কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে মদপান ও ধূমপানের অপকারিতা

সমাজ নিয়ে যাঁরা গবেষণা করেন এবং সমাজ-জমির বুক থেকে যাঁরা আগাছা তুলে ফেলার চেষ্টা করেন, তাঁদের মধ্যে লেখক মোস্তাফিজুর রহমান মাদানী সাহেব একজন। হক জেনে ও মেনে নিয়ে তার প্রচার করার গুরুদায়িত্ব এবং তার পথে তাঁর অদম্য প্রয়াস ও প্রচেষ্টা আমাকে মুগ্ধ করেছে।
সমাজ-সংস্কারের সহায়করূপে কাজে দেবে তাঁর এ পুস্তিকাটিও। সমাজে এত পাপ ও পাপীর দাপট যে, অনেকের সাপ থেকে বাঁচা সম্ভব, কিন্তু পাপ থেকে বাঁচা সহজ নয়। বিশ্বায়নের যুগে দীন-বিমুখ সমাজ বহুবিধ পাপের বন্যায় হাবুডুবু খাচ্ছে। তা দেখে-শুনে প্রত্যেক দায়িত্বশীলের যে কর্তব্য হওয়া উচিৎ, তার কিঞ্চিৎ বহিঃপ্রকাশ এ পুস্তিকার প্রণয়ন।
মহান আল্লাহর কাছে আকুল মিনতি, তিনি যেন আমাদেরকে ও লেখককে কলমের জিহাদ চালিয়ে যাওয়ার তাওফীক দিন। দেশে-বিদেশে ইসলামী সর্বাঙ্গ-সুন্দর পরিবেশ গড়ার মহান লক্ষ্যে পুস্তক রচনার কাজ চালিয়ে যাওয়ার তাওফীক দিন এবং পাঠক-পাঠিকাকে পুস্তিকার নির্দেশানুযায়ী আমল করার প্রেরণা এবং মুসলিম ঘর ও সমাজ গড়ার চেতনা দান করুন। আমীন।সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার জন্যে যিনি আমাদেরকে নিখাদ তাওহীদের দিশা এবং সুন্নাত ও বিদ‘আতের পার্থক্যজ্ঞান দিয়েছেন। অসংখ্য সালাত ও সালাম তাঁর জন্য যিনি আমাদেরকে কিয়ামত পর্যন্ত সফল জীবন অতিবাহনের পথ বাতলেছেন। তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের প্রতিও রইল অসংখ্য সালাম।
প্রতিনিয়ত রাস্তা-ঘাটে বিচরণকারী প্রতিটি ধর্মপ্রাণ মুসলিমই ঘরে-বাইরে, শহরে-বন্দরে, গ্রামে-গঞ্জে, স্কুল-কলেজে, অফিস-আদালতে, হাট-বাজারে এমনকি যাত্রীবাহী সব ধরনের যানবাহনে তথা সর্বস্থানে ধূমপায়ীদের সস্পর্ধ অবাধ ধূমপান অবলোকন করে কমবেশি মর্মব্যথা অনুভব না করে পারেন না। আমি ও তাদেরই একজন। তাই সর্বনাশা এ প্রকাশ্য ব্যাধি থেকে উত্তরণের জন্য যে কোনো সঠিক পন্থা অনুসন্ধান করা নিজস্ব ধর্মীয় কর্তব্য বলে আমি জ্ঞান করি। তাই প্রথমতঃ সবাইকে মৌখিকভাবে এ ঘৃণিত বস্তুটির সার্বিক প্রতিরোধের প্রতি প্রয়োজনীয় উৎসাহ প্রদান এবং এর ভয়ঙ্কর পরিণতি বুঝাতে সচেষ্ট হই। কিন্তু তাতে আশানুরূপ তেমন কোনো ফল পাওয়া যায় নি। ভাবলাম হয়তো বা কেউ মনযোগ দিয়ে শুনছেন না অথবা তা দীর্ঘক্ষণ ক্রিয়াশীল থাকার জন্য প্রয়োজনান্দাযকাল মনোন্তকরণে বিদ্ধকরণকর্ম সম্পাদিত হচ্ছে না। তাই লেখালেখিকে দ্বিতীয় মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করি। অথচ আমি এ ক্ষেত্রে নবাগত। কতটুকু সফলকাম হতে পারবো তা আল্লাহ মা‘লুম। তবুও প্রয়োজনের খাতিরে ভুল-ত্রুটির প্রচুর সম্ভাবনা পশ্চাতে রেখে ক্ষুদ্র কলম খানা হস্তে ধারণের দুঃসাহসিকতা দেখাচ্ছি। সফলতা তো একমাত্র আল্লাহ তা‘আলারই হাতে। তবে “নিয়্যাতের ওপরই সকল কর্মের ফলাফল নির্ভরশীল” রাসূল মুখনিঃসৃত এ মহান বাণীই আমার দীর্ঘ পথসঙ্গী।
অত্যন্ত আনন্দের বিষয় হচ্ছে এই যে, এ পুস্তিকাটিতে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পৃক্ত যতগুলো হাদীস উল্লেখ হয়েছে সাধ্যমত এর বিশুদ্ধতার প্রতি সযত্ন দায়িত্বশীল দৃষ্টি রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে নিদেনপক্ষে সর্বজন শ্রদ্ধেয় প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ আল্লামা নাসেরুদ্দীন আলবানী রহ.-এর হাদীস শুদ্ধাশুদ্ধনির্ণয়ন নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এতদসত্ত্বেও সকল যোগ্য গবেষকদের পুনর্বিবেচনার সুবিধার্থে প্রতিটি হাদীসের সাথে তার প্রাপ্তিস্থাননির্দেশ সংযোজন করা হয়েছে। তবুও সম্পূর্ণরূপে নিরেট নির্ভুল হওয়ার জোর দাবি করার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছি না।
শব্দ ও ভাষাগত প্রচুর ভুল-ভ্রান্তি বিজ্ঞ পাঠকবর্গের চক্ষুগোচরে আসা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে ভুল গুরুসামান্য যতটুকুই হোক না কেন লেখকের দৃষ্টিগোচর করলে চরম কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ থাকবো। যে কোনো কল্যাণকর পরামর্শ দিয়ে দাওয়াতী স্পৃহাকে আরো বর্ধিত করণে সর্বসাধারণের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি। আল্লাহ তা‘আলা সবার সহায় হোন।
এ পুস্তিকা প্রকাশে যে কোনো জনের যে কোনো ধরনের সহযোগিতার জন্য সমুচিত কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনে এতটুকুও কৃপণতা করছি না। ইহপরকালে আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেককে আকাঙ্খাতীত কামিয়াব করুন তাই হচ্ছে আমার সর্বোচ্চ প্রত্যাশা। আমীন, সুম্মা আমীন ইয়া রাব্বাল আলামীন।
সর্বশেষে জনাব শাইখ আব্দুল হামীদ ফায়যী সাহেবের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করে পারছিনে। যিনি অনেক ব্যস্ততার মাঝেও আমার আবেদনক্রমে পাণ্ডলিপিটি আদ্যপান্ত অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখেছেন এবং তাঁর অতীব মূল্যবান মতামত ব্যক্ত করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা তাকে এর উত্তম প্রতিদান দিন এবং তার জ্ঞান আরো বাড়িয়ে দিন এ আশা রেখে এখানেই শেষ করলাম।
মদ্য পান অথবা যে কোনো মাদকদ্রব্য সেবন

মদ্য পান অথবা যে কোনো নেশাকর দ্রব্য গ্রহণ তথা সেবন (চাই তা খেয়ে কিংবা পান করেই হোক অথবা ঘ্রাণ নেওয়া কিংবা ইঞ্জেকশান গ্রহণের মাধ্যমেই হোক) একটি মারাত্মক কবীরা গুনাহ, যার ওপর আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অভিশাপ ও অভিসম্পাত রয়েছে।
আল্লাহ তা‘আলা কুরআন মাজীদে মদ্যপান তথা যে কোনো নেশাকর দ্রব্য গ্রহণ অথবা সেবনকে শয়তানের কাজ বলে আখ্যায়িত করেছেন। শয়তান চায় এরই মাধ্যমে মানুষে মানুষে শত্রুতা, হিংসা-বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে এবং আল্লাহর স্মরণ ও সালাত থেকে মানুষকে গাফিল করতে।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِنَّمَا ٱلۡخَمۡرُ وَٱلۡمَيۡسِرُ وَٱلۡأَنصَابُ وَٱلۡأَزۡلَٰمُ رِجۡسٞ مِّنۡ عَمَلِ ٱلشَّيۡطَٰنِ فَٱجۡتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُونَ ٩٠ إِنَّمَا يُرِيدُ ٱلشَّيۡطَٰنُ أَن يُوقِعَ بَيۡنَكُمُ ٱلۡعَدَٰوَةَ وَٱلۡبَغۡضَآءَ فِي ٱلۡخَمۡرِ وَٱلۡمَيۡسِرِ وَيَصُدَّكُمۡ عَن ذِكۡرِ ٱللَّهِ وَعَنِ ٱلصَّلَوٰةِۖ فَهَلۡ أَنتُم مُّنتَهُونَ ٩١﴾ [المائ‍دة: ٩٠، ٩١]
“হে ঈমানদারগণ! নিশ্চয় মদ (নেশাকর দ্রব্য), জুয়া, মূর্তি ও লটারীর তীর এ সব নাপাক ও গর্হিত বিষয়। শয়তানের কাজও বটে। সুতরাং এগুলো থেকে তোমরা সম্পূর্ণরূপে দূরে থাকে। তাহলেই তো তোমরা সফলকাম হতে পারবে। শয়তান তো এটিই চায় যে, মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের পরস্পরের মাঝে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হোক এবং আল্লাহ তা‘আলার স্মরণ ও সালাত থেকে

নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন