চাকরির বিজ্ঞপ্তি আর প্রতারণা একই সূতায় গাঁথা

রাজধানীতে চাকরি দেবার নামে চলছে প্রতারণা। সরকারি বা বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেয়ার নামে করে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র চাকরি প্রার্থীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা । লোভনীয় বেতন এবং বিশেষ সুবিধা সম্মলিত বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায়, রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায়, বাসে পোস্টার লাগিয়ে আকর্ষণ করা হচ্ছে বেকারদের।

একটু খেয়াল করলে দেখা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে, রাস্তার পাশে ভবনের দেয়ালে চাকরির বিজ্ঞপ্তি। জানা নাই শোনা নাই অথচ সরকার অনুমোদিত প্রতিষ্ঠিত গ্রুপ অব কোম্পানি, ফ্যাশন হাউজ, গার্মেন্টস, বায়িং হাউজ সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে এসব বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। মাত্রাতিরিক্ত বেতন ভাতা সহ লোভনীয় নানা সুযোগ-সুবিধার কথা এবং কোন অভিজ্ঞতা ও জামানত লাগবে না ইত্যাদি উল্লেখ থাকে। এইগুলো কি সত্যিই চাকরি??? চাকরি কি গাছে ধরে???

দেশে বেকারত্বের তুলনায় চাকরির সুযোগ না থাকায় বেকার তরুণ-তরুণীরা কোন চাকরির বিজ্ঞাপন দেখলেই হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। আর এই সুযোগটাই কাজে লাগাচ্ছে প্রতারক চক্র। চাকরি দেবার নামে বেকার ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে তারা হাতিয়ে নিচ্ছে নগদ টাকা এবং হয়রানি তো আছেই।

প্রতারক চক্রের প্রধান টার্গেট বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পড়ুয়া ছাত্রছাত্রী। পার্টটাইম চাকরির কথা বলে তাদের ফাঁদে ফেলা হচ্ছে। এছারা গ্রামের সহজ সরল বেকার যুবকদের ভাল সুযোগ সুবিধা সম্মলিত চাকরি দেবার নাম করে ভুলিয়ে ভালিয়ে ঢাকায় এনে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করা হচ্ছে। যার কারনে নিঃস্ব হচ্ছে অনেক পরিবার।

চাকরির পিছনে ছুটতে ছুটতে কাংখিত চাকরি না পেয়ে এইসব বেকার যুবক যুবতীরা হতাশায় ভুগছে কেউ আবার বিভিন্ন অসামাজিক কাজে লিপ্ত হচ্ছে।

দেখা যায়; রফিক মাস্টার্স কমপ্লিট করার পর বিগত ৩ বছর যাবত চাকরির জন্য ঘুরে ঘুরে একটাও চাকরি ব্যবস্থা করতে পারেনি এবং এর মধ্যে সে প্রতারিত হয়েছে ৫ বার, ধরা খেয়েছে প্রায় ২.৫ লাখ টাকা। এই টাকা গুলো চাকরি পাবার আশায় প্রতারকদের ঘুষ না দিলে সে হয়তো ছোট খাটো একটা ব্যবসা করতে পারতো। কিন্তু যা ছিল সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে শেষ পর্যন্ত সে সন্ত্রাসী পেশা বেছে নেয়। সে এখন রাস্তায় ঠেকবাজি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই এইগুলা করে বেড়াচ্ছে। এইভাবে রফিক এর মত সবাই একই পথ বেছে নিলে দেশের কি অবস্থা হবে একটু ভেবে দেখুনতো!!! আমাদের জানমালের নিরাপত্তা থাকবে তো!!!

আরও একটি উদাহরণ দেই; সোনিয়া(ছদ্ম নাম) বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্রী। তার বাবা মারা যাওয়া তার পড়াশোনার খরচ চালানো খুব কঠিন হয়ে পড়েছে তাই সে কয়েকদিন যাবত একটি ভাল চাকরি খুজছিল। একদিন সে রাস্তার পাশে ভবনের দেয়ালে একটি বিজ্ঞাপন দেখলেন যেখানে লেখা ছিল মহিলা টিচার নিচ্ছি/দিচ্ছি। পরেরদিন সে চাকরি পাবার আশায় ওই ঠিকানায় যোগাযোগ করেন এবং কয়েকজন পুরুষের বিকৃত লালসার শিকার হোন, প্রতারকরা তার কিছু অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি তুলে রেখে ব্লাকমেইল করে দিনের পর দিন চালায় যৌন নির্যাতন এবং একসময় তাকে জোর করে যৌন ব্যবসায় নামিয়ে দেয়া হয়। এই সোনিয়ার ভবিষ্যৎ এখন কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে বলতে পারেন??? আপনার কি মনে হয় সে আবার তার স্বাভাবিক জিবনে ফিরে আসতে পারবে???

সকলকে তাই এইসব ভুয়া চাকরির ফাঁদে পা দেয়া থেকে সাবধান হবার অনুরোধ জানাই। দয়া করে আপনারা কোন চাকরির বিজ্ঞাপন দেখেই প্রভাবিত না হয়ে আগে একটু সেই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিভিন্ন তত্থ্য জেনে নিন। প্রতিষ্ঠানের স্থায়িত্ব, পূর্বের রেকর্ড বা সুনাম ইত্যাদি জানার চেষ্টা করুন। একটু সচেতন হোন। আপনাদের সচেতনতাই পারে এইসব প্রতারকদের লক্ষ্যভ্রষ্ট করতে এবং প্রতারণার হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে।

আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আমাদের জোর দাবি আপনারা দয়া করে জননিরাপত্তার স্বার্থে আপনাদের দায়িত্ব পালনে আরও বেশি তৎপর হউন যেন চাকরি দেবার নাম করে এই ধরনের প্রতারণার জাল আর ছড়িয়ে পরতে না পারে। এইসব প্রতারকদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন। দেশ ও জাতির কল্যাণে এদের মূল সহ উপড়ে ফেলুন।

লেখকঃ মোহাম্মদ সজিব খান(তরুণ সাংবাদিক ও কলামিস্ট

নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন