মুখের কালো দাগ

মুখের কালো দাগ বিভিন্ন কারণেই হয়ে থাকে। সাধারণভাবে দাগ বলতে আমরা কেবল মেছতাকেই বুঝি। মেছতা ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের কালো দাগ মুখে হতে দেখা যায় বিভিন্ন রোগের কারণে। প্রথমেই মেছতার কথায় আসা যাক। মেছতা সাধারণত কালো বা বাদামি রঙয়ের দাগ, যা মুখোমণ্ডলের যেকোনো স্থানেই হতে পারে।

মেছতা সাধারণত মেয়েদেরই বেশি হয়ে থাকে। মেছতা হওয়ার প্রকৃত কারণ এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এর কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে হরমোনের তারতম্যজনিত কারণে কিছু রোগ, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবন, ইস্ট্রোজেন হরমোন গ্রহণ, গর্ভাবস্থা এবং সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ইত্যাদি কারণে মেছতা হতে পারে এবং যাদের সামান্য মেছতা আছে, তা বাড়িয়ে তুলতে পারে। মেছতার ক্ষেত্রে বংশগত প্রভাবও বৃদ্ধমান। যাদের পূর্বসূরিদের মধ্যে মেছতা থাকে তাদের উত্তরসূরিদের মধ্যে এর প্রভাব পড়ার ঝুঁকি থাকে খুবই বেশি। সূর্য রশ্মির প্রভাব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো মেছতার গাঢ়ত্ব সূর্য রশ্মির প্রভাবে বেড়ে যায়। তাই সূর্যরশ্মির আলো সবসময় এড়িয়ে চলতে হবে। আর যদি সূর্যের আলোতে যেতেই হয় তাহলে মুখ ঢেকে যেতে হবে।

সেটা হতে পারে একটি ছোট্ট ছাতা, কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে রাখা কিংবা সানস্ক্রিন লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করলেও সূর্যের অতিবেগুনি প্রভাব থেকে মুক্তি থাকা যায়। অনেকে আবার ভাবেন সূর্যরশ্মির মতো চুলার আগুনেও এর ক্ষতি হয়। ধারণাটি সম্পূর্ণই ভুল। চুলার আগুনের তাপে মেছতা কোনো ক্ষতি হয় না। মনে রাখতে হবে মুখের সব কালো দাগই মেছতা নয়। মেছতার ক্ষেত্রে কোনো রকম উপসর্গ থাকে না এবং চুলকাবেন না। শুধু দেখতে যা অসুন্দর লাগে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে তাদের জন্য ভীষণ রকম মানসিক সমস্যার সৃষ্টি করে। মুখের ত্বক খুবই নাজুক। তাই মেছতা চিকিৎসার ব্যাপারে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়েই চিকিৎসা করা উচিত।

কিছু কিছু হরমোন গ্রন্থীর রোগ যেমন Adison’s disease, Hyperthyroidism ইত্যাদি রোগের কারণেও দাগ সৃষ্টি হতে পারে। Freckle’s নামক একটি রোগ প্রায়ই দেখা যায়। সাধারণত এটি কম বয়সেই শুরু হয়ে শরীরের যেসব খোলা অংশে সূর্যের আলো পড়ে যেমন মুখ ও হাত ইত্যাদি স্থানে ১ থেকে ৬ মিলিমিটারের সাইজের অসংখ্য সংখ্যায় ছোট ছোট কালো দাগ বা বাদামি রঙয়ের দাগ হতে দেখা যায়। ফ্রিকেল নিয়ে রৌদ্রে চলাচল করলে এই দাগ আরো কালো হতে থাকে। তাই মুখে যাদের ফ্রিকেলযুক্ত দাগ আছে তারা রৌদ্রে গেলে অবশ্যই সানস্ক্রিন স্ক্রিম ব্যবহার করে নেবেন রৌদ্রে যাওয়ার আগে। Lentigo নামক আরো একটি রোগ আছে, যার কারণে মুখে কালছে ও বাদামি রঙয়ের দাগ হতে দেখা যায়।

এই দাগ ফ্রিকেলের মতো পরিমাণে অসংখ্য হয় না এবং এই দাগ রৌদ্রে গেলে বাড়েও না। যদিও ফ্রিকেল নিয়ে রৌদ্রে গেলে দাগের গাঢ়ত্ব বাড়তে থাকে। আয়তনের দিক দিয়েও দাগগুলো একটু বড় হতে পারে। অর্থাৎ কয়েক মিলিমিটার থেকে সেন্টিমিটার পর্যন্ত সাইজের হতে পারে। ফ্রিকেল যেমন শুধুই শরীরের অনাবৃত অংশেই হয়, লেন্টিগো; কিন্তু তেমন নয়। আবৃত অনাকৃত উভয় অংশেই হতে পারে।
Nevus I Melanoma নামে আরো দু’টি রোগ আছে, যার কারণে মুখে বা শরীরে কালো বা বাদামি রঙের দাগ হতে পারে। কয়েক ধরনের Nevus আছে, যার মধ্যে জাংসানাল ন্যাভাস দেখতে ফ্রিকেল আর লেন্টিগোরই অনুরূপ। সাধারণত ন্যাভাস ক্ষতিকারক হয় না। তবে Dysplastic ন্যাভাস হলে অবশ্যই চর্মরোগ-বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন।
Melanoma কখনো কখনো কালো দাগ নিয়ে মুখ উঠতে পারে, যা সব সময় নির্ণয় ও চিকিৎসা গ্রহণে ব্যর্থ হলে জীবনের ওপর ঝুঁকিও চলে আসতে পারে।

সেবোরিক কেরাটোসিস নামে আরো একটি চর্মরোগ আছে, যা মুখে হতে দেখা যায়। এ ক্ষেত্রেও মুখে কালো বা বাদামি রঙের দাগ হতে দেখা যায়। হঠাৎ করে দেখা দেয়া এবং ক্রমান্বয়ে বড় হওয়ার কারণে অনেকেই আবার এটাকে ত্বকের ক্যান্সার বলে ধারণা করে থাকেন। এ ছাড়া আরো কিছু কিছু রোগ আছে, যার কারণে মুখের ত্বকের গায়ে কালো রঙ দেখা দেয়।

নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন