ব্যভিচারের অনুমতি চাওয়ায় যুবককে যা বলেছিলেন প্রিয়নবি

হত্যাযোগ্য অপরাধ যেনা বা ব্যভিচার। অথচ কুরাইশ বংশের এক যুবক প্রিয়নবির কাছে ব্যভিচারের অনুমতি চাইলেন। প্রিয়নবি যুবকের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেননি বরং ব্যভিচার নিয়ে কথা বললেন, তার কাছে কিছু বিষয়ে মতামত জানতে চাইলেন, যা তাকে ব্যভিচার থেকে নিবৃত্ত রাখল। হাদিসে এমনই একটি ঘটনার বর্ণনা ওঠে এসেছে-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর কাছে এক কুরাইশ যুবক ব্যভিচারের অনুমতি প্রার্থনা করে। প্রিয়নবি সামনে উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম রেগে ওঠে সে যুবককে শাস্তি দিতে উদ্যত হলেন। কিন্তু এক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

তিনি শান্তচিত্তে যুবকটিকে তাঁর একেবারে কাছে আসতে বললেন। অতঃপর কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলেন-
– তুমি কি তোমার মায়ের জন্যে এটা (ব্যভিচার) মেনে নেবে?
যুবক জবাব দিল, ‘না’।
তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘(অন্য) লোকেরাও এটা তাদের জন্য অনুমোদন করবে না।’
– অতঃপর তিনি আবার যুবককে জিজ্ঞাসা করলেন এটা (ব্যভিচার) সে তার কন্যা, বোন ও চাচির জন্য অনুমোদন করবে কিনা?
এবারও যুবক জবাব দিল, ‘না’।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবারো বললেন, ‘(অন্য) লোকরাও এটা তাদের জন্য অনুমোদন করবে না।’
– অতঃপর তিনি (প্রিয়নবি) যুবকটির হাত ধরে বললেন, ‘আল্লাহ্ তার (যুবকের) পাপ মাফ করে দিন, তার অন্তর পবিত্র করুন এবং তাকে সহিষ্ণু করুন (তার এই কামনার বিরুদ্ধে)।’ (মুসনাদে আহমদ, তাবরানি)

যুবকের সঙ্গে প্রিয়নবির উদারতামূলক জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে অনেকেই এ যুক্তি উপস্থাপন করতে পারে যে, যুবকটি যেহেতু ব্যভিচার করেনি, শুধু ব্যভিচারের অনুমতি প্রার্থনা করেছে মাত্র; তাই তার প্রতি উদারতা দেখানো হয়েছে।

ইসলাম যে অপরাধীর প্রতিও উদার তার আরেকটি প্রমাণ এসেছে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসে।

এক নারী ব্যভিচারের মাধ্যমে গর্ভবর্তী হয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে দোষ স্বীকার করে এবং তার প্রতি শাস্তি প্রয়োগের আহ্বান জানায়। অতঃপর প্রিয়নবি সে নারীকে শাস্তিস্বরূপ পাথর মারার নির্দেশ দেয়া হয়।

তাকে পাথর মারার সময় হজরত খালেদ ইবনে ওয়ালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু সে নারীকে অভিশাপ দিচ্ছিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, ‘হে খালিদ! (তাঁর প্রতি) নম্র হও। যার হাতে আমার জীবন তার শপথ করে বলছি, সে (ব্যভিচারি নারী) এমন অনুশোচনা করেছে যে, যদি একজন দোষী খাজনা আদায়কারীও তার মতো অনুতপ্ত হতো তবে তাকেও ক্ষমা করা হতো।’ (মুসলিম)

সুতরাং হে যুবক! যৌবনে যেনা ব্যভিচার নয়; বরং আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগিতে নিজেকে আত্মনিয়োগ কর। কারণ যৌবনের ইবাদত আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য।

যৌবনের কঠিন সময়ে তরুণদের মাঝে কামনা, বাসনা ও হতাশা বেশি কাজ করে। আর বয়ঃসন্ধিক্ষণের এ কঠিন সময়ে যারা নিজেদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তারাই সফলকাম। এ বয়সে নিজেকে নির্মল ও সচ্চরিত্রের উজ্জ্বল নমুনা তৈরি করতে কুরআন ও হাদিসের জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশা করা আবশ্যক।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর যুবক সমাজকে যেনা ব্যভিচারের মতো জঘন্য অপরাধ থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ হাদিসকে হৃদয় দিয়ে উপলব্দি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন