ভীতি নয় মুরগির মাংসে, জেনে নিন উপকারিতা

ডাঃ মোঃ সাইফুল ইসলাম, লাইফস্টাইল কন্ট্রিবিউটর, সময়ের কণ্ঠস্বর। গৃহপালিত পাখিদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মুরগি। মুরগির মাংস ও ডিম প্রোটিনের ভাল উৎস। পাশাপাশি মুরগির মাংসে প্রচুর ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে। এই উপাদানগুলো মানব শরীরের জন্য নানাবিধ উপকার করে থাকে।

United States Department of Agriculture (USDA) এর তথ্যানুসারে, প্রতি ১০০ গ্রাম মুরগিতে প্রাপ্ত উপাদান হচ্ছে:

ময়েশ্চার বা আর্দ্রতা বা জলীয় ভাগ: ৬৫ গ্রাম, শক্তি: ২১৫ কিলো ক্যালরি, প্রোটিন: ১৮ গ্রাম, ফ্যাট: ১৫ গ্রাম, স্যাচুরেটেড ফ্যাট: ৪ গ্রাম, কোলেস্টেরল: ৭৫ মি.গ্রা., ক্যালসিয়াম: ১১ মি.গ্রা., আয়রন: ০.৯ মি.গ্রা., ম্যাগনেশিয়াম: ২০ মি.গ্রা., ফসফরাস: ১৪৭ মি.গ্রা., পটাশিয়াম: ১৮৯ মি.গ্রা., সোডিয়াম: ৭০ মি.গ্রা., জিংক: ১.৩ মি.গ্রা. এবং বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন।

মুরগির মাংস খাওয়ার উপকারিতা

প্রোটিন সরবরাহ: আমাদের প্রাত্যহিক খাবারে সবচেয়ে বেশি প্রোটিন সরবরাহ করছে মুরগির মাংস। প্রতি ১০০ গ্রাম মুরগির মাংসে প্রোটিন থাকে ১৮ গ্রাম। পেশী গঠনে প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ: মুরগি শুধু প্রোটিনেরই ভাল উৎস নয়, পাশাপাশি ভিটামিন ও খনিজেরও ভাল উৎস। মুরগির মাংসে প্রাপ্ত ভিটামিন ও খনিজ উপাদান গুলো হচ্ছে ভিটামিন সি, থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, নিয়াসিন, ভিটামিন বি-৬, ফোলেট, ভিটামিন বি-১২, ভিটামিন এ, ভিটামিন ই, ভিটামিন ডি, ভিটামিন কে, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, সোডিয়াম ইত্যাদি।

এগুলো বিভিন্ন প্রকার রোগ থেকে শরীরকে রক্ষা করে। যেমন- ভিটামিন বি চোখের ছানিরোগ এবং ত্বকের সমস্যা প্রতিরোধ করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, দূর্বলতা দূর করে, হজমশক্তি বাড়ায় এবং স্নায়ুতন্ত্র সুস্থ রাখে।

ওজন কমানো: খাদ্য তালিকায় অধিক প্রোটিনযুক্ত থাকলে তা ওজন কমাতে সহায়তা করে। মুরগির মাংসে প্রোটিন অধিক থাকায় তা ওজন কমাতে সহায়ক। বিভিন্ন রিপোর্ট থেকে জানা যায়, যারা নিয়মিত মুরগির মাংস খান তাদের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: আফ্রিকা এবং আমেরিকার উচ্চ রক্তচাপের ব্যক্তিদের উপর চালানো এক গবেষণায় জানা যায়, মুরগির মাংস খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানো: মুরগির মাংস এবং মাছ খেলে কলোরেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যায়। তবে এই তথ্যের পক্ষে এখনও জোরালো ভিত্তি পাওয়া যায়নি।

কোলেস্টেরল জমার ঝুঁকি কমানো: কোলেস্টেরল জমা ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় বলে আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন মুরগির মাংস ও মাছ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে অতিরিক্ত পরিমাণ না খেয়ে স্বাভাবিক পরিমাণ খেতে হবে। অর্থাৎ ১ গ্রাম প্রোটিন প্রতি কেজি শারিরিক ওজন হিসেবে খেতে হবে।

সাধারণত সর্দি: গরম মুরগির স্যুপ সাধারণ সর্দি, সর্দির কারণে বন্ধ নাক ও গলা ব্যথা থেকে মুক্তি দিবে।

বর্তমানে দেশে ৬৫-৭০ হাজার ছোট বড় মুরগির খামার রয়েছে। এতে প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। যাদের ৪০ শতাংশ হচ্ছে নারী। দেশের মোট মাংসের চাহিদার ৪০-৪৫ শতাংশ আসছে এই পোল্ট্রি শিল্প থেকে। তবে কিছু অসাধু চক্র ট্যানারি বর্জ্য দিয়ে মুরগির খাদ্য তৈরি করেছিল বলে জানা গেলেও সরকারের নজরদারীতে তা এখন আর হচ্ছে না।

আবার এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার ক্ষতিকর মাত্রার চেয়ে কমিয়ে আনার জন্যও কাজ করছে অনেক ভেটেরিনারিয়ান বা প্রাণি চিকিৎসক। তাই মুরগির মাংসের উপকারিতার কথা ভেবে, সকল প্রকার ভীতি এড়িয়ে নিঃসন্দেহে খেতে পারেন।

নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন