খান্দানী তেহারী রান্নার পারফেক্ট রেসিপি !!

তেহারী পছন্দ করেন না এমন মানুষ আমাদের এই ঢাকা শহরে (বাংলাদেশেও) পাওয়া দুরহ হবেই। পাশাপাশি প্রায় সকল রাস্তার ধারের টং হোটেলে (পাতিলটা লাল কাপড়ে মোড়ানো থাকে) এই খাবার মোটামুটি স্বাদের এবং কম মুল্যে পাওয়া যায় বলে ছাত্র/ছাত্রী, মধ্যবিত্ত, নিম্মবিত্তদের কাছে এই খাবার খুব জনপ্রিয়।

কিন্তু এই জনপ্রিয় খাবারটি যদি ঘরেই তৈরি করা যায় তবে নিশ্চয় যখন খুশি রান্না করে খাওয়া যাবে। তাই আজ আপনাদের দেখাবো খান্দানী তেহারী রান্নার পারফেক্ট রেসিপি। তাহলে জেনে নিন রেসিপিটি।

১। গোসত প্রিপারেশন

২। চাউল প্রিপারেশন

৩। আলু প্রসেস

৪। মুল রান্না
উপকরণ ও পরিমান

– গরু মাংস, ১ কেজি

– পলাউ চাল, ১ কেজি

– নূতন গোল আলু, হাফ কেজি

– পেঁয়াজ কুঁচি, হাফ কাপ

– আদা বাটা, দেড় টেবিল চামচ

– রসুন বাটা, দেড় টেবিল চামচ

– জিরা গুড়া, ১ চা চামচ

– কাঁচা মরিচ বাটা, দুই টেবিল চামচ (ঝাল বুঝে)

– গোল মরিচ বাটা, আধা চা চামচ

– জয়ত্রী বাটা, হাফ চা চামচ

– জয়ফল বাটা, এক চিমটি

– বাদাম বাটা, হাফ কাপ (কাজু বাদাম বাটা হলেও চলবে)

– গরম মশলা (এলাচি কয়েকটা, দারুচিনি কয়েক পিস)

– লবণ , পরিমান মত

– চিনি, হাফ চা চামচ

– কিসমিস, দুই টেবিল চামচ

– টক দই, দেড় কাপ

– কয়েকটা আস্ত কাঁচা মরিচ

– তেল, দেড় কাপ (আমি সামান্য কম তেলেই রান্না করেছি)

– পানি (গরম হলে ভাল, রান্না শুরুর আগে কিছু পানি গরম করে রেখে দিতে পারেন তবে না হলে নাই, ব্যাপার না!)
প্রস্তুত প্রনালী
১। গোসত প্রিপারেশন

গোসত ভাল করে ধুয়ে টক দই দিয়ে ভিজিয়ে রাখুন আধা ঘন্টা। (বাসায় টিক দই না থাকলে এক কাপ দুধে এক টেবিল চামচ ভিনেগার দিয়ে এই দই বানিয়ে নিতে পারেন)
২। চাউল প্রিপারেশন

চাল ভাল করে ধুয়ে পানিতে পনর/বিশ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন।
৩। আলু প্রসেস

নূতন গোল আলুর খোসা ছড়িয়ে নিন (চা চামচ দিয়েই খোসা ছাড়ানো উত্তম) এবং সামান্য লবন যোগে হাফ সিদ্ধ করে ফেলুন। পানি ফেলে আলু গুলো ভাঁজার জন্য রাখুন।

এবার একটা কড়াইতে কিছু তেল নিয়ে আলু গুলো ভেজে ফেলুন। আলুর খোসায় পোড়া পোড়া ভাব এলে নামিয়ে রাখুন।

৪। মুল রান্না

তেহারী রান্নার পাত্র নির্বাচন করুন। গোসত, চাল, আলুর পরিমান মিলে জায়গা হয় এমন পাত্র নির্বাচন করুন। পাত্র ছোট হলে রান্না নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এবার পাত্র তেল গরম করুন এবং এক চা চামচ লবন যোগে পেঁয়াজ কুঁচি এবং কয়েকটা মরিচ ও দারুচিনি, এলাচি ভাল করে ভেজে নিন।

পেঁয়াজ কুঁচি নরম হয়ে এলে এবার উপরে উল্লেখিত বাকী সব মশলা/ভেজষ দিয়ে কষাতে থাকুন। এই পর্যায়ে হাফ চামচ চিনি দিয়ে দিন।
কষিয়ে নিলে তেল উপরে উঠে যাবে এবং একটা মৌ মৌ করা ঘ্রানে রান্না ঘর ভরে উঠবে।

এবার গোসত দিয়ে দিতে হবে। ভাল করে নাড়িয়ে মিশিয়ে নিন। মিনিট দশ মাধ্যম আঁচে রেখে দুই কাপ পানি দিতে হবে (গরম পানি হলে ভাল না হলে নাই)।

এবার ঢাকনা দিয়ে কষাতে হবে। এই পত্রিয়া নির্ভর করবে গোসত নরম হবার পর্যন্ত। গোসত নরম না হলে আরো এক কাপ পানি দেয়া যেতে পারে। রান্নায় মুল সময়টা এখানেই লেগে যায়।

গোসত নরম হয়ে গেলে প্রসেস করে রাখা আলু গুলো দিয়ে দিন। যাদের দুই চুলা আছে তারা এই আলুর কাজটা পাশাপাশি করতে পারেন।

এবার কিসমিস গুলো দিয়ে দিন। ভাল করে নাড়িয়ে নিন।

এবার চাল দিয়ে দিন। এবং ভাল করে মিশিয়ে নিন।

চালের উপর হাফ ইঞ্চি (পলাউ রান্নায় যেভাবে পানি দেয়া হয়) পানি দিন। পাশাপাশি আরো কিছু পানি হাতের কাছে রাখুন, লাগলে দেয়া যেতে পারে। তবে এই পর্যায়ে পানি বেশী হলে সমস্যা আছে, পানি বেশীর জন্য তেহারী ঝরঝরে না থেকে নরম এবং গলা গলা হয়ে যেতে পারে। তাই পানি দিতে সাবধানে। রান্নাঘরে ছেড়ে যাবেন না।

এবার ফাইন্যাল লবন দেখুন, এই পানি একটু বেশী কটা (লবন) হলে বুঝতে হবে লবন হয়েছে। (এটা একটা অভিজ্ঞতা, অভিজ্ঞতাই আপনাকে বলে দেবে লবন কেমন লাগবে) যদি কম মনে হয় তবে লবন দিন। এবার ঢাকনা দিয়ে মিনিট ১৫/২০ অপেক্ষা করুন। মাঝে দুইতিন বার নাড়িয়ে দিতে ভুলবেন না। এই নাড়িয়ে দেয়ার সময় যদি পানি কম মনে হয় তবে কিংবা চাল শক্ত থাকার সম্ভবনা থাকে তবে আরো পানি দেয়া যেতে পারে এবং পানি দিয়ে ভাল করে নাড়িয়ে দিতে হবে।

মশাআল্লাহ, দেখুন কি ঝকঝকে এবং ফুরফুরা তেহারী হয়েছে। পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। পুরা হাড়ি সহ খাবার টেবিলে নিয়ে যেতে পারেন, যার যা লাগে নিয়ে খাবে।

এভাবে আপনার যা লাগে নিয়ে নিন। সাথে শুধু জলপাই আঁচার!

আমাদের এই রান্না করা তেহারী খেয়ে আমাদের ছোট মেহমান বলছিল, খান্দানী তেহারী হয়েছে! আমাদের নামটা পছন্দ হয়, এই তেহারীকে আমরা ‘খান্দানী তেহারী’ নামেই ডাকবো! আমাদের এই ছোট মেহমানের মুখে হাসি ফুটাতে পেরে সেদিন রাতে আমরা আনন্দিত হয়েছিলাম।

নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন