ইবাদত না করেও সাওয়াব পাবেন যারা

বান্দার প্রতি আল্লাহর করুণার শেষ নেই। একবার যে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করেন, তার আর কোনো চিন্তা-পেরেশানি বা ভয় নেই। এ কারণেই একটি প্রবাদ আছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর হয়ে যায়; আল্লাহও তার হয়ে যায়।’

আল্লাহ তাআলা মুমিন বান্দার প্রতি একান্ত করুণাশীল। কোনো মুমিন বান্দা যখন অসুস্থতার কারণে ইবাদত করতে পারে না। তখনও আল্লাহ তাআলা মুমিন বান্দাকে নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার বা প্রতিদান দিয়ে থাকেন। আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে ঘোষণা করেন-

‘অতঃপর আমি তাকে হীনতাগ্রস্তদের হীনতমে পরিণত করি। কিন্তু তাদেরকে নয়, যারা মুমিন ও সৎকর্মপরায়ণ; তাদের জন্য রয়েছ নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার। (সুরা আত-ত্বীন : আয়াত ৫ ও ৬)

জীবনের শুরু থেকে ইবাদত-বন্দেগি করলে আল্লাহ তাআলা অসুস্থতা বা অক্ষমতার দিনগুলোতেও তাকে আগের ইবাদতের ন্যায় অবিরাম সাওয়াব দিতে থাকেন। এমনকি অসুস্থতা বা অপারগ অবস্থায় যদি তার মৃত্যুও হয় তথাপিও সে মৃত্যু পর্যন্ত সাওয়াব পেতে থাকবে। হাদিসে কুদসিতে এসেছে-

হজরত উকবা ইবনে আমের রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, (মানুষের) প্রতি দিনের আমলে মোহর মেরে দেয়া হয়। যখন ঈমানদার (ইবাদতকারী ব্যক্তি) অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখন ফেরেশতারা বলেন, `হে আমাদের প্রভূ! আপনার অমুক বান্দা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তখন আল্লাহ বলেন, সে সুস্থ হওয়া পর্যন্ত অথবা তার মৃতু্যবরণ করা পর্যন্ত তার আমলনামায় সেরূপ আমলের সাওয়াব লিখতে থাকো, যেরূপ আমল সে সুস্থ থাকা অবস্থায় করতো।’ (মুসনাদে আহমদ)

সুতরাং সুস্থ্য অবস্থায় আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগিতে প্রতিটি মুহূর্ত কাটিয়ে দিতে হবে। তবেই সম্ভব অসুস্থ অবস্থায় আল্লাহর অবিরত রহমত ও বরকতের ভাগীদার হওয়া। এ ব্যাপারে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কুরআনুল কারিমেও স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন।

এ কারণেই কোনো মানুষ মৃত্যুর পর কবরের ৩টি প্রশ্ন ও হাশরের ৫টি প্রশ্নের উত্তর দেয়া ছাড়া নাজাত পাবে না। হাশরের ৫টি প্রশ্নের একটিই হলো- তুমি তোমার যৌবনের সময়টি কোন কাজে অতিবাহিত করেছ। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা বান্দাকে দুনিয়ার যে সময় বা জীবনকাল দান করেছেন; মানুষ তা কী কাজ করেছে, তার উত্তর না দেয়া পর্যন্ত কোনো আদম সন্তানও এক কদম নাড়াতে পারবে না।’

সুতরাং সুস্থ থাকা অবস্থায় ইবাদত করা জরুরি। যারা সুস্থতার সময় ইবাদত-বন্দেগিতে নিয়োজিত থাকবে; তারা অসুস্থতা ও অপারগতায় পরলেও অব্যাতভাবে সাওয়াব পাবে। সে ঘোষণাই এসেছে কুরআন এবং হাদিসে।

আল্লাহ তাআলা সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে সুস্থতার সময় যথাযথভাবে তার ইবাদত-বন্দেগি করার তাওফিক দান করুন। অসুস্থতার সময় ইবাদত না করেও ইবাদতের সাওয়াব লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন