ঢাকনা খুলে ফ্ল্যাশ করলে কী হয়?

শরীরের বর্জ্য পদার্থ ত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে নানা রকমের রোগ-জীবাণুও বের হয়ে আসে। এ ছাড়াও সুয়ারেজ লাইনে তো এসবের অস্তিত্ব আছেই। যখন ঢাকনা খুলে কমোডে ফ্ল্যাশ করা হয় তখন নানা রকম ব্যাকটেরিয়া, মাইক্রো-অরগানিজম ইত্যাদি বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে বাতাসে ভেসে এসব গিয়ে পড়ে আপনার কাপড়ে, চুলে, শরীরে, ত্বকে, কারণ ফ্ল্যাশ করার সময়ে কমোডের কাছেই দাঁড়িয়ে থাকেন আপনি। এ ছাড়াও এসব জীবাণু গিয়ে পড়ে আপনার সাবান, টুথব্রাশ, রেজারসহ ব্যবহার্য সব উপাদানেই।
খুব স্বাভাবিকভাবে চিন্তা করুন। আপনার টয়লেটে একজন অতিথি গিয়েছেন, তিনি ঢাকনা খুলেই ফ্ল্যাশ করেছেন। ফলে নানা রকমের রোগ-জীবাণু আপনার ব্যবহার্য জিনিসে গিয়ে পড়েছে। কিছুক্ষণ পর হয়তো সেই টুথব্রাশ দিয়েই আপনি দাঁত মাজলেন বা সেই সাবান দিয়েই গোসল করলেন। ব্যাপারটা কি হাইজেনিক হলো? একদম না!
অতিথির কথা উদাহরণ হিসেবে টানা হলো। বলাই বাহুল্য যে বাড়ির সবার মাঝেও ঢাকনা বন্ধ করে ফ্ল্যাশ করার অভ্যাস গড়ে তোলা খুব জরুরি।

তাহলে কি করবেন?

—অবশ্যই সবসময় ঢাকনা বন্ধ করে ফ্ল্যাশ করুন।
—ব্যবহারের সময় ছাড়া কমোডের ঢাকনা বন্ধ রাখুন সবসময়।
—ফ্ল্যাশ করার পর হাত ভালো করে পরিষ্কার করে নিন।
—সাবান, টুথব্রাশ, বালতি, মগ ইত্যাদি ব্যবহার্য বস্তু কমোড থেকে দূরে রাখুন। যদি বেসিন কমোডের কাছে হয়, তাহলে সবকিছু ঢাকনা দেওয়া বক্সে বা টয়লেট শেলফে রাখুন।
—টুথব্রাশে সবসময় ঢাকনা ব্যবহার করুন। সাবানের জন্য সোপকেস ব্যবহার করুন।
—অতিথিদের ব্যবহারের জন্য আলাদা ওয়াশ রুম রাখুন, যেন তাদের অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস আপনার স্বাস্থ্যে প্রভাব না ফেলে।
অসুখ হওয়ার আগে সেটা প্রতিরোধ করাই আসল স্বাস্থ্যসচেতনতা। সতর্ক থাকুন, সুস্থ থাকুন।

নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন