ইয়াতিমের সম্পদ গ্রাস করার ভয়াবহ পরিণাম !

সূরা নিসার মাঝে ইরশাদ হয়েছে― ‘ইয়াতীমদেরকে তাদের সম্পদ বুঝিয়ে দাও। খারাপ মালামালের সাথে ভালো মালামালের অদল-বদল করো না। আর তাদের ধন-সম্পদ নিজেদের ধন-সম্পদের সাথে সংমিশ্রিত করে তা গ্রাস করো না। নিশ্চয় এটা বড়ই মন্দ কাজ। [সূরা নিসা : ২]

সমাজে এ দৃশ্য অহরহ দেখা যায় যে, পিতার মৃত্যুর পর এমন কিছু পাষাণ আত্মীয়ের প্রকাশ ঘটে যারা অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর সহায়-সম্পত্তি দখল করে বসে। তারা ইয়াতিমের অসহায়ত্ব ও অসচেতনতাকে পুঁজি করে তার সম্পদ গ্রাস করে। জাহেলি যুগে এটি ছিলো নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। কুরআন কারীম এ সম্পর্কে নির্দেশনা দিয়েছে যে, ‘ইয়াতীমদের ধন-সম্পদের কাছেও যেয়ো না; কিন্তু উত্তম পন্থায়। [সূরা আন‘আম : ১৫২]

অন্য এক আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা জনৈক সাহাবীর প্রশ্নের উত্তরে বলেন― ‘আর তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে, ইয়াতীম সংক্রান্ত হুকুম। বলে দাও, তাদের কাজ-কর্ম সঠিকভাবে গুছিয়ে দেয়া উত্তম আর যদি তাদের ব্যয়ভার নিজের সাথে মিশিয়ে নাও, তাহলে মনে করবে তারা তোমাদের ভাই। বস্তুতঃ অমঙ্গলকামী ও মঙ্গলকামীদেরকে আল্লাহ্ তাআলা জানেন। [সূরা বাক্বারা : ২২০]

সূরা নিসার মাঝে ইরশাদ হয়েছে― ‘ইয়াতীমদেরকে তাদের সম্পদ বুঝিয়ে দাও। খারাপ মালামালের সাথে ভালো মালামালের অদল-বদল করো না। আর তাদের ধন-সম্পদ নিজেদের ধন-সম্পদের সাথে সংমিশ্রিত করে তা গ্রাস করো না। নিশ্চয় এটা বড়ই মন্দ কাজ। [সূরা নিসা : ২]

এরপর আল্লাহ তা‘আলা কঠোর ভাষায় বলেন― ‘যারা এতীমদের অর্থ-সম্পদ অন্যায়ভাবে খায়, তারা নিজেদের পেটে আগুনই ভর্তি করেছে এবং সত্ত্বরই তারা অগ্নিতে প্রবেশ করবে। [সূরা নিসা : ১০]

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন― বৃহদাকারের ৭টি মারাত্মক গুনাহের একটি হলো, ইয়াতিমের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করা। [সহীহ বুখারী : ১/৩৮৮, হাদীস নং : ২৭৬৬, সহীহ মুসলিম : ১/৬৪, হাদীস নং : ৮৯]

কিন্তু বর্তমান যুগের মানুষের চিত্র হলো, তারা এই শরীয়তের এই কঠোর নির্দেশনাগুলোকে একদিকে ফেলে রেখেছে। সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে একে অন্যকে বঞ্চিত করার প্রতিযোগিতায় মেতে থাকে। সাধারণত দেখা যায়, পিতার সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে ক্ষমতাধর ও দখলবাজ ভাই ছোট ছোট ভাই-বোনদের অধিকার ভুলুণ্ঠিত করে। নিজেদের অসহায়ত্বের কারণে ছোটরা মুখ ফুটে কোনো কিছু বলতেও পারে না। মনে রাখতে হবে, যেদিন এই মুকাদ্দমাগুলো সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক আল্লাহ তা‘আলার আদালতে উত্থিত হবে সেদিন ওই অধিকার গ্রাসকারীদেরকে ধিক্কারজনক পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে। তারা কি জানে না যে, ভাই-বোনের অধিকার গ্রাস করা শুধু সম্পদ গ্রাস-ই নয়; এর মাধ্যমে আত্মীয়তার সম্পর্ক নষ্ট করার মতো নিকৃষ্ট গুনাহ-ও হয়ে থাকে। যে ব্যক্তি অন্য ভাই-বোনের অধিকার গ্রাস করে সে দুনিয়া ও আখেরাতের কোথাও শান্তি পাবে না। কাজেই মৃত ব্যক্তির ইনতিকালের পর সর্বপ্রথম আবশ্যকীয় দায়িত্ব হলো, তার পরিত্যাক্ত সম্পত্তি শরয়ী ফারায়িয অনুসারে উত্তরাধিকারীদের মাঝে বণ্টন করে দেবে। যদি কোনো উত্তরসূরি নাবালগ হয় তাহলে তার সম্পদ চূড়ান্ত সতর্কতার সঙ্গে সংরক্ষণ করতে হবে।

নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন