প্রিয়নবির চুলে কলপ : কালো খেজাব লাগানোর হুকুম কী?

বার্ধক্যজনিত কারণে কারো চুল-দাঁড়ি সাদা হয়ে গেলে তাতে খেজাব ব্যবহার করা বৈধ। তবে তা কালো হওয়া চলবে না। মক্কা বিজয়ের দিন প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত আবু বকরের পিতা আবু কুহাফার রাদিয়াল্লাহু আনহুর চুল-দাঁড়ি পাকা দেখে তাকে বললেন, ‘এটাকে কোনো কিছু দ্বারা পরিবর্তন করো। তবে কালো থেকে বিরত থাকো।’ (মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও তার চুল ও দাঁড়িতে খেজাব লাগিয়েছেন। শামায়েলে তিরমিজিতে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চুলে খেজাব ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আবার যারা চুলে কালো খেজাব ব্যবহার করে তাদের ব্যাপারেও সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে। খেজাব বা কলপকারীদের জন্য তা জানা আবশ্যক। আর তাহলো-

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাথার সব চুল সাদা হয়নি। প্রিয়নবির চোখ ও দুই কানের মধ্যবর্তী অংশের কিছু চুল সাদা হয়েছিল। আর তাতে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খেজাব বা কলপ করেছিলেন-

প্রিয়নবির সাদা চুলকে মনে হতো লাল

– হজরত আবু রিমছা আত-তায়মি রাদিয়াল্লাহ আনহুথেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একবার আমি আমার ছেলেকে নিয়ে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসলাম। তিনি বললেন, আমার ছেলেকে তাঁকে (প্রিয়নবিকে) দেখালাম আর বললাম, ইনি আল্লাহর নবি। তখন প্রিয়নবির ২টি সবুজ রঙের কাপড় পরিধান করা ছিল। তার চুল সাদা দেখা যাচ্ছিল কিন্তু মনে হচ্ছিল তা লাল।’ (মুসনাদে আহমদ, মুস্তাদরেকে হাকেম, শরহুস সুন্নাহ, মিশকাত)

– হজরত আবু রিমসা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমি একবার আমার ছেলেকে নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে উপস্থিত হলাম। তিনি তখন (আমাকে) জিজ্ঞেস করলেন, এ ছেলেটি কি তোমার?

আমি বললাম, ‘জি— হ্যাঁ’। আপনি যদি এর সাক্ষী থাকতেন! তিনি বললেন, সে অপরাধ করলে তা তোমার উপর বর্তাবে না এবং তুমি অপরাধ করলেও তার উপর বর্তাবে না। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আমি তার চুল লাল দেখলাম।’ (মুসনাদে আহমদ)

– হজরত উসমান ইবনে মাওহাব রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, একদিন হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি খেজাব ব্যবহার করতেন? তখন তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ’। (তাহজিবুল আছার)

– হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর মাথার চুল খিযাবকৃত দেখেছি।’

সুন্নাতের অনুসরণ ও অনুকরণে হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন একনিষ্ঠ। তিনি প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাতের অনুসরণ ও অনুকরণের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতেন। এমনকি চুল ও দাঁড়িতে খেজাব দেয়ার ক্ষেত্রেও প্রিয়নবির অনুসরণ ও অনুকরণ করেছেন এভাবে-

– হজরত যাইদ ইবনু আসলাম বলেন, আমি ইবনু ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে দেখলাম যাফরান মিশ্রিত সুগন্ধ ‘খালুক’ খেজাব দ্বারা তাঁর দাঁড়ি হলুদ রঙে খেজাব করেছেন। তাঁকে প্রশ্ন করলে তিনি (ইবনু ওমর) বললেন-

‘আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এভাবে খেজাব দিয়ে (দাঁড়ি) হলুদ করতে দেখেছি। তাঁর কাছে এর চেয়ে প্রিয় রঙ আর কিছুই ছিল না। তিনি এই রঙ দিয়ে তার সব পোশাক এমনকি পাগড়ি পর্যন্ত রঙ করে নিতেন।’

সাহাবায়ে কেরাম এভাবেই প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাতের অনুসরণ ও অনুকরণ করেছেন।

কালো খেজাব লাগানোর পরিণতি

তবে পিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চুল ও দাঁড়িতে কালো রঙের খেজাব লাগাতে নিষেধ করেছেন। উম্মতকে সতর্ক করেছেন। হাদিসে সবুজ, লাল এবং হলুদ রঙের খেজাব সম্পর্কে আলোচনা আসলেও কালো রঙের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে এবং সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, কালো খেজাব ব্যবহার জায়েয নেই। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

বার্ধক্য গোপন করার জন্য বৃদ্ধের জন্য সাদা চুল-দাঁড়িতে কালো খেজাব ব্যবহার একেবারেই নাাজায়েজ। কালো খেজাব ব্যবহারকারী ব্যক্তি জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘শেষ যুগে এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে, যারা (চুল-দাঁড়িতে) কবুতরের বুকের রঙের মতো কালো খেজাব বা কলপ ব্যবহার করবে। তারা জান্নাতের সুগন্ধও পাবে না।’ (আবু দাউদ, নাসাঈ)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব নারী-পুরুষকে কালো খেজাব লাগানো থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। হাদিসে বর্ণিত রঙে ও পদ্ধতিতে খেজাব লাগানোর মাধ্যমে প্রিয়নবির অনুসরণ ও অনুকরণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন