকে তাদের চাহিদা মোতাবেক জিনিস দেবেন ঠিকই দুনিয়া ও পরকালে তাদের জন্য অশান্তি, ক্ষতি এবং ধ্বংসকেও অবধারিত করে দেবেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘সুতরাং তাদের ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি যেন আপনাকে বিস্মিত না করে। আল্লাহর ইচ্ছা হলো এগুলো দ্বারা দুনিয়ার জীবনে তাদের আজাবে নিপতিত রাখা এবং তাদের মৃত্যু হবে কুফরি অবস্থায়।’ (সুরা তাওবা : আয়াত ৫৫)

ঈমান গ্রহণে রয়েছে মুক্তি ও কল্যাণ

যে মানুষ আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাত মোতাবেক আল্লাহর নির্দেশাবলী পালন করবে তাকে আল্লাহ তাআলা তাঁর ভাণ্ডার থেকে দান করবেন। চাই সে ব্যক্তি ধনী হোক কিংবা গরিব হোক।

আল্লাহ তাআলা তাকে সাহায্য সহযোগিতা করবেন। তাকে হেফাজত করবেন। ঈমান দ্বারা তাকে সম্মানিত করবেন। চাই সে হজরত আবু বকর, ওমর, ওসমান ও আলি রাদিয়াল্লাহু আনহুম এর মতো মর্যাদাবান হোক কিংবা হজরত বেলাল হাবশি, আম্মার ইবনে ইয়াসার ও সালমান ফারসি রাদিয়াল্লাহু আনহুমের মতো হোক।

সুতরাং ঈমান হলো আল্লাহ তাআলার দয়া, অনুকম্পা, সাহায্য-সহযোগিতা ও অনিষ্ট থেকে হেফাজত থাকার একমাত্র মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘আর যারা আল্লাহ ও তার রাসুলের আনুগত্য করবে এবং আল্লাহকে ভয় করার মাধ্যমে তার শাস্তি থেকে বেঁচে থাকে তারাই সফলকাম।’ (সুরা নুর : আয়াত ৫২)

অশান্তি ও ধ্বংস রয়েছে যেখানে

আর যে মানুষ আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে না আল্লাহ তাআলা তাকে অপদস্থ করবেন এবং লাঞ্ছিত করবেন। চাই সে ফেরাউন নমরূদ হামান কারুনের মতো বাদশাহ হোক। তাদের বাদশাহী, মর্যাদা ও ক্ষমতা তাদেরকে আল্লাহর অপদস্থ ও লাঞ্ছনা থেকে রক্ষা করতে পারবে না।

আবার ঈমান বর্জনকারী ব্যক্তি যদি ক্ষমতাহীন সাধারণ মানুষ হয় তথাপিও তাকে আল্লাহ তাআলা লাঞ্ছিত করবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘আমি প্রত্যেককেই তার অপরাধের কারণে পাকড়াও করেছি। তাদের কারো প্রতি প্রেরণ করেছি প্রস্তরসহ (শিলা) প্রচণ্ড বাতাস; কাউকে পেয়েছে বজ্রপাত; কাউকে আমি বিলীন করেছি ভূগর্ভে এবং কাউকে করেছি (ধ্বংসে) নিমজ্জিত। আল্লাহ তাদের প্রতি জুলুম করার ছিলেন না; কিন্তু তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম করেছে।’ (সুরা আনকাবুত : ৪০)

পরিশেষে…
আল্লাহ তাআলা মানুষকে ঈমান আনা এবং সৎ কাজ করার জন্য সৃষ্টি করেছেন। তারা ঈমান গ্রহণের মাধ্যমে শিরক থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহ তাআলা ইবাদত-আনুগত্য করবে। লাভ করবে অফুরন্ত কল্যাণ ও রহমত।

পাশাপাশি আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে ফিরে থাকবে। কারণ তার অবাধ্যতায় দুনিয়া ও পরকালে রয়েছে সুনিশ্চিত অশান্তি শাস্তি ও ধ্বংস। তাই আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে ফিরে থাকাই সবচেয়ে বেশি জরুরি।

সুতরাং মানুষের উচিত বিনা শর্তে মহান আল্লাহ তাআলাকে প্রভু বলে স্বীকার করা। হজরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে শেষ নবি ও রাসুল হিসেবে স্বীকার করা। ইসলামকে দ্বীন তথা জীবন ব্যবস্থা হিসেবে মেনে নেয়া। আর এ মেনে নেয়ার মাঝেই রয়েছে দুনিয়ার চিরন্তন শান্তি ও পরকালীন জীবনের চিরস্থায়ী মুক্তি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে আল্লাহ, তার রাসুল ও ইসলামের প্রতি পরিপূর্ণ বিশ্বাস স্থাপনের মাধ্যমে তার ঘোষিত নেয়ামত দুনিয়া ও পরকালের কলাণ লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন