ভালো কাজের উপদেশ দেয়ার আগে নিজেকে যেভাবে তৈরি করবেন

আল্লাহর পথে আহ্বান করা সর্বোত্তম কাজ। যারা এ কাজ করে তাদেরকে ‘দায়ি ইলাল্লাহ’ বা আল্লাহর পথে আহ্বানকারী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। কোনো ব্যক্তি ইচ্ছা করলেই কি অন্যকে ভালো কাজের উপদেশ দিতে পারেন? যিনি ভালো কাজের উপদেশ দেবেন তার কেমন হওয়া উচিত?

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে কিংবা নিজেকে গড়তে চাইলে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর একটি বর্ণনার ওপর আমল করাই যথেষ্ট।

দ্বীনের দায়ি হতে চাওয়া এক ব্যক্তিকে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু কিছু প্রশ্ন করেছিলেন। যে প্রশ্নগুলোতে রয়েছে কে বা কারা দ্বীনের দায়ি বা আল্লাহর পথে আহ্বানকারী কিংবা ভালো কাজের উপদেশ দিতে পারবে।

একদিন হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে এক লোক এসে বললেন, আমি দ্বীনের দাওয়াতি কাজ করতে চাই। তিনি বললেন, তুমি কি এ মর্যাদায় উন্নীত হয়েছ? লোকটি বলল, ‘হ্যাঁ’, আশা তো করি।’

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তুমি যদি মনে কর যে, কুরআনুল কারিমের ৩টি আয়াত দ্বারা তোমার অপমানিত হওয়ার কোনো আশংকা নেই, তাহলে অবশ্যই তুমি দ্বীনের দাওয়াতি কাজ করতে পারবে।

লোকটি হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে জানতে চাইলেন, কোন ৩ আয়াত? হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-

প্রথম আয়াত
‘তোমরা কি লোকদের উত্তম কাজের নির্দেশ দিচ্ছ আর নিজেদের কথা সম্পূর্ণ ভুলে যাচ্ছ?’ (সুরা বাকারা : আয়াত ৪৪)।
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু লোকটিকে বললেন, তুমি কি এ আয়াতের ওপর উত্তমরূপে আমল করছ?
লোকটি উত্তর দিলেন, ‘না’।

দ্বিতীয় আয়াত
‘তোমরা কেন এমন কথা বল, যা নিজেরা কর না?’ (সুরা সফ : আয়াত ২)
এ আয়াতের ওপরও কি তুমি যথাযথ আমল করছ?
লোকটি এবারো বলল, ‘না’ করিনি।

তৃতীয় আয়াত
‘হজরত শুআইব (আ.) নিজ জাতির উদ্দেশে বলেছিলেন, আমি যেসব মন্দ কাজ করতে তোমাদেরকে নিষেধ করছি, সেসব কাজ আমি নিজে করব এমন উদ্দেশ্য আমার নেই। বরং এমন কাজ থেকে আমি দূরে থাকব এবং তোমরা আমার কথা ও কাজে কোনোরূপ ব্যতিক্রম দেখতে পাবে না।’ (সুরা হুদ : আয়াত ৮৮)
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু লোকটিকে জিজ্ঞাসা করেন, তুমি কি এ আয়াতের ওপরও আমল করছ?
লোকটি বলল, ‘না’।

অতঃপর হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস লোকটিকে (নসিহত স্বরূপ) বললেন, ‘যাও (আগে) নিজেকে সৎকাজের আদেশ দাও এবং খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখ।’

মনে রাখতে হবে
দ্বীনের দাওয়াত তথা আল্লাহর পথে মানুষকে আহ্বান করা বা ভালো কাজের উপদেশ দেয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে হলে আবশ্যই আগে নিজেকেই পরিশুদ্ধ করতে হবে। কুরআনের উল্লেখিত ৩টি আয়াতের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে। নিজেকে সৎ কাজের জন্য নিবেদিতপ্রাণ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। খারাপ তথা অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।

আল্লাহর পথে আহ্বানকারী ব্যক্তি যদি নিজেকে সঠিক পথের অনুসারি করতে না পারে, উল্লেখিত কুরআনের আয়াত অনুযায়ী নিজেকে তৈরি করতে না পারে তবে অন্যকে সঠিক পথের সন্ধান দিয়ে লক্ষ্যস্থলে পৌঁছে দেয়া সম্ভব নয়।

এ কারণেই যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে কোনো বিষয়ে পরামর্শ কিংবা মতামত চাওয়া হতো, তখন তিনি ওই বিষয়টি তাঁর নিজের মাঝে বাস্তবায়ন আছে কিনা তা দেখতেন।

যদি নিজের মধ্যে বাস্তবায়ন থাকত, তবে সমাধান দিতেন। নতুবা সময় নিয়ে সে কাজটি আগে নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করতেন অতঃপর অন্যকে এ আমলের উপদেশ দিতেন কিংবা সমস্যার সমাধান দিতেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর প্রত্যেককে দ্বীনের দায়ি তথা আল্লাহর পথে আহ্বানকারী হওয়ার তাওফিক দান করুন। নিজের ভালো কাজ করার পাশাপাশি অন্যকে ভালো কাজের প্রতি উৎসাহ প্রদান করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন