আল্লাহ যাদেরকে দান করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন

দান-সাদকা গরিব লোকদের প্রাপ্য এ কথা যেমন ঠিক; আবার যারা সব সময় দান-সাদকা চেয়ে বেড়ায়; তারা ছাড়াও এমন কিছু লোক আছে, যাদেরকে দান-সাদকা করতে কুরআনে পাকে আল্লাহ তাআলা উদ্বুদ্ধ করেছেন। যারা কারো কাছে কখনো সাহায্য প্রার্থনা করে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ায় না।

আল্লাহ তাআলা মানুষকে লক্ষ্য করে এ কথাই বুঝাতে চেয়েছেন যে, যুগে যুগে আল্লাহর দ্বীনের জন্য নিবেদিত প্রাণ এক শ্রেণীর মানুষ থাকবে; যারা নিজেদের রুটি-রুজির জন্য সময়ক্ষেপণ করবে না। ইসলামের কাজে নিজেদেরকে সর্বক্ষণ নিয়োজিত রাখবে।

আবার তারা মানুষের কাছেও কোনো সাহায্য চাইবে না। তাদের দেখেই বুঝা যাবে যে, এরা আল্লাহর কাজে নিয়োজিত; সুতরাং এদের দান-সহযোগিতা করাও ঈমানের দাবি। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা সুস্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন-

আয়াতের অনুবাদ

আয়াত পরিচিতি ও নাজিলের কারণ
সুরা বাকারার ২৭৩ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা ‘আসহাবে সুফফা’র বিষয়টি তুলে ধরেছেন। ‘আসহাবে সুফফা’র মতো যারা নিজেদেরকে দ্বীনের কাজে নিয়োজিত রাখে তাদেরকে দান-সহযোগিতার কথা বর্ণনা করা হয়েছে এ আয়াতে।

এ আয়াতে এমন একদল লোককে সাহায্য করার কথা বলা হয়েছে, যারা আল্লাহর দ্বীনের খেদমতে নিজেদেরেকে কায়মনোবাক্যে সার্বক্ষণিকভাবে উৎসর্গ করে থাকে। তাদের সার্বক্ষণিক সময় দ্বীনি মেহনতে ব্যয় করার কারণে নিজেদের ভরণ-পোষণের জন্য কাজ-কর্ম করার সুযোগ থাকে না।

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে এ ধরণের স্বেচ্ছাসেবীদের একটি স্বাতন্ত্র দল ছিল। যাদেরকে ‘আসহাবে সুফফা’ বলা হতো। এরা ৩-৪শ’ লোকের একটি দল ছিল। যারা নিজেদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে হাজির থাকতেন।

আয়াতের শিক্ষণীয় বিষয় হলো-
ঈমানদার ব্যক্তির গুণ হলো- অভাব-অনটন থাকা সত্ত্বেও তারা চাওয়া বা ভিক্ষা করা থেকে বিরত থাকে চেষ্টা করে।

দান করার ক্ষেত্রে দ্বীনের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের দান-সাদকা করা উত্তম। যারা মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ায় না।

পেশাদার ভিক্ষুকের পরিবর্তে যারা দ্বীনের জন্য হিজরতকারী, দ্বীনি জ্ঞান অন্বেষণকারী ছাত্র-ছাত্রী, আলেম-ওলামা।

আবার লজ্জা বা সংকোচের কারণে কারো কাছে কোনো চাইতে পারে না বা সাহায্য চাইতে লজ্জাবোধ করে এমন সব গুপ্ত অভাবিকে দান-সহযোগিতা করা।

কারণ মানুষের সামনে হাত পেতে দান-সহযোগিতা নেয়া আত্মসম্মান পরিপন্থী ও মর্যাদাহানীকর কাজ।

২টি কথা মনে রাখতে হবে-

>> সেই ব্যক্তি মিসকিন নয়, ‘যে ব্যক্তি এক-দু’টি খেজুর বা এক-দু’ লুকমা খাবার অন্যের দ্বারে দ্বারে গিয়ে চেয়ে বেড়ায়; বরং প্রকৃত মিসকিনতো সেই ব্যক্তি যে, অভাব থাকা সত্ত্বেও চাওয়া থেকে বেঁচে থাকে।’

>> পক্ষান্তরে অন্য কথাটি হলো- যে ব্যক্তির কাছে প্রয়োজনীয় জিনিস থাকা সত্ত্বেও অন্যের কাছে চায় কেয়ামতের দিন তার মুখমণ্ডল ক্ষত-বিক্ষত হবে।’ (সুনানে আরবাআ) হাদিসের অন্য রেওয়ায়েতে এসেছে- যে ব্যক্তি সব সময় মানুষের কাছে চায়; কেয়ামতের দিন তার মুখমণ্ডলের গোশ্ত থাকবে না।’ (বুখারি ও মুসলিম)

সুতরাং দান-সাদকার ক্ষেত্রে সে সব ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহযোগিতা করতে হবে, যারা সাধারণত বার বার মানুষের কাছে চেয়ে বেড়ায় না বা তাদের অভাব-অনটনের কথা বলে বেড়ায় না। কিন্তু সার্বক্ষণিক দ্বীনে এলাহির কাজে নিজেদের নিয়োজিত রাখে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দানের ক্ষেত্রে কুরআনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দান পাওয়ারযোগ্য লোকদেরকে সাহায্য-সহযোগিতা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন