বেজোড় ইবাদত আল্লাহর অধিক পছন্দনীয়

আল্লাহ তাআলা মানুষকে তাঁর ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। আর এ কারণেই মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সব ভাল কাজই আল্লাহর ইবাদত হিসেবে পরিগণ্য। সারাদিন অন্যায় কাজ করে শুধুমাত্র নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, জিকির-আজকার ইত্যাদি আদায় করার নামই ইবাদত নয়। বরং নামাজ-রোজা-হজ-জাকাত-জিকির ইত্যাদির সঙ্গে সঙ্গে পরিশুদ্ধ নিয়ত নিয়ে দৈনন্দিন জীবনে প্রতিটি কাজ কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক করাই হলো ইবাদত।

আর এ ইবাদত যদি হয় বেজোড় তবে তা আল্লাহ তাআলার কাছে অধিক পছন্দনীয়। প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে পাকে এমনটিই ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা বেজোড়; তিনি বেজোড়কে পছন্দ করেন।’ (মুসলিম)

বেজোড় ইবাদতে রয়েছে একত্ববাদের ঘোষণা। আল্লাহ তাআলা তাঁর সত্ত্বায় এক ও একক। তাঁর কোনো শরিক নেই; নেই কোনো সাদৃশ। তিনি তার সিফাত বা গুণাবলীতেও একক; তাঁর কোনো সাদৃশ্য নেই; নেই কোনো প্রতিচ্ছবি। তিনি তাঁর কর্মে একক; তাঁর কার্মেও কোনো শরিক নেই; নেই কোনো সহযোগী।

বেজোড় ইবাদত প্রসঙ্গে অনেকেই বলেন, ‘আল্লাহর দরবারে অধিকাংশ ইবাদত-বন্দেগি ও আমলের ক্ষেত্রে বেজোড় আমল ও ইবাদতের ফজিলত বেশি।’

তাইতো আল্লাহ তাআলা বান্দার জন্য অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতকে বে-জোড় নির্ধারণ করেছেন। যেমন-
>> আল্লাহ তাআলা বান্দার জন্য প্রধান ইবাদত হিসেবে নামাজকে ৫ ওয়াক্ত নির্ধারণ করেছেন।
>> আল্লাহ তাআলা রোজাকে ২৯/৩০ দিনে নির্ধারণ করেছেন।
>> পবিত্রতা অর্জনে প্রতিটি অঙ্গকে ৩ বার করে ধোয়ার প্রতি তাগিদ দিয়েছেন প্রিয়নবি।
>> বাইতুল্লাহর তাওয়াফকে ৭ বার নির্ধারণ করা হয়েছে।
>> সাফা-মারওয়ার সাঈকেও ৭ বার নির্ধারণ করা হয়েছে।
>> মিনায় পাথর নিক্ষেপেও বেজোড় নির্ধারণ করা হয়েছে।
>> আইয়ামে তাশরিকও ৫ দিন এবং ২৩ ওয়াক্ত নামাজের পর তাকবির বলাকে নির্ধারণ করা হয়েছে।
>> পবিত্রতা অর্জনে ইসতেনজায় ৩টি টিলা-কুলুপ ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে।
>> এমনিভাবে মানুষের জন্মের ৭দিন পর মাথামুণ্ডন ও আকিকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
>> মানুষের মৃত্যুতে কাফনের কাপড় ৩/৫-এ নির্ধারণ করা হয়েছে।
>> কুরবানিতে এক গরু-মহিষ ও উটে সর্বোচ্চ ৭জনকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বেজোড়কে পছন্দ করে বিধায় তিনি তাঁর বড় বড় মাখলুক সৃষ্টিতেও বেজোড় করেছেন। যেমন- আসমান ৭টি, জমিন ৭টি, সমুদ্র ৭টি, দিন ৭টি। আল্লাহ তাআলা এ সব সৃষ্টির হেকমতই বলে দেয় যে, আল্লাহ তাআলা বেজোড়কে পছন্দ করেন।

আল্লাহ তাআলার বেজোড় ইবাদত নির্ধারণ তার একত্ববাদেরই ঘোষণা মানুষ বার বার স্মরণ করার প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। তিনি তাঁর সব সত্ত্বায় এক ও একক।

সর্বোপরি প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বেজোড় ইবাদতের প্রতি গুরুত্বরোপ করে রাতের ইবাদত প্রসঙ্গে বলেছেন- ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা বেজোড়; তিনি বেজোড়কে পছন্দ করেন। হে কুরআনের অনুসারীরা! তোমরা (বিতর/বেজোড় নামাজ) আদায় কর।’ (মুসলিম)

সে কারণেই মানুষ ইশা এবং ফজরের মধ্যবর্তী সময়ে বিতরের (বেজোড়) নামাজ আদায় করেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তাওহিদ তথা একত্ববাদের ঘোষণার প্রতি খেয়াল রেখে বেশি বেশি বেজোড় ইবাদত করার তাওফিক দান করুন। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশনায় নিয়োজিত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন