জেনে নিন, কেন ৯ বছর বয়সী আয়শা(রাঃ)কে মুহাম্মদ(সাঃ) বিয়ে করেন?

৯ বছর বয়সী আয়শা(রাঃ)- আমি এই বিষয়টা দুই ভাবে ব্যাখ্যা করব একটা তাত্ত্বিক ভাবে আরেকটি তৎকালীন প্রাসঙ্গিকক্রমে।

১ম:তাত্ত্বিক ভাবে

অনেক মানুষই রাসূল(সাঃ) ও আয়েশা(রাঃ)র বিয়ের ব্যাপারে বিভিন্ন নেতিবাচক মন্তব্য করে থাকেন কারণ তারা ইতিহাস ভালোভাবে জানেন না। আল্লাহু আকবার এটা এক অদ্বিতীয় সম্পর্ক রাসূল(সাঃ) ও আয়েশা(রাঃ)র মধ্যে।

কিন্তু এখানে সেক্সের কোনো প্রাধান্যই নেই। সারাধারণভাবে মানুষ এই সম্পর্কের কথা বললেই বলে সেক্সের কথা। যে কিভাবে একজন মানুষ এটা করতে পারে তিনি তো মেয়েটির বাবার মত? কিভাবে তিনি মেয়েটিকে বিয়ে করতে পারেন?

​আসলেই রাসূল(সাঃ) ও আয়েশা(রাঃ)র বিয়েটা অনেক অনেক অনন্য একটা ব্যাপার। কিন্তু এখানে বিয়ের প্রথম দিকে কোনো সেক্সের ইস্যুই ছিলো না।

আচ্ছা একটা পর্যালোচনায় আসা যাক আমাদের মধ্যে কয় জনের অসন্তোষ আছে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে তাদের স্বামীর উপর? হ্যাঁ,আপনারা আমার কাছে সৎ হোন এবং সত্যিভাবে বলুন আপনার স্বামীর উপর আপনার কোনো অসন্তোষ বা অভিযোগ আছে কিনা? আমাদের মধ্যে যারা স্বামী-স্ত্রী আছেন তাদের সকলেরই সামান্য হলেও কিছু অভিযোগ বা অভিমান থাকে পরষ্পরের বিরুদ্ধে।আপনারা মুখে প্রকাশ করুন বা অন্তরে লুকায়িত রাখুন।এসব আপনারা হয়ত তাকে সরাসরি বলে ফেলেন নয়ত আপনাদের পরিবারকে জানান বা ভালো বন্ধুকে জানান।

যখন আপনি দেখেন আপনার স্বামী কোথাও অসময়ে যাচ্ছে তখন আপনি তা খোজাঁর চেষ্টা করেন।এটা ভাবার কারণ নেই যে এটা শুধু আপনাদের ক্ষেত্রেই হয় এটা সকল স্বামী এবং স্ত্রীদের ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে।

কিন্তু আপনি কখনই আয়েশা(রাঃ)র ইতিহাসে খুজেঁ পাবেন না যে,তিনি মাত্র একটা অভিযোগ বা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাসূল এর ব্যাবহারে বা অন্যকোনো কারণে।এটা কখনই খুজেঁ পাবেন না।এটা একটা বিশল আশ্চর্য কিন্তু মানুষ এটা বুঝে না,তারা শুধু ফিতনা সৃষ্টি করে বিভ্রান্ত করতে চায়।কারণ তারা হিংসায় জ্বলে মুহাম্মদ(সাঃ)র এর সুখময় জীবনের উপর।

যদিও তিনি বৃদ্ধ মানুষ হয়ে তরূণী মেয়েকে বিয়ে করেছেন কারণ বেশিরভাগ স্ত্রীই মুহাম্মদ(সাঃ)এর ছিলো বিধবা যেই বিধবাদের অন্যান্য ধর্মে দ্বিতীয়বার বিয়ের সুযোগই নেই। শুধু আয়েশা(রাঃ)ই ছিলো নবীন এবং নবী(সাঃ) জীবিত থাকা অবস্থায় এবং তার ওফাতের পরবর্তী সময়ের কখনই তিনি নবী(সাঃ)র সম্পর্কে কোনো অভিযোগই প্রকাশ করেন নি।

তিনি সব সময় বলেছেন সবকিছুই ভালো চলছে।তিনি এটা বুঝিয়েছেন যে কোনো কিছুই তার অস্বাভাবিক হয় নি। তিনি নবী(সাঃ)কে স্বামী হিসেব গ্রহণ করেছেন যখন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন কিন্তু বিবাহের পর শুরুর দিকে তিনি বাবা আবুবকরের বাসায় মায়ের আদরে ছিলেন এবং খেলাধুলাও করতেন বটে তার বন্ধুদের সাথে।

তিনি দেখাতে চেয়েছেন নবী(সাঃ) এমন কিছুই করেন নি যা সঠিক কাজ না একজন পুরুষের জন্য যতক্ষণ না আয়েশা(রাঃ) প্রস্তুত হয়েছেন শারীরিক সম্পর্কের জন্য। সত্যই এই বিবাহ বন্ধনের ব্যাপারটা ছিলো একটি অনন্য ঘটনা। শুধুমাত্র আল্লাহ এবং বিশ্বাসীরাই এই বিষয়টা বুঝতে পারবে আর যারা বুঝতে পারছে না তারাই সমাজে ফিতনা সৃষ্টি করবে রাসূল(সাঃ) এর উপর।

আল্লাহ আমাদের রহম করুক এবং সেই অবিশ্বাসীদের রহম করুক যারা সততার সাথে ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করে এবং সত্য ইতিহাস নির্ভীকভাবে বীরপুরুষের মত মেনে নেয়।

ইসলামের শিক্ষা কখনই উম্মতের কাছে ন্যায়বিরূদ্ধ হতে পারে না ইসলাম সকলের প্রতি আপোষহীন।

২য়:তৎকালীন প্রাসঙ্গিকক্রমে

এটা আসলে কেউই জানে না যে কেন মুহাম্মদ(সাঃ) ৯ বছর বয়সী আয়শা(রাঃ)কে বিয়ে করেন আল্লাহ ছাড়া কারণ নবী(সাঃ) কাউকেই বিয়ে করেন নি যতক্ষণ না তার কাছে বিয়ে করার জন্য আল্লাহর ওহী/সংবাদ আসে। মুহাম্মদ(সাঃ) কখনই রোডে বা কোনো অন্তরমহলে হাজার হাজার সুন্দরী নারী দার করিয়ে বলেন নি যে একে বিয়ে করব,ওকে করব না,তাকে বিয়ে করব যদিও তিনি তা পারতেন।

কারণ আল্লাহ কুরআনে বলেন মুহাম্মদ(সাঃ) কোনো কিছুই নিজের থেকে বলেন না কিন্তু তাকে যা ওহী করা হয় তাই তিনি মুখ দিয়ে বলেন। আমরা জানি,তিনি আমাদের মতই মানুষ ছিলেন কিন্তু তার আত্মা ছিলো পরিশুদ্ধ কারণ তার শিক্ষক ছিলেন জীব্রাইল(আ) এবং তিনি যা আল্লাহর মাধ্যমে ওহী করতেন সেভাবেই নবী(সাঃ) চলতেন।

তাই আমরা এর সঠিক কারণ বলতে পারব না যে কেন মুহাম্মদ(সাঃ) ৯ বছর বয়সী আয়শা(রাঃ)কে বিয়ে করেন কারণ তা আল্লাহরই ইচ্ছা।

তাই যারা কাফের যারা অমুসলিম তারা এই ওহীর বিষয়টি না বুঝেই আকাশে উড়তে শুরু করেছে পাখনাবিহীন। কারণ তারা ওহী কি এটা বুঝে না দৈববাণী কি এটা বুঝে না আবার বোঝার চেষ্টাও করে না তাই তারা না বুঝেই মন্তব্য করে।

কিন্তু যারা দৈববাণী কি এটা বুঝে তারা এটাও বুঝে যেটা আমাদের চিন্তার বাইরে ওটা হচ্ছে মুজেজা যা আল্লাহর তরফ থেকে হয়ে থাকে।

অর্থ্যাৎ আল্লাহ আয়শা(রাঃ) কে নবী(সাঃ) এর জন্য নির্বাচিত করেছেন এটাই হচ্ছে প্রথম কথা।

যখন নবী(সাঃ) স্বপ্নের মাধ্যমে বুঝতে পারলেন আবু বকর(রাঃ)এর মেয়ে আয়শা(রাঃ)কে তার জন্য আল্লাহ মনোনীত করেছেন তখন তিনি আবু বকর(রাঃ) কে বললেন, হে আবু বকর তুমি আমাকে ভালোবাস? তিনি বললেন, আপনার উপর আমার বাবা,মা কুরবান হোক। অবশ্যই আপনাকে ভালোবাসি।

তারপর নবী(সাঃ) বললেন, আমি তোমার মেয়েকে বিবাহের জন্য চাচ্ছি?

এটা তখন সাধারণ ব্যাপার ছিলো আরবদের কাছে।এটা ভাবার সুযোগ নেই যে,এটা হতেই পারে না বা ইউরোপের কালচারের ব্যাপারে বা চায়নার কালচারের ব্যাপারে। আপনাকে ভাবতে হবে তৎকালীন আরব কালচারের ব্যাপারে কারণ ঘটনাটি আরবেই ঘটেছে।

এটা আরবদের জন্য সাধারণ ব্যাপার ছিল যে, কারও মেয়েকে সরাসরি বিয়ে করতে চাওয়া যখন মেয়ের বয়স হয় ৯ কিংবা ১০। আর তারা মেয়েকে বিছানায় শোয়ানোর জন্য নিয়ে আসতো না বরং তারা মেয়ের পরিবারের লোকদেরও নিয়ে আসতো যাতে তারা মেয়েকে পরিচর্যা করতে পারে।

আর তারা যেন একজন অপরজনকে দেখে ভালোবাসার জন্ম দিতে পারে। যতদিনে মেয়েটি শারীরিক সম্পর্কের জন্য এবং সন্তান জন্ম দেয়ার জন্য প্রস্তুত হয় ততদিনে তাদের স্বামী-স্ত্রীর বন্ধনটা একটা পোক্ততা লাভ করে। এটা তখনকার একটা সচরাচর নিয়ম ছিলো।

নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন