হলুদে ব্যথা সারে, কৃমি নাশ করে! যেভাবে ব্যবহার করবেন

শুধু রান্নায় নয়, প্রসাধনের তালিকায়ও ঠাঁই করে নিয়েছে হলুদ। বিশেষ করে মেয়েদের কাছে ত্বকের উজ্জ্বলতা রক্ষায় হলুদ সমাদৃত। তবে শুধু মসলা কিংবা প্রসাধনে নয়, বিভিন্ন রোগের চিকিৎসাতেও হলুদের ব্যবহার বেশ। হালে মেয়েদের দেখা যায় ডেটল পানিতে শিশুদের গোসল করাতে। কিন্তু যখন ডেটল ছিল না তখন মায়েরা তেল-হলুদ মাখিয়ে শিশুদের গোসল করাতেন। যেন ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন বা চুলকানি, খোস-পাঁচড়া থেকে শিশুকে রক্ষা করা যায়। ভেষজবিদের মতে, দেশে যতগুলো ওষুধি মূল আছে তার মধ্যে হলুদ খুবই সহজলভ্য। যাদের প্রস্রাবের সাথে ফোঁটা ফোঁটা পুঁজ পড়ে, তারা যদি কাঁচা হলুদের রস সামান্য লবণ, একটু মধু বা চিনি মিশিয়ে এক চামচের মতো খেয়ে নেন তাহলে তাদের ব্যথা সেরে যাবে।

হলুদের আরেক নাম হচ্ছে ‘কৃমিঘ্ন’। মানে কৃমি নাশকারী। নানা রোগের জন্মগত কীট কৃমিকে ধ্বংস করে বলেই তার নাম এরকমটি হয়েছে। যাদের পেটে কৃমির উৎপাত আছে তাদের জন্য হলুদ একটি আদর্শ ওষুধি। কাঁচা হলুদের রস ১৫-২০ ফোঁটা সামান্য লবণ মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেলে কৃমিনাশ হয়। যাদের লিভারে গণ্ডগোল আছে তাদের ব্যবস্থাপত্রেও হলুদ দিয়ে থাকেন কবিরাজরা। তাদের মতে, পান্ডু রোগে মুখে ফ্যাকাসে রঙ ধরলে ঢেকে দেয়ার জন্য হলুদ খুবই দরকার। রোগীকে হলুদের রস ৫-১০ ফোঁটা থেকে আরম্ভ করে এক চা চামচ পর্যন্ত একটু চিনি বা মধু মিশিয়ে খাওয়াতে হয়। এতে খুব উপকার হয়। হলুদ হাম জ্বরে বেশ কাজ দেয়।

কাঁচা হলুদ শুকিয়ে গুঁড়ো করে সাথে উচ্ছে পাতার রস ও অল্প মধু মিশিয়ে হামের রোগীকে খেতে দিতে হবে। এতে হামের রোগী বেশ উপকার পাবে। গরুর গোশত, চিংড়ি মাছ এসব খেলে যাদের শরীরে চাকা চাকা হয়ে ফুটে ওঠে, চুলকায় তাদের জন্য হলুদ মহৌষধ। নিমপাতার গুঁড়ো ১ ভাগ, কাঁচা হলুদ শুকিয়ে গুঁড়ো করে ২ ভাগ এবং শুকনো আমলকীর গুঁড়ো ৩ ভাগ একসাথে মিশিয়ে নিতে হবে। আয়ুর্বেদি মতে কফ, পিওজব্যাধিতেও হলুদের স্বীকৃতি রয়েছে। কফ বা কাশি হলে পাঁচ-সাত গ্রাম কাঁচা হলুদ পিসে নিতে হবে।

তারপর গুঁড়ো হলুদ দেড় কাপ আন্দাজ পানিতে ৫-১০ মিনিট ফুটিয়ে শেষে ছেঁকে পানিটুকু আলাদা করে নিতে হবে। সেই পানি অল্প চিনি মিশিয়ে এক চামচ করে মাঝে মধ্যে খেলে কফজনিত রোগ চলে যায়। অপর দিকে হলুদের গুঁড়ো, আখের গুড় আর খাঁটি সরিষার তেল একসাথে মিশিয়ে খেলে হাঁপানিতে একটু উপকার হয়। আঘাত, কাটা, ঘা, ফুলা বা ক্ষতেও হলুদের গুঁড়ো চমৎকার ফল দেয়। শরীরের কোনো জায়গা মচকে গেলে বা আঘাত লাগলে চুন, নুন ও হলুদ মিশিয়ে গরম করে লাগালে ব্যথা ও ফুলা কমে যায়। আর ফোড়া হলে পোড়া হলুদের ছাই পানিতে গুলে লাগালে দেখতে দেখতেই ঘা শুকিয়ে যায়।

মেছতা ও মুখের কালো দাগ দূর করতে পারে হলুদ। প্রথমে মনসার আঠার মধ্যে হলুদ এক সপ্তাহ পর্যন্ত ভিজিয়ে রাখতে হয়। এরপর ছায়ায় শুকিয়ে তা গুঁড়ো করে নিয়মিত মুখে লাগালে মেছতা সেরে যায়। এতে মুখের কালো দাগও দূর হয়ে যায়।

নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন