যে দোয়া পাঠ করলে আল্লাহর রহমতে দুশ্চিন্তা ও ঋণ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে

যে দোআটি আমল করার দ্বারা সব ধরনের দুশ্চিন্তা ও ঋণ থেকে মুক্তি লাভ করা সম্ভব। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উপর্যুক্ত দোয়াটি শিখিয়ে দেন এবং তা সকাল সন্ধ্যায় পড়তে বলেন। আবু উমামা বলেন আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ দোয়াটি পড়তে লাগলাম ফলে আল্লাহ তায়ালা আমার চিন্তা দূর করে দিলেন এবং আমার ঋণগুলোও আদায় করে দিলেন। [আবু দাউদ-১৫৫৭ হায়াতুস সাহাবা-৭২৪]>ফজিলত: হজরত আবু সাঈদ খুদরি [রা.] বলেন; একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে নববিতে প্রবেশ করে আনসারি একজন লোককে দেখতে পেলেন, যার নাম আবু উমামা। রাসুল তাকে বললেন, আবু উমামা! ব্যাপার কী, নামাজের সময় ছাড়াও তোমাকে মসজিদে বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে? আবু উমামা বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ!

অনেক ঋণ এবং দুনিয়ার চিন্তা আমাকে গ্রাস করে রেখেছে। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, আমি কি তোমাকে এমন কিছু কালিমা শিখিয়ে দেব, যেগুলো বললে আল্লাহ তায়ালা তোমার চিন্তাকে দূর করে দেবেন এবং তোমার ঋণগুলো আদায় করে দেবেন। তিনি বলেন, জি হ্যাঁ ইয়া রাসুলাল্লাহ! অবশ্যই বলুন, তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উপর্যুক্ত দোয়াটি শিখিয়ে দেন এবং তা সকাল সন্ধ্যায় পড়তে বলেন। আবু উমামা বলেন আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ দোয়াটি পড়তে লাগলাম ফলে আল্লাহ তায়ালা আমার চিন্তা দূর করে দিলেন এবং আমার ঋণগুলোও আদায় করে দিলেন। [আবু দাউদ-১৫৫৭ হায়াতুস সাহাবা-৭২৪] আরবি দোয়া (একবার পাঠ করতে হবে)

اللَّهُمَّ إِنِّى أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ غَلَبَةِ الدَّيْنِ وَقَهْرِ الرِّجَالِ.
বাংলা উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হুজনি ওয়া আউজুবিকা মিনাল আজাঝি ওয়াল কাসালি ওয়া আউজুবিকা মিনাল জুবুনি ওয়াল বুখুলি ওয়া আউজুবিকা মিন গলাবাতিত দিনি ওয়া কাহরির রিজালি। অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি যাবতীয় চিন্তা ও পেরেশানি থেকে। তোমার আশ্রয় প্রার্থণা করছি সবধরণের অক্ষমতা ও অলসতা থেকে। আরো আশ্রয় প্রার্থনা করছি কাপুরুষতা ও কৃপনতা থেকে। আরো আশ্রয় প্রার্থনা করছি অত্যাধিক ঋণ ও মানুষের ক্রোধ থেকে।

আরো পড়ুন: জর্ডানে কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ত্বকি বিশ্বসেরা

জর্ডানে ২৭তম অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হেফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বকি। বিশ্বের ৩৮ দেশের প্রতিনিধির সঙ্গে লড়াই করে ছিনিয়ে আনলেন বিশ্বসেরার পুরস্কার। এ প্রতিযোগিতায় তিনি প্রথম হয়েছেন। গত ১৫ জুন ‘আল-হাশেমি’ শিরোনামে জর্ডানে ৩৮ দেশের ৩৯জন প্রতিযোগি জর্ডানের ২৭তম আন্তর্জাতিক হেফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। এ প্রতিযোগিতায় রাজধানীর মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট মাদরাসার ছাত্র হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বকি প্রথম স্থান অর্জন করেন। টানা ৫দিনের প্রতিযোগিতায় শীর্ষ ৫ দেশ হলো, বাংলাদেশ, কাতার, বাহরাইন, পাকিস্তান এবং সৌদি আরব।

আন্তর্জাতিক হেফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণের জন্য গত ১৩ জুন জর্ডানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন হাফেজ ক্বারী সাইফুর রহমান ত্বকী। জর্ডানের রাজধানী আম্মানে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় চলে ১৫ জুন থেকে২০ জুন পর্যন্ত। ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার শাহবাজপুরে জন্ম নেয় হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বকি। ঢাকার ধলপুর লিচুবাগান নাদিয়াতুল কুরআন হাফেজিয়া নূরানি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও রামপুরার বায়তুল আমন মসজিদের খতিব মাওলানা বদিউল আলম-এর ছেলে। ২০১৪ সালে হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বকি এনটিভি পিএইচপি কুরআনের আলো প্রতিযোগিতায় সারাদেশে প্রথম স্থান অর্জন করেন। ২০১৫ সালে সৌদি আরবের জেদ্দায় আন্তর্জাতিক হেফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান লাভ করেন।

২০১৭ সালে বাহরাইনে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ৫৪টি দেশের প্রতিযোগির সঙ্গে অংশগ্রহণ করে তৃতীয় স্থান লাভ করেন। ২০১৭ সালে বিশ্বের ৭২ দেশের ১২৯ জন প্রতিযোগির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বকি ‘কুয়েত অ্যাওয়ার্ড’ খ্যাত ৮ম আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। কুরআনের পাখি হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বরি প্রতি রইলো আন্তরিক শুভ কামনা। আল্লাহ তাআলা তাকে কুরআনের খাদেম হিসেবে কবুল করুন। আমিন।