আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে ইবাদত করবেন কত দিন?

সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে মেহনত ও চেষ্টার বিকল্প নেই। সে লক্ষ্য যদি হয় আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন তবে কত দিন বা কত সময় ধরে চলবে ইবাদতের এ মেহনত বা প্রচেষ্টা। এ প্রসঙ্গে কুরআন হাদিসে রয়েছে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা।

আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে চেষ্টা কিংবা মেহনতের কথা উল্লেখ করে আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘যারা আমার জন্য চেষ্ট-সংগ্রামে নিয়োজিত থাকবে, আমি তাদের পথ দেখাব। আর আল্লাহ নিশ্চয় সৎকর্মশীল লোকদের সঙ্গে রয়েছেন।’ (সুরা আনকাবুত : আয়াত ৬৯)

আল্লাহর দিকে ধাবিত ব্যক্তির প্রতি মহান প্রভুর মনোভাব কেমন হবে তা ওঠে এসেছে এ হাদিসে কুদসিতে-

হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বান্দাহ যখন আমার দিকে এক বিঘৎ পরিমাণ এগিয়ে আসে, আমি তার দিকে এক হাত পরিমাণ এগিয়ে যাই। আর যখন সে আমার দিকে এক হাত পরিমাণ অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে দুই হাত পরিমাণ অগ্রসর হই। যখন সে আমার কাছে পায়ে হেঁটে আসে, আমি তার দিকে ছুটে চলে যাই।’ (বুখারি)

সুতরাং বান্দা যদি আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে মেহনত কিংবা প্রচেষ্টা চালায় আল্লাহ তাআলা সে বান্দাহকে সঙ্গ দেয়ার পাশাপাশি দান করে ঘোষিত সব নেয়ামত।

বান্দা কত সময় কিংবা কত দিন ধরে এ চেষ্টা চালিয়ে যাবে? এ ব্যাপারেও কুরআন এবং হাদিসে রয়েছে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা। আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘তুমি তোমার প্রভুর ইবাদত করো সেই মুহূর্ত পর্যন্ত, যা তোমার কাছে নিশ্চিতভাবেই আসবে।’ (সুরা মুজাম্মিল : আয়াত ৮)

আয়াতের এ মুহূর্ত বলতে মৃত্যুকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ বান্দা তার ইবাদত-বন্দেগি মৃত্যু পর্যন্ত করতে থাকবে। তাতে সে চূড়ান্ত সফলতা ও নেয়ামত লাভ করবে।

হাদিসে পাকে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার এক প্রশ্নের জবাবে এ বিষয়টি সুস্পষ্ট করেছেন। তাতে তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা হলো-

হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতের বেলা এত বেশি ইবাদত করতেন যে, (ইবাদতের) ফলে তাঁর উভয় পা ফুলে যেত। একদিন আমি তাঁকে বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি এত কষ্ট করছেন কেন? আল্লাহ তো আপনার অতিত ও ভবিষ্যতের গোনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন।

তিনি (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাল্টা প্রশ্ন রেখে) বললেন, তাই বলে ‘আমি কি আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দা হওয়া পছন্দ করবো না?’ (বুখারি ও মুসলিম)

সুতরাং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে চেষ্টা ও মেহনতের যেমন বিকল্প নেই, তেমনি তার ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে নৈকট্য অর্জনে দিনক্ষণ নির্ধারণ করারও কোনো সুযোগ নেই।

কারণ যারা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করবে কিংবা করেছে, দুনিয়াতে ইবাদত-বন্দেগিতে নিজেদের সব সময় নিয়োজিত রাখাই তোদের ধ্যান-জ্ঞান হয়ে যায়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে নিরলস মেহনত ও প্রচেষ্টায় আমৃত্যু ইবাদত-বন্দেগি করে তার সন্তুষ্টি অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন