মুমিনের চিরস্থায়ী পুরস্কার জান্নাত

একজন মুমিন বান্দা সব ক্ষেত্রে আল্লাহর আদেশগুলো যথাযথভাবে পালন করেন। দৈনিক পাঁচবার নামাজ আদায়সহ ফরজ ও প্রয়োজনীয় ইবাদত করেন। এই ইবাদতের কারণ কী? নিশ্চয় আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা। আর এর বিনিময়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরস্কার হিসেবে তাদের দেয়া হয় জান্নাত।

পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, ‘বিপরীত পক্ষে যারা নিজেদের রবকে ভয় করে জীবনযাপন করে, তাদের জন্য এমন সব বাগান রয়েছে, যার নিচ দিয়ে ঝর্ণাধারা বয়ে চলছে। সেখানে তারা চিরদিন থাকবে। এ হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের জন্য মেহমানদারির সরঞ্জাম। আর যা কিছু আল্লাহর কাছে আছে, নেক লোকদের জন্য তা-ই ভালো।’ (সূরা : আল ইমরান, আয়াত-১৯৮)

কিছু গুণ ও বৈশিষ্ট্য থাকলে মুমিনরা বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এ বিষয়ে হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত মহানবী হজরত মুহম্মদ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে ৭০ হাজার লোক হিসাব-নিকাশ ছাড়াই বেহেশতে প্রবেশ করবে। তারা হলো, যারা মন্ত্রতন্ত্র দ্বারা ঝাড়-ফুঁক করায় না, অশুভ লক্ষণাদিতে বিশ্বাস করে না এবং যারা শুধু তাদের প্রতিপালকের ওপর নির্ভর করে।’ (বুখারি ও মুসলিম)।
এই হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়, যারা সুখে-দুঃখে সর্বাবস্থায় একমাত্র আল্লাহর ওপর আস্থা রাখে, অবিচল বিশ্বাস স্থাপন করে, তারাই আল্লাহর প্রিয় বান্দা। মুমিন বান্দা। এর দ্বারা আরও প্রমাণিত হয়, আমাদের সমাজে প্রচলিত জাদুবিদ্যা, মন্ত্রতন্ত্র, ঝাড়ফুঁক ইসলাম সমর্থন করে না। কারণ এতে নাজায়েজ অনেক কাজও হয়। আল্লাহর ওপর কোনো আস্থা থাকে না, থাকে ঝাড়ফুঁকের কারিশমা। তবে চিকিৎসা করা সুন্নত। কারণ, নবী করিম (সা.) নিজেও অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা করেছিলেন।

পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ আরো ইরশাদ করেছে, ‘আর যারা ইমান আনবে ও সৎ কাজ করবে তাদের আমি এমন সব বাগানে প্রবেশ করাব, যার নিম্নদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হতে থাকবে এবং তারা সেখানে থাকবে চিরস্থায়ীভাবে।’ এটি আল্লাহর সাচ্চা ওয়াদা। আর আল্লাহর চাইতে বেশি সত্যবাদী আর কে হতে পারে? চূড়ান্ত পরিণতি না তোমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার ওপর নির্ভর করছে, না আহলে কিতাবদের আশা-আকাঙ্ক্ষার ওপর। অসৎ কাজ যে করবে, সে তার ফল ভোগ করবে এবং আল্লাহর মোকাবিলায় সে নিজের কোনো সমর্থক ও সাহায্যকারী পাবে না। আর যে ব্যক্তি কোনো সৎকাজ করবে, সে পুরুষ বা নারী যেই হোক না কেন, তবে যদি সে মুমিন হয়, তাহলে এই ধরনের লোকরাই জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের এক অণুপরিমাণ অধিকারও হরণ করা হবে না। (সূরা-নিসা, আয়াত : ১২২-১২৪)

 

প্রশ্ন-উত্তরে অংশগ্রহণ করে অর্থ উপার্জন জন্য এখানে নিবন্ধন করুন, বিস্তারিত জন্য এখানে প্রবেশ করুন