কেউ বিষ খেলে সাথে সাথে করণীয় !!

বিষে আক্রান্ত ব্যক্তির সাধারণ চিকিৎসা ও পরিচর্যা

যে সব বস্তু বা গ্যাস যথেষ্ট পরিমাণে শরীরে প্রবেশ করলে প্রাণের ক্ষতি বা বিনাশ করে তাদের বিষ বলা হয়৷ এগুলি তিন ভাবে শরীরে প্রবেশ করতে পারে:
১. ফুসফুসের মাধ্যমে৷
২. ত্বকের মাধ্যমে৷
৩. মুখ দিয়ে৷
বিষে আক্রান্ত ব্যক্তির কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাধা-নিষেধ

১. কখনো বাচ্চাদের হাতের নাগালে ট্যাবলেট বা ওষুধপত্র রাখা যাবে না৷ এসব একটি তালাবন্ধ দেরাজে রাখতে হবে, হাতের নাগাল থেকে যথেষ্ট দূরে (যেমন হতে পারে আলমারির মাথায়)

২. কখনো ট্যাবলেট বা ওষুধ অনেক দিন ধরে জমিয়ে রাখবেন না৷ ওগুলো খারাপ হয়ে যায়, এবং চিকিৎসার কোর্স শেষ হয়ে গেলে বাড়তি ওষুধ হয় ফেরত দিতে হবে দোকানে বা চিকিৎসকের কাছে অথবা পায়খানায় ফেলে দিয়ে জল ঢেলে দিতে হবে।

৩. কখনো অন্ধকারে ওষুধ খাবেন না— ওষুধ খাবার বা খাওয়ানোর আগে সবসময় লেবেল পড়ে দেখতে হবে৷

৪. কখনো লেমনেড বা অন্য পানীয় বোতলে ক্ষতিকারক তরল ঢেলে রাখবেন না৷ বাচ্চারা বোতলটি চিনতে পারবে ও তরলটি পান করে ফেলতে পারে।

৫. কখনো সিংকের নিচে ঘর পরিষ্কার করার ক্লিনার ও সাবান (ডিটারজেণ্ট) রাখবেন না যেখানে ছোট বাচ্চারা তা খুঁজে পেতে পারে৷ (এই প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো, ব্লিচ এবং ল্যাভেটরি ক্লিনার একসঙ্গে মেশালে ল্যাভেটরি আদৌ আরো বেশি পরিষ্কার হয় না, তবে একটা বিষাক্ত গ্যাস অবশ্যই উৎপন্ন হয় যা নিঃশ্বাসের সঙ্গে ভেতরে গেলে বিষক্রিয়া ঘটায় থাকে।

৬. কখনো আক্রান্ত ব্যক্তিকে বমি করানো যাবে না বা কখনো প্রচুর পরিমাণে নুনজল খাওয়ানো যাবে না।

৭. আক্রান্ত ব্যক্তি অজ্ঞান অবস্থায় থাকলে কখনো কিছু খাওয়ানোর চেষ্টা করা যাবে না।

৮. কখনো পেট্রোলিয়াম সম্বন্ধিত বস্তু গিলে ফেলেছে এমন কোনো আক্রান্ত ব্যক্তির বমি করার জন্য অপেক্ষা করবেন না: আক্রান্ত ব্যক্তিকে প্রথম থেকেই রিকোভারি পোজিশনে(রোগ নিবৃত্তি অবস্থা) রাখতে হবে, যাতে তার মাথাটি হার্টের থেকে নিচে থাকে।

৯. কখনো কোনো ট্যাবলেট, বিশেষ করে ঘুমের ট্যাবলেটের সঙ্গে মদ খাওয়াবেন না বা খাবেন না— মিশ্রণটি প্রাণঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে।
কিছু সাধারণ বিষ

রোজকার জীবনে দেখতে পাওয়া আরো কিছু সাধারণভাবে পরিচিত বিষ হচ্ছে-
১. নানা রকম বীজহীন রসাল ছোট ফল ও বীজ,
২. ছত্রাকঃ ব্যাঙের ছাতা,
৩. পচে যাওয়া খাবার,
৪. কড়া রাসায়নিকঃ প্যারাফিন, পেট্রল ব্লিচ, আগাছা নাশক, রাসায়নিক সার,
৫. ওষুধঃ অ্যাসপিরিন, ঘুমের বড়ি, ট্র্যাংকুইলাইজার, আয়রন (লোহা) বড়ি,
৬. পশুর টোপঃ ইঁদুর মারা বিষ,
৭. মদ
বিষে আক্রান্ত ব্যক্তির সাধারণ চিকিৎসা

আক্রান্ত ব্যক্তি সজ্ঞান বা অজ্ঞান অবস্থায় থাকতে পারেন, এবং প্রথমটি হলে, আপনার কাজে হয়তো কিছুটা সাহায্যও করতে পারেন৷
১. আক্রান্ত ব্যক্তির জ্ঞান থাকতে থাকতে কী খাওয়া হয়েছে, কতটা পরিমাণে ও কখন খাওয়া হয়েছে জানার চেষ্টা করতে হবে।
২. আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি যদি কোনো ট্যাবলেট, খালি শিশি বোতল বা কৌটো থাকে তাহলে হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য সেগুলি রেখে দিতে হবে৷ এর ফলে কী বিষ খাওয়া হয়েছে তা সনাক্ত করা সহজ হবে।
৩. আক্রান্ত ব্যক্তির মুখের ভেতরটা পরীক্ষা করে দেখতে হবে৷ যদি পুড়ে যাবার প্রমাণ থাকে তাহলে যতটা তিনি পান করতে পারেন ততটা দুধ বা জল পান করতে দিতে হবে।
৪. যদি আক্রান্ত ব্যক্তি বমি করে একটি পাত্র বা পলিথিন ব্যাগে বমিটা ধরে রেখে হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য দিতে হবে৷ এর ফলেও কী বিষ খাওয়া হয়েছে তা সনাক্ত করতে সাহায্য করবে৷
৫. আক্রান্ত ব্যক্তিকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
আপনার কাছে থাকাকালীন যদি আক্রান্ত ব্যক্তির জ্ঞান না থাকে বা জ্ঞান হারিয়ে যায় তাহলে-

১. প্রথমে দেখতে হবে শ্বাসপ্রশ্বাস নিচ্ছে কিনা৷ বন্ধ হয়ে গিয়ে থাকলে অবিলম্বে শ্বাস প্রয়োগ করুন তবে যদি আক্রান্ত ব্যক্তির মুখ ও ঠোঁট পুড়ে গিয়ে থাকে, তাহলে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হবে।
২. যদি আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাসপ্রশ্বাস তখনও চলতে থাকে , তাহলে তাঁকে পা দুটি উঁচু করে রিকভারি পজ়িশনে রাখতে হবে৷ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় বাচ্চাদের আপনার কোলের উপর আলতো করে ‘মাথা নিচু´ করে শুইয়ে রাখবেন৷
৩. আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাসপ্রশ্বাসের দিকে খেয়াল রাখতে হবে৷ অনেক বিষ আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাসপ্রশ্বাস চলাচল বন্ধ করে দিতে পারে।
৪. আক্রান্ত ব্যক্তিকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
৫. আক্রান্ত ব্যক্তিকে শীতল রাখতে হবে, কপালে একটি ঠাণ্ডা পটি দিলে ভাল হবে। এবং ঘাড়, মেরুদণ্ড ও শরীর ঠাণ্ডা জল দিয়ে মুছিয়ে দিলে শরীর শীতল থাকবে।
৬. আক্রান্ত ব্যক্তিকে যত বেশি পরিমাণে সম্ভব শীতল পানীয় গ্রহণ করতে উৎসাহিত করতে হবে।
৭. পেশির সংকোচন ও ফিট আরম্ভ হচ্ছে কি না সে দিকে নজর রাখতে হবে।
৮. বিষের পাত্রটি সবসময় রেখে দেবেন৷ তবে চিকিৎসকের বিষের পাত্রটি দেখাও প্রয়োজন।
আক্রান্ত ব্যক্তির ত্বকের মাধ্যমে বিষক্রিয়া

আজকাল প্রচুর কীটনাশকে, বিশেষ করে মালী ও কৃষকরা যেগুলি ব্যবহার করেন তাতে, শক্তিশালী রাসায়নিক থাকতে পারে (যেমন ম্যালাথিয়ন) যা, ত্বকের সংস্পর্শে এলে, শরীরে প্রবেশ করতে পারে, যার ফল মারাত্মক হবার সম্ভাবনা৷ ইঙ্গিত-
১. কীটনাশকের সংস্পর্শ বা দূষণের কথা জানা
২. কাঁপুনি, পেশির সংকোচন ও ফিট
৩. আক্রান্ত ব্যক্তি ধীরে ধীরে জ্ঞান হারিয়ে ফেলা
বিষে আক্রান্ত ব্যক্তির পরিচর্যা

১. দূষিত অঞ্চলটি ভালো ভাবে ঠাণ্ডা জল দিয়ে ধুয়ে দিতে হবে,
২. কোনো দূষিত কাপড়জামা থাকলে সাবধানে খুলে দিন, এবং আপনার শরীরে যাতে রাসায়নিকটি না লাগে সে বিষয়ে সাবধান থাকতে হবে,
৩. আক্রান্ত ব্যক্তিকে আশ্বস্ত করতে হবে, তাঁকে শুইয়ে দিন ও স্থির ও চুপচাপ থাকতে উৎসাহিত করতে থাকুন,
৪. যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করতে হবে,
৫. আক্রান্ত ব্যক্তিকে শীতল রাখুন; কপালে একটি ঠাণ্ডা পটি দিন এবং ঘাড়, মেরুদণ্ড ও শরীর ঠাণ্ডা জল দিয়ে মুছিয়ে দিন,
৬. আক্রান্ত ব্যক্তিকে যত বেশি পরিমাণে সম্ভব শীতল পানীয় গ্রহণ করতে সাহায্য করুন,
৭. পেশির সংকোচন ও ফিট আরম্ভ হচ্ছে কি না সে দিকে নজর দিন,
৮. আক্রান ব্যক্তি অজ্ঞান হয়ে গেলে, শ্বাসপ্রশ্বাসের দিকে লক্ষ্য রাখুন ও আক্রান্ত ব্যক্তিকে রিকোভারি পোজিশনে রাখুন।

নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন