নাইট ক্রিম মাখলে কি হয়?

এই ধরনের ক্রিম ব্যবহারে হয়তো আপনার ত্বক ফর্সা হবে, তবে এই ধরণের ক্রিম গুলো স্কিনের ক্ষতি করে, তাই এসব ব্যবহার না করাই উত্তম। এগুলো স্কিনের মেলানিনের ক্ষতি করে, আপনি একজন স্কিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন। বেশি পরিমানে ব্যবহারে স্কিন ইনফেকশন হতে পারে।

খুব সহজ, ক্লিজিং ও টোনিং এর পর্বটা প্রথমেই সেরে সেরে ফেলতে হবে। মুখ শুকিয়ে নিয়ে আপনার প্রয়োজন মতো ক্রিম হাতে নিয়ে মুখে লাগান। নাইট ক্রিম সাধারণত ভারি হয়। তাই আঙুল দিয়ে হালকা মাসাজ করুন। মাসাজের স্ট্রোক যেন ঊর্ধ্বগামী হয়। আপনার চোখের আশপাশ এড়িয়ে চলুন। গলা ও ঘাড়ে ক্রিম লাগাতে ভুলবেন না। ঘুমোতে যাওয়ার ২০ থেকে ২৫ মিনিট আগে নাইট ক্রিম লাগানো উচিত।

আপনি যদি ত্বকের সঠিকভাবে যত্ন নিয়ে থাকেন এবং নিয়ম করে প্রতিদিন ভালোভাবে ক্লিজিং টোনিং ময়েশ্চারাইজিং পরপর মেনে করেন তাহলে আপনার ত্বকে এ ধরনের সমস্যা হবে না। অর্থাৎ বয়সের ছাপ বা আর্দ্রতার অভাবের মতো সমস্যার সম্মুখীন আপনাকে হতে হবে না। তাই যতো দিন পারা যাই আলাদা করে নাইট ক্রিম ব্যবহার করা থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখুন। যখনই মনে হচ্ছে ত্বকের সঠিক যত্ন আপনি নিতে পারছেন না, সারা দিন এতো ব্যস্ত যে নিজের জন্য সময়টুকু নেই, তখনই আপনি নাইট ক্রিমের কথা ভাবতে পারেন। এছাড়াও যারা সারা দিন এয়ার কন্ডিশন ঘরে কাজ করছেন, বাড়ি ফিরে মনে হচ্ছে, ত্বকের জন্য একটু বাড়তি আর্দ্রতার দরকার আছে, অথবা আপনি রাতে এয়ার কন্ডিশন ঘরে শুতে যাচ্ছেন, সেই ক্ষেত্রে আপনি নাইট ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন।

তবে আমি ব্যক্তিগত ভাবে বলবো ২৫/২৬ বছরের আগে নাইট ক্রিমের কোন প্রয়োজন নেই। আর যাদের আমার মতো মনে হচ্ছে যে, না এখন থেকে নাইট ক্রিম ব্যবহারের প্রয়োজন আছে, তাহলে তাদের জন্য আমার সাজেশন থাকবে, আগে দেখে নিন আপনার ত্বকে ঠিক কি ধরনের নাইট ক্রিম প্রয়োজন। এন্টি এজিং নাইট ক্রিম নাকি ডীপ ময়শ্চারাইজিং নাইট ক্রিম।

শেষে একটা কথাই বলবো, নাইট ক্রিম নিজের প্রয়োজন বুঝে ব্যবহার করুন। যখনই কোন নাইট ক্রিম বা অন্যান্য কোন ক্রিম বা বিউটি প্রোডাক্ট কিনবেন, সব সময় ভাল কোম্পানীর বা ব্যান্ডের নাম দেখে কেনার চেষ্টা করবেন। কেনার আগে জিনিসটির অবশ্যই একবার রিভিউ দেখে নেবেন। স্রোতের সঙ্গে গাঁ ভাসিয়ে বা কারও অন্ধ অনুকরণ করেও বিউটি প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে যাবেন না।

কোষের বৃদ্ধি ঘটায়

নাইট ক্রিমে কলেজিন, ভিটামিন এবং অ্যামিনো এসিড রয়েছে, যা সারা রাত ত্বকের কোষের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটাতে সাহায্য করে।

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়

তৈলাক্ত, শুষ্ক ও স্বাভাবিক ত্বকের জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা নাইট ক্রিম। ত্বকের ধরণ অনুযায়ী সঠিক নাইট ক্রিম ব্যবহার করে ঘুমাতে গেলে দেখবেন নিয়মিত ব্যবহারে আপনার ত্বক হবে উঠবে আরো কোমল, নরম ও উজ্জল। একইসঙ্গে ব্রণের উপদ্রব থেকে মুক্তি মিলবে।

সহজে বয়সের ছাপ পড়েনা

নিয়মিত নাইট ক্রিম ব্যবহারে ত্বকে বয়সের ছাপ পড়বে না। শুধু তাই নয়, এর ফলে বলিরেখাও হবে না। এটা ত্বকের তারুণ্য ধরে রেখতে সাহায্য করে।

ত্বকের ধরণ অনুযায়ী নাইট ক্রিম

বাজারে সব ধরণের ত্বক ও বয়সের নাইট ক্রিম রয়েছে। এক্ষেত্রে সঠিক নাইট ক্রিম কিনতে কিছু বিষয় জানা জরুরি-

১। নিজের বয়স,

২। ত্বকের ধরণ (স্বাভাবিক, শুষ্ক, তৈলাক্ত)

৩। আপনার ত্বকের কি প্রয়োজন (ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, ভিটামিন এ)

৪। কি কি উপাদানে তৈরি।

৫। কেমন দাম (যে কোন ভাল ব্রান্ডের নাইট ক্রিমের অনেক দাম হয়। বিশেষ করে যে কোন ডে ক্রিমের তুলনায় নাইট ক্রিমের দাম বেশি। তাই আসল নকল দেখে নিন)

সতর্কতা – সুন্দর ত্বকের জন্য অবশ্যই অবহেলা না করে নাইট ক্রিম ব্যবহার করুন। এক্ষেত্রে নিজের ত্বকের জন্য সঠিক ক্রিমটিই পছন্দ করুন। কম দামে ফর্সা হওয়ার গ্যারান্টি দেওয়া ক্রিমগুলো কখনই ব্যবহার করবেন না। এগুলো সাময়িকভাবে ত্বক ফর্সা করলেও ত্বক ক্ষতি করে। এর ফলে পরবর্তীতে ত্বকের ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। সব সময় ভাল কোম্পানীর জিনিস কিনুন। দাম একটু বেশি হলেও আপনার ত্বকের কোন ক্ষতি করবে না। মনে রাখবেন, ভালো কোম্পানির ক্রিমগুলো কখনই আপনাকে ফর্সা হওয়ার গ্যারান্টি দেবে না। কারণ এগুলো আসল এবং উন্নতমানের উপকরণে তৈরি।

প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি নাইট ক্রিম

ত্বক ফর্সা করতে প্রাকৃতিক উপাদানের জুড়ি নেই। ত্বকের অনাকাঙ্ক্ষিত কালো দাগ, হারিয়ে যাওয়া উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনাসহ দীপ্তিময় মসৃণ ত্বকের জন্য প্রাকৃতিক নাইট ক্রিম হতে পারে একমাত্র ভরসা। এবার জেনে নিন ঘরোয়া উপায়ে কিভাবে বানাবেন এই নাইট ক্রিম-

যা যা লাগবে

১/ একটা তাজা আপেল, ২/ আধা কাপ জলপাই তেল, ৩/ আধা কাপ গোলাপ জল।

যেভাবে করবেন

আপেলের বীজ এবং ভেতরের অংশ বাদে বাকি অংশটি কুচি করে কাটুন। এবার গোলাপ জল ও অলিভ অয়েল মিশিয়ে ব্লেন্ডারে দিয়ে মিহি করে নিন, যাতে ঘন একটা পেস্টের মত হয়। একটা বড় পাত্রে পানি গরম করে ফুটাতে থাকুন। পানির মধ্যে আরেকটি পাত্রে রেখে এই মিশ্রণটি ঘন হওয়া পর্যন্ত নাড়তে থাকুন। ঘন হয়ে আসলে নামিয়ে ঠাণ্ডা করুন। একটা পরিষ্কার কৌটায় ভরে ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে পারেন দীর্ঘদিন।

উপকারিতা

– কাঁচা আপেলে ম্যালিক অ্যাসিড থাকে, যা ত্বককে কোমল এবং টানটান করে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া কমায়।

– জলপাই তেল ময়েশচারাইজারের কাজ করে। খুব শুষ্ক ত্বককেও সজীব করে তোলে। ত্বকের ক্ষতি মেরামত ত্বরান্বিত করে।

– গোলাপ জল টোনারের কাজ করে। সারাদিন ত্বকে জমে থাকা ময়লা দূর করে। ত্বকের রোমকূপ খুলে দেয়। ত্বকের অনাকাঙ্ক্ষিত দাগসহ রোদে পোড়া ভাব কমায়।

 

নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন