আক্কেল দাঁতের ব্যথা কমাতে

আক্কেল দাঁতের উঠার সময় বেশ যন্ত্রণা করে দাঁতের গোড়ায়। যাদের এই দাঁত উঠেছে শুধু তারাই জানেন কেমন ব্যাথা। দাঁত থেকে মাথাব্যথা, ঘাড়ব্যথা পৌঁছায় চোখ অবধি। শুধু পেইন কিলার খেয়েই ব্যথা কমানোর চেষ্টায় থাকেন অনেকে। অতিরিক্ত ব্যথা কমানোর ওষুধের কিন্তু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছে। তাই দেখে নিন কিছু ঘরোয়া উপায়-

জেনে নিন আক্কেলে দাঁতের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া টোটকা গুলো-

শসা, আলু ও বাঁধাকপি
এই তিন সবজিতে রয়েছে একাধিক উপকারি উপাদান যা নিমেষে যন্ত্রণা কমাতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এক্ষেত্রে ফ্রিজে রাখা শসা, আলু অথবা বাঁধাকপি অল্প পরিমাণে কেটে নিয়ে আক্কেল দাঁতের উপরে লাগাতে হবে। দেখবেন ব্যথা কমে যাবে। এক্ষেত্রে অল্প পরিমণে শসার পেস্ট মুখে লাগালেও কিন্তু দারুন উপকার পাওয়া যায়।

গোলমরিচ
দাঁতের ব্যথা কমাতে গোলমরিচ দারুণ কাজ করে। পরিমাণ মতো গোলমরিচ নিয়ে তার সঙ্গে জল মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। তারপর সেই পেস্টটি তুলোর সাহায্যে যেখানে যন্ত্রণা হচ্ছে, সেখানে লাগিয়ে রাখতে হবে। এমনটা করলেই দেখবেন কিছু সময়েই কষ্ট কমে গেছে।

টি ট্রি ওয়েল
একটা তুলোতে অল্প করে এই তেলটি নিয়ে দাঁতের উপর ৫ মিনিট লাগিয়ে রাখলেই যন্ত্রণা কমে যাবে। কারণ এতে উপস্থিত অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটারি উপাদান নিমেষে প্রদাহ কমিয়ে ফেলে। ফলে কষ্ট ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।

রসুন
এবার থেকে যখনই আক্কেল দাঁতের যন্ত্রণা শুরু হবে, তখনই এক কোয়া রসুন নিয়ে চিবতে শুরু করে দেবেন। দেখবেন নিমেষে কষ্ট কমে যাবে। কারণ এর অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান যে কোনো ধরনের প্রদাহ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে পুনরায় যাতে এমন কষ্ট না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখে।

লবণ
দুটো রসুনের কোয়া থেঁতো করে তার সঙ্গে অল্প করে নুন মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে ফেলুন। এবার সেই পেস্টটা ভাল করে আক্কেল দাঁতের উপর লাগিয়ে দিন। আর যদি এমনটা করতে না পারেন তাহলে পেস্টটি ব্রাশে লাগিয়ে দাঁত মেজে নিন। দেখবেন যন্ত্রণা কমে যাবে। ১ কাপ গরম পানিতে ১ চামচ লবণ মিশিয়ে সেই পানি দিয়ে কুলি করলেও আরাম পাওয়া যায়।

হলুদ
এই প্রাকৃতিক উপাদানটির অন্দরে উপস্থিত অ্যান্টিসেপটিক এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াস প্রপাটিজ নিমেষে আক্কেল দাঁতের যন্ত্রণা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই যাদের মাঝে মধ্যে দাঁতের যন্ত্রণায় জীবন দুর্বিসহ হয়ে ওঠে, তারা এই টোটকাটি কাজে লাগাতে পারবেন।
এক কাপ পানিতে ৫ গ্রাম হলুদ গুঁড়া, ২ টা লবঙ্গ এবং ২ টা শুকনো পেয়ারা পাতা ফেলে পানিটা ফুটিয়ে নিন। এরপর সেই পানিটা দিয়ে ভাল করে মুখ ধুয়ে নিন। এইভাবে কয়েকবার কুলকুচি করলেই দেখবেন ব্যথা চলে গেছে।

পেঁয়াজ
আক্কেল দাঁতকে কাবু করতে পেঁয়াজ দারুন কাজে আসে। এক্ষেত্রে অল্প করে পেঁয়াজ চিবিয়ে নিতে পারেন অথবা আক্কেল দাঁতের উপর রেথে দিলেও দারুন উপকার মেলে। আরো একটি উপায় আছে। পরিমাণ মতো পেঁয়াজ নিয়ে তার থেকে রসটা সংগ্রহ করে নিন। তারপর সেই রসটা আক্কেল দাঁতের পর ধীরে ধীরে লাগিয়ে দিন। এমনটা করলে দেখবেন চোখের পলকে কষ্ট কমে যাবে।

পিপারমেন্ট তেল
এবার থেকে এমন যন্ত্রণা হলেই কয়েক ফোঁটা পিপারমেন্ট তেল ফেলে দেবেন দাঁতের উপর। তাহলেই কষ্ট এবং ব্যথা একেবারে কমে যাবে। আর যদি হাতের কাছে এই তেল না পান, তাহলে কয়েকটা পিপারমেন্ট পাতা নিয়ে চিবিয়ে নিলেও সমান উপকার মিলবে।

পেয়ারা পাতা
যারা এখনও ঠাকুমা-দাদুর সঙ্গে থাকেন, তারা এই ঘরোয়া পদ্ধতিটির সঙ্গে বেশ ভাল রকমভাবে পরিচিত। কারণ আগেকার দিনে দাঁতে ব্যথা হলেই পেয়ারা পাতা চিবোনোর পরামর্শ দিতেন বড়রা। এই সহজ পদ্ধতিটিকে আজকাল আর কেউ কাজে লাগান না। কিন্তু বিশ্বাস করুন, পেয়ারা পাতায় উপস্থিত অ্যানালজেসিকস নামে একটি উপাদান চোখের পলকে যন্ত্রণা তো কমায়ই, সেই সঙ্গে দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াদেরও মেরে ফেলে।

 

প্রশ্ন-উত্তরে অংশগ্রহণ করে অর্থ উপার্জন জন্য এখানে নিবন্ধন করুন, বিস্তারিত জন্য এখানে প্রবেশ করুন