হাঁটুর উপর কাপড় উঠে গেলে ওযু ভাঙ্গবে কি?

হাঁটুর উপর কাপড় উঠে গেলেই অযু ভাঙ্গবে, এমন একটা ধারণা অধিকাংশ মানুষের মধ্যেই দেখা যায়। আসলে এ বিষয়ে ইসলাম কি বলছে, সেটাই এখন জানার বিষয়।
চলুন ওযু ভাঙ্গার কারণগুলো জেনে নিই :

১. প্রস্রাব-পায়খানার রাস্তা দিয়ে কোনো কিছু বের হলে অজু ভেঙ্গে যাবে; সেটা প্রস্রাব-পায়খানা, রক্ত, বায়ু, ক্রিমি যাই হোক না কেন।

২. শরীরের কোনো জায়গা থেকে রক্ত,পুঁজ বা পানি ইত্যাদি বের হয়ে গড়িয়ে গেলে।

৩. মুখভরে বমি করল অজু ভেঙ্গে যাবে। মুখভরে বমি করার অর্থ হল এত পরিমান বমি আসা যে মুখে সেটা আটকিয়ে রাখা কষ্টকর হয়।আর কিছুক্ষণের মধ্যে একি ভাবের কারণে অল্প অল্প করে কয়েকবার বমি করে আর সেটার সমষ্টিগত পরিমান যদি মুখভরে বমির সমপরিমান হয় তাহলেও অজু ভেঙ্গে যাবে। আর এমনিতে সামান্য পরিমান বমি যা মুখভরে বমির সমপরিমান হয় না তাতে অজু ভাংবে না।

৪. নামাজের মধ্য এরকম শব্দ করে হাসা যে পাশে কেউ থাকলে সে শুনতে পাবে এরকম শব্দ করে হাসলেও অজু ভেঙ্গে যাবে। আর যদি এরকম শব্দ করে হাসে যে শুধু নিজে শুনতে পায় পাশে কেউ থাকলে সে শুনতে পাবে না তাহলে অজু ভাঙ্গবে না বাকি নামাজ ভেঙ্গে যাবে। আর যদি এরকমভাবে হাসে যে হাসির শব্দ অন্য লোক শুনতে পাবেই না এমনকি নিজেও শুনতে পায় না তাহলে এতে অজু বা নামাজ কোনোটাই ভাঙ্গবে না।

৫. থথুতে রক্তের পরিমান যদি থুথুর সমপরিমান বা থুথু থেকে বেশি হয় তাহলে অজু ভেংগে যাবে।
পাচ. বেহুশ, পাগল বা অচেতন হলে।

৬. চিত বা কাত বা উপুড় [উপুড় হয়ে ঘুমানো নিষেধ] ঘুমালে অজু ভেঙ্গে যাবে। এভাবে নিতম্বের একপার্শ্বে ভর করে ঘুমালেও অজু ভেঙ্গে যাবে। কেউ যদি কোন কিছুতে ঠেস দিয়ে এমনভাবে ঘুমায় যে ঠেস দেয়া বস্তুটি সরিয়ে নিলে সে পড়ে যাবে। এক্ষেত্রে মলদ্বার যদি আসন থেকে উঠা থাকে তাহলে সর্বসম্মত মতে অজু ভেংগে যাবে। আর যদি মলদ্বার আসনের সাথে ভালভাবে চাপা অবস্থায় থাকে যে বায়ু নির্গত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না তাহলে অধিকাংশ ফকীহদের মতে অজু ভাঙ্গবে না।